নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় প্রভাত চন্দ্র রায় (৫৫) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের দোলা পাড়া সিংগিমারী শ্মশানঘাটের উঠান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত প্রভাত চন্দ্র রায় উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের দোলা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নীলকণ্ঠ রায় ওরফে পাশকাটার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তার দুই স্ত্রী ও চার সন্তান রয়েছে।
নিহতের বড় ছেলে পতিরাম জানান, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তার বাবা বাড়ি থেকে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হাসুয়া নিয়ে কলাপাতা কাটতে বের হন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়রা মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় তাকে গলাকাটা অবস্থায় রক্তাক্ত হয়ে উপুড় পড়ে থাকতে দেখেন এবং বিষয়টি পরিবার ও পুলিশকে জানান।
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা সহজ-সরল মানুষ ছিলেন এবং কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগতেন। তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না।”
জলঢাকা থানার ওসি নাজমুল আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে নিহতের গলার বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যার নম্বর ২২/২৬।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।