সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই বদলে যায় পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় কবরস্থানের চিত্র। অন্ধকার নামতেই শুরু হয় মাদকসেবীদের আগমন। রাত বাড়তেই মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয় কবরস্থান।
সন্ধ্যার পর কবরস্থান এলাকায় নেমে আসে আতঙ্ক। নিরাপত্তার কথা ভেবে রাতের বেলায় কবরস্থান এলাকায় মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃতদেহ দাফনের দু-এক দিন পরই কবরের উপরে দেওয়া প্লাস্টিক, বাঁশ ও সিমেন্টের খুঁটি খুলে বিক্রি করে দেন মাদকসেবীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, দিনের বেলায় কবরস্থানে মাদক সেবন করলেও প্রশাসন নীরব। কবরস্থানের আশপাশে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই। এ বিষয়ে পঞ্চগড় পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলেও কোো লাভ হয়নি।
পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আদম সুফি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি আমার সহধর্মিণীকে দাফন করি এই কবরস্থানে। দুই দিন পর জিয়ারত করতে গিয়ে দেখি কবরের উপরের প্লাস্টিক নেই। কেন্দ্রীয় কবরস্থানে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মরদেহের সম্মান কোথায়?’
খায়রুল আলম নামের অপর ব্যক্তি বলেন, ‘আমার আত্মীয়ের কবরের প্লাস্টিকের নেট ও খুঁটি নিয়ে গেছে মাদকসেবীরা।’
সন্ধ্যার পর কবর জিয়ারতে ভয় পাচ্ছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, একটি কেন্দ্রীয় কবরস্থানে এমন নৈরাজ্য অগ্রহণযোগ্য। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। কবরস্থানের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর মেরামত, প্রহরী নিয়োগ, লাইটিং ও সিসিটিভি স্থাপনের দাবি তাদের।