নির্বাচনি জনসভা মঞ্চ প্রস্তুত
রংপুরে প্রস্তুত হয়েছে মঞ্চ। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য দেবেন মাগরিবের নামাজের পর। রংপুরের এই মাটিতে তারেক রহমান আসছেন দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর। তাকে বরণে প্রস্তুত রংপুর অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু জানান, আমাদের দলের চেয়ারপারসন আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বগুড়া থেকে রওনা দিয়ে প্রথমে জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রংপুর নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বিকেল সাড়ে ৪টার পরে পৌঁছাবেন। এরপর তিনি মাগরিবের নামাজের পরে বক্তব্য দেবেন।
কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে শুরু হওয়া মঞ্চ ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চসজ্জা কমিটির সদস্যরা মঞ্চ প্রস্তুত করার পর সেখানে আজ সকালে বিএনপির জেলা কমিটির সদস্যসহ সভা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মঞ্চ পরিদর্শন করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। মঞ্চ তৈরি কমিটির সদস্যরা জানান, দম ফেলার সুযোগ নেই তাদের। নির্বাচনি জনসভার মাঠ ঘিরে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মাইক লাগানো হয়েছে।
এদিকে মাঠের ও নির্বাচনি জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের জানান, দলের চেয়ারম্যান আগমনে রংপুর বিভাগের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে যায় ভোটার এবং সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা-উৎসাহ আমরা দেখতে পাচ্ছি।
তিনি বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পরে তারেক রহমান রংপুরে আসছেন। আমরা আশা করি ঈদগা এই মাঠটি আসায় কানায় কানায় পূর্ণ হবে। আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বিএনপির পক্ষে এই অঞ্চলে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জাগরণ আজ বহির প্রকাশ ঘটবে। আমরা আশা করি জনসভা স্থল ছেড়ে পুরো জনসমুদ্রে রূপান্তর হবে।
তিনি বলেন, “রংপুর সব সময়ে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। আমরা আশা করছি এই জনসভার মাধ্যমে আগামী দিনে এই বিএনপির নেতৃত্বে বৈষম্য কেটে যাবে। একটি উন্নয়নের ধারায় রংপুর যুক্ত হবে আমাদের বিশ্বাস।”
বিএনপির মঞ্চ দেখতে আসা রংপুর নগরীর রাধাবল্লবের হাসান আলী মুরশিদুল হক ও খোকন মিয়া জানান, আমরা কখনো সামনাসামনি তারেক জিয়াকে দেখিনি আশা করি আজকের এই জনসভায় আমরা তাকে সরাসরি দেখব এবং তার মুখ থেকে রংপুরের উন্নয়নের কথা শুনবো। তারা আরো বলেন, এই রংপুরের অনেক নেতা ছিল, এখানে প্রেসিডেন্ট এরশাদের বাড়ি, শেখ হাসিনার শ্বশুর বাড়ি। কিন্তু কেউ কাঙ্খিত রংপুরের উন্নয়নে অবদান রাখেনি।
আমরা আশা করি এবারেই তারেক জিয়া রংপুরের মানুষের জন্য অনেক কিছু করবেন। আশা করি পুরোনো এই রংপুরের নতুন রূপ দিতে যা যা করা দরকার তিনি তাই করবেন। এই নেতার হাত ধরে নতুন করে এগিয়ে যাবে রংপুর তারই প্রতিফলন ঘটবে আজকের এই জনসভা। আশা করি তারেক জিয়ার মাধ্যমে রংপুর তথা উত্তরাঞ্চলের কী কী উন্নয়ন করা দরকার তিনি নিজেই এই মঞ্চ থেকে সকলকে জানাবেন। আজকের এই প্রোগ্রাম নেই আমরা আশাবাদী।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক ও পীরগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকেলে পীরগঞ্জে আসবেন। সেখানে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে তিনি রংপুরের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন। এ নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় নেতাকর্মীসহ রংপুরের মানুষ উৎগ্রীব হয়ে আছেন তারেক রহমানের বক্তব্য শোনার জন্য। তার সফর বিএনপির প্রার্থীদের জন্য বাড়তি পাওয়া বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ক্রাইম মারুফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভার জন্য মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে স্যাররা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। আইনশৃঙ্খা পরিস্থিতি বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ। গোয়েন্দার লোকজন থেকে শুরু করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠে সবাই সতর্ক নজর রাখছেন।
তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তুতিমূলক সভা ও সকাল থেকে মাঠ পরিদর্শন করেছেন নেতৃবৃন্দ।