দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পাশাপাশি দুটি গ্রামের জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে নতুন রাস্তা নির্মাণের মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন পশ্চিম বড়গ্রাম এলাকার দুই যুবক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ ফারুক। নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি দূর করতে পূর্ব বড়গ্রামবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে বোরো ধান ওঠানোর পরপরই এ সরু রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হয়।
আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের পূর্ব বড়গ্রাম বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড়গ্রামের মধ্যবর্তী এ রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় দুই গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
সরজমিন জানা ও দেখা গেছে, পূর্ব বড়গ্রামের বোর্ডপাড়ার বাসিন্দাদের কবরস্থানসহ ঈদগাহ মাঠ পশ্চিম বড়গ্রামের বড় পুকুরপাড়ে। কোনো রাস্তা বা আইল না থাকায় তারা ঈদের নামাজ আদায় করতে ও কেউ মারা গেলে লাশ কবরস্থানে নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে খুব কষ্টে চলাফেরা করতেন। ৫০০ মিটার রাস্তার জন্য তাদের চার কিলোমিটার ঘুরে চলতে হতো।
স্থানীয় ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান, সাগর ইসলাম, শাহিদ ইসলাম ও মনসুর আলী জানান, পূর্ব গ্রামের বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড়গ্রাম অত্যন্ত জনবহুল গ্রাম। পাশাপাশি অবস্থিত হলেও মাঝখানে কোনো সংযোগ সড়ক ছিল না। দুই গ্রামের মধ্যে সরাসরি মাত্র আধা কিলোমিটারের একটি রাস্তা না থাকায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দুই তীরের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। ঈদের নামাজ আদায় করতে ও কেউ মারা গেলে লাশ কবরস্থানে নেওয়াসহ দৈনন্দিন জরুরি প্রয়োজনে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াতের জন্য এলাকার মানুষদের দীর্ঘ চার কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হতো। সরাসরি যোগাযোগের অভাবে বর্ষাকালে এ সমস্যা আরো কয়েকগুণ বেড়ে প্রকট আকার ধারণ করত।
দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত এ জনদুর্ভোগ ঘোচাতে স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ফারুকের উদ্যোগে জমি সংগ্রহ থেকে শুরু করে শারীরিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে এগিয়ে আসেন পূর্ব বড়গ্রামের বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড়গ্রামের আপামর জনসাধারণ। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এবং দুই তরুণের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এক্সকাভেটর (ভেকু) এবং শ্রমিক লাগিয়ে মাটি কেটে মোটামুটি একটি সরু রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পূর্ব বড়গ্রামের বোর্ডপাড়া ও পশ্চিম বড়গ্রামের নাসির উদ্দিন, আজাদ রহমান, আজগার আলীসহ একাধিক বাসিন্দা বলেন, আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে দেখে আসছি এ দুটি গ্রামের মানুষ সামান্য কাজের জন্য চার কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে চলাচল করতেন। রাস্তাটি চালু হলে খুব উপকার হবে দুই গ্রামের মানুষের। রাস্তার পাশের জমি থেকে উত্তোলিত ধান সহজে পরিবহন করা যাবে। বর্তমানে কাঁচা রাস্তা হিসেবে এটি নির্মাণ করা হলেও ভবিষ্যতে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটিকে প্রশাসনের মাধ্যমে পাঁকা বা হেরিংবোন বন্ডকরণের মাধ্যমে একটি স্থায়ী টেকসই সড়কে রূপান্তর করা হয়।
ফারুক ও নয়ন নামে ভূমি মালিকরা বলেন, নবনির্মিত রাস্তার জমিগুলো আমাদের বংশের। আমাদের কোনো আপত্তি নাই। তবে নাসির উদ্দিন নামে এক ভূমি মালিক বলেন, তিনি চলাচলের জন্য তিন ফুট পর্যন্ত জমি ছাড়বেন। অপর পাশের জমির মালিক তিন ফুট ছাড়বেন। তিন ফুটের বেশি হওয়ায় তিনি অতিরিক্ত অংশ কেটে দিয়েছেন।
আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, রাস্তাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দুই গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।