নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একাধিক পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় আহতদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে কুকুরগুলো একের পর এক মানুষকে কামড়ে জখম করে। হঠাৎ এ আক্রমণে বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সদর ইউনিয়নের গদা গ্রামের মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল ইসলাম (৫০), রুপালি কেশবা গ্রামের মিলন হোসেনের ছেলে নাবিল (১০), মধ্য রাজিব চেংমারী গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে শাহজালাল ইসলাম (৪০), মাগুরা ইউনিয়নের সিংঙ্গেরগাড়ি গ্রামের তরণি কান্ত রায়ের ছেলে দীপক চন্দ্র রায় (১৯)সহ আরও অনেকে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর বাজারে লোকজনের ভিড় বাড়লে কয়েকটি কুকুর হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে একজনকে আক্রমণ করে। পরে লোকজন এগিয়ে এলে কুকুরগুলো পালিয়ে গিয়ে বাজারের বিভিন্ন স্থানে আরও মানুষকে কামড়ায়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি কুকুরকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
রুপালি কেশবা গ্রামের মিলন হোসেন বলেন, “আমার ছেলে বিকেলে ইফতার আনতে বাজারে গেলে কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হয়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী শাহজালাল ইসলাম অভিযোগ করেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে ফার্মেসি থেকে ৫০০ টাকা করে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুদ নেই। এ কারণে আহতদের জেলা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার ১৪ জন আহত ব্যক্তি এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে, কুকুরের হঠাৎ আক্রমণ ও ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।