হোম > সারা দেশ > রংপুর

পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী ৩৪ নদনদীর মুমূর্ষু দশা

ভারতের একতরফা বাঁধ নির্মাণ

হোসেন রায়হান, পঞ্চগড়

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের একতরফা বাঁধ নির্মাণের কারণে পঞ্চগড়ের ছোটবড় ৩৪টি সীমান্ত নদনদী তার গতি প্রকৃতি হারিয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে। যার প্রভাব এসে পড়েছে জীব বৈচিত্রে। নেমে গেছে পানির স্তর। কৃষি ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়।

পঞ্চগড় জেলা সদরের চাকলাহাট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ‘যমুনা’ নদী। তবে এই যমুনা সেই যমুনা নদী নয়। ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখা মূল যমুনা নদী গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা থেকে শুরু হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নদীতে মিলিত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ২০৫ কিলোমিটার। আর পঞ্চগড়ের যমুনা নদী দৈর্ঘ্য মাত্র আট কিলোমিটার। এটি চাকলাহাট ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল হতে শুরু করে একই ইউনিয়নের কহরুহাট এলাকার পাশ দিয়ে নদীটি মিশেছে কুরুম নদীতে। পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেবে এই নদীর প্রস্থ ৪৮ মিটার।

স্থানীয়দের দাবি, ছোট্ট এই যমুনা নদীর বয়স কয়েকশ’ বছর হতে পারে। বর্ষা তো বটেই; আগে উজান থেকে পানি প্রবাহ অনেক বেশি থাকায় নদীতে সারাবছরই বেশ পানি থাকত। আর বর্ষায় দু’কূল ছাপিয়ে এই নদীর পানি প্রবেশ করত লোকালয়ে। আর এই নদীর পানি ব্যবহার করে দু’পাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতো। শুস্ক মৌসূমে কৃষকরা এই নদীর পানি দিয়ে রবি মৌসূমের বিভিন্ন ফসল আবাদ করতো। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় দিন দিন নদীটি এখন মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। এখন শুধু বর্ষা মৌসূমে মনে হয় এটি

একটি নদী। আর বাকি সময়টাতে দুর থেকে এই নদীকে দেখলে মনে হবে সরু খাল। নদীর দু’পাশ ভেঙ্গে প্রস্থ কমে যাওয়াসহ শুস্ক মৌসূমে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় ধু-ধু বালু ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। শুস্ক মৌসূমে নদী পাড়ের কৃষকরা নদীর মাঝখানে ক্যানেলের মত পানি যাওয়ার মত জায়গা রেখে বাকি জমিতে চাষ করেন বোরো ধান। নদীতে বোরো ধান আবাদ করতে বাড়তি কোন সেচ দিতে হয়না। গ্রামের গরিব কৃষকরাই মূলত নদীতে বোরো ধান আবাদ করে থাকেন। এখানকার আবাদ ঘরে তোলাই যেন ভাগ্যের ব্যাপার। অনেক সময় আবাদ বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধান তলিয়ে যায়। সেখান থেকে আর কোন ফসল আশা করা যায় না। আবার বৃষ্টি কিছুটা দেরিতে হলে পুরো পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন কৃষকরা।

চাকলাহাট ইউনিয়নের নারায়নপুর দেউনিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মো. ইয়াকুব আলী জানান, নদী পাড়েই আমার বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই এই নদীতেই হেসে-খেলে বড় হয়েছি। বর্ষা ছাড়া এই নদীতে পানি কমই থাকে। মাঝে মধ্যে গর্তের মত থাকলে সেখানে বেশি পরিমান পানি থাকে। সেখানে পুকুরের মত সৃষ্টি হয়ে দেশিয় মাছ থাকে। আগে আমি নিজেই এই সময়টাতে বোরো ধান আবাদ করতাম। এখন আমার বড় ভাই ও ভাইস্তারানদীতে বোরো ধান আবাদ করে। এই নদীটি খনন করা হলে যেমন আগের মত নদীর প্রস্থ বেড়ে যাবে; তেমনি এখানকরা জমানো পানি দিয়ে রবি মৌসূমের আবাদ করা সহজ হবে।

বাপাউবো পঞ্চগড়-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন জানান, যমুনা পঞ্চগড়ের একটি ছোট নদী। জেলা সদরের চাকলাহাট ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল থেকে সৃষ্টি হয়ে নদীটি পাশের কুরুম নদীতে মিশেছে। স্থানীয়ভাবে সৃষ্টি হওয়ায় এই নদীটি বর্ষাকাল ছাড়া বছরের বাকি সময় প্রায় পানি শুন্যই থাকে। নদীটি খনন করা গেলে এখানে জলাধারের সৃষ্টি হবে। সেই পানি দিয়ে শুস্ক মৌসূমে কৃষকরা বিভিন্ন ফসল আবাদ করতে পারবে।

যুবদল নেতা সাইফুল আবারো বহিষ্কার

বহিষ্কারের ৬ মাস পর পদে ফিরে আবারও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার যুবদল নেতা

সৈয়দপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রশিবিরের দোয়া আয়োজন

চিরিরবন্দরে লিচু বাগানে মধু বিপ্লব

করলা চুরির অভিযোগে স্ত্রীকে গাছে বেঁধে মারধর

আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্থ লোপাট, তদন্ত কমিটি​​ গঠন

নীলফামারীতে ট্রাকের ধাক্কায় দুই ভাইয়ের মৃত্যু

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে না

পান্তা-ইলিশ নয়, রুই-পান্তা দিয়ে নববর্ষ উদযাপন উপজেলা প্রশাসনের

কুড়িগ্রাম সীমান্তে আটক দুই বাংলাদেশিকে ফেরত দিল বিএসএফ