হোম > সারা দেশ > রংপুর

তিস্তাপারের মানুষের আহাজারি—কাম দেন বাহে রিলিফ চাই না

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

ছবি: আমার দেশ

তিস্তা-ধরলা নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী প্রায় সবাই বেঁচে আছে সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন এনজিওর দেওয়া ত্রাণ আর রিলিফের ওপর ভর করে। চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অতি সামান্য হওয়ায় অনেক সময় কাটাতে হয় খেয়ে-না খেয়ে। তিস্তাপারের মর্জিনা বেওয়া পাঁচবার রিলিফ পেয়েছিলেন। তার একমাত্র ভরসা রিলিফ।

এর পেছনে দিনরাত ছোটাছুটি মর্জিনার। রংপুর বিভাগের অভাবী জনপদ লালমনিরহাটের তিস্তা-ধরলা নদীর চরাঞ্চল। অত্যন্ত দুঃখ-কষ্টে কাটে এখানকার মানুষের দিন। বিশেষ করে বন্যা ও নদীভাঙনসহ নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংকট বেড়ে আরো দিগুণ হয় এখানে। সরকারি কিংবা বেসরকারি এই সামান্য ত্রাণ দিয়ে তাদের সংসার চলে না। তিস্তাপারের ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদের সবার এক কথা, ‘কাম-কাজ দেন বাহে, রিলিফ চাই না!’

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি থেমে থেমে বাড়ছে; কখনো বিপৎসীমার ওপরে, আবার কখনো নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ন্ত্রিত গজলডোবা ব্যারাজ থেকে তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ভারতে যখন প্রবল বন্যা দেখা দেয়, তখন তাদের দেশের পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গজলডোবা ব্যারাজ খুলে দেওয়া হয়। মুহূর্তেই সেই পানি প্রবল গতিতে বাংলাদেশে ঢুকে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে ডুবে যায়। এ সময় তাদের খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয় ।

এদিকে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় মঙ্গলবার বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে বুধবার পানির গতি সামান্য কমেছে, সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েক দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ কখনো কমছে, আবার কখনো বাড়ছে, উজানের এই ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমায় ওঠানামা করছে।

ইতিমধ্যে তিস্তার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে। এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

নদীপাড়ের সানিয়াজান গ্রামের কুদ্দুস আলী বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছে। সব মিলে আমাদের নিদ্রাহীন রাত কাটে বন্যার সময়। বন্যা যত দিন, আমাদের কষ্ট তার চেয়েও বেশি সময় চলে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পানি কমছে-বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বুধবার কিছুটা কমে গিয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । পানি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেল এখানকার মানুষের চরম দুঃখ-দুর্দশার কথা, অকল্পনীয় অবর্ণনীয় কষ্টে চরাঞ্চলের মানুষগুলো বসবাস করে এলেও কেউ ছেড়ে যেতে রাজি নন তাদের পূর্বপুরুষের ভেটে-মাটি। চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতি সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে তেমন একটা কৌতূহল না থাকলেও ভোটের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা।

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ভারতের উজান থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে থেমে থেমে বন্যায় শঙ্কিত তারা। বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি এবং শুকনো মৌসুমে বালুর আস্তরণে ঢাকা থাকায় চরাঞ্চলের ফসলের আবাদ ভালো হয় না। এখানকার যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ, কাঁচা রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য।

এখানকার চলাচলের প্রধান বাহন নৌকা ও ভেলা। একজন মুমূর্ষ রোগীকে নৌকা কিংবা ভেলায় করে বহন করে নিতে হয়। তিস্তা ও ধরলা নদীর বিশাল চর পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক অসুস্থ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন তৎপরতা তেমন চোখে পড়ে না। বাল্যবিবাহ, অপচিকিৎসা, অশিক্ষা, অজ্ঞতায় ভর করে থাকে চরাঞ্চলের ৯৭ ভাগ মানুষ।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গুড্ডিমারী ইউনিয়নের তিস্তাতীরবর্তী আছিয়া বেগমের বয়স ৫৫। অভাব আর চিন্তার ভারে বয়সের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক মনে হয় তাকে! একসময় আছিয়ার ছিল সুখের সংসার। মা-বাবা অনেক আশা করে বড় ঘরে বিয়ে দিয়েছিলেন তাকে! আবাদি জমি, বসতভিটা, গোয়ালভরা গরু— কোনো কিছুতেই কমতি ছিল না আছিয়া বেগমের সংসারে!

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, তিস্তার ভাঙন কেড়ে নিয়েছে আছিয়া বেগমের সবকিছু! নদীর কোল ঘেঁষে মাথা গোঁজার সামান্য একটু আশ্রয় থাকলেও সম্প্রতি বন্যা আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে আছিয়া বেগমের মতো অসংখ্য মানুষের। বর্তমানে চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমাচ্ছেন বড় বড় জেলা শহরে।

আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন যুগ যুগ ধরে। তিস্তাপারের মানুষের দুঃখের সীমা নেই। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি প্রবাহ থাকে না। আর বর্ষা মৌসুমে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেট দফায় দফায় খুলে দিয়ে পানিতে ভাসিয়ে দেয়। এ অবস্থার আশু অবসান হওয়া জরুরি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পানি সমস্যা সমাধানসহ, তিস্তাতীরবর্তী এলাকার লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এমএইচ

রংপুরে মেডিকেল শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ

রংপুর জেলা জাতীয় যুবশক্তির নতুন আহ্বায়ক কমিটি

শহীদ সাইফুল্লাহ বারীর কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত নেতারা

কুড়িগ্রামে আ.লীগের বিচারের দাবিতে এনসিপির বিক্ষোভ

রাণীশংকৈলে আমার দেশ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি ও ব্যুরো চিফকে সংবর্ধনা

তারাগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, যুবক গ্রেপ্তার

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার

জমির বায়নাপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে

আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে যুবদলের হামলায় আহত শিবির নেতা

দিনাজপুরে অবস্থান কর্মসূচি ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা