গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাঘাটা থানা শাখা।
রোববার বিকেলে বোনারপাড়া উপজেলা চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বোনারপাড়া চৌমাথায় গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ছাত্রশিবির, জামায়াতে ইসলামী এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সাঘাটা থানা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা বলেন, “সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ডে যাদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধান অভিযুক্ত মুকুল, পলাশসহ এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাঘাটা থানা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবদুল গফুর এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুব বিভাগের সভাপতি এনামুল হক সরকার। বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না দেওয়া হয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বেলা পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত হত্যা করেন।
ঘটনার পর জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।