বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের এমপি এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, শুরু থেকেই বিরোধী দলের এমপিদের সঙ্গে বৈষম্য করে আসছে সরকার। সরকারি যেকোনো বরাদ্দের ক্ষেত্রে তারা তাদের দলীয় এমপিদের নামে তিন-চার গুনেরও অনেক বেশি বরাদ্দ দিচ্ছে।
অথচ বিরোধী দলের এমপিদের তিন ভাগের এক ভাগও অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে না। আবার বিরোধীদলীয় এমপিদের নির্বাচনি এলাকায় মহিলা এমপিদের দায়িত্ব দিয়ে দলীয়ভাবে তারা মতানৈক্য সৃষ্টি করেছেন। এভাবে বৈষম্য করতেই থাকলে জনগণ এটা মেনে নেবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হব।
শুক্রবার রাতে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের লালদীঘির হাটে সুধী সমাবেশে এবং শনিবার ৪ জুলাই সকালে তার নিজ বাসভবনে জেলহাজত থেকে মুক্তি পাওয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ টি এম আজহার আরো বলেন, ‘আমরা জনসমর্থন নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে মানুষের মন জয় করেছে।
এলাকার খেটে খাওয়াসহ সর্বস্তরের মানুষ আমাদের সততা এবং আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য জেনে শতপূর্তভাবে আমাদেরকে ভোট দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংসদে পাঠিয়েছেন। আমাদের কাজ হলো সংসদে গিয়ে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে পাশে দাঁড়ানো।
এক্ষেত্রে আমরা সরকারি বরাদ্দ এনে নির্বাচনি আসনের অবকাঠামো থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটসহ সব কিছুর উন্নয়নে অংশীদার হবো। কিন্তু বর্তমান সরকার আমাদের এই নির্বাচনি এলাকায় বিনা ভোটের মহিলা এমপিদের দায়িত্ব দিয়ে জনসাধারণের মাঝে নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে নানার প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
আমরা যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি নির্বাচিত হলাম, সেখানে বিনা ভোটের এমপিদের দায়িত্ব দিয়ে আমাদের চেয়ে তাদের তিন গুণ থেকে চার গুণ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষ আমাদের নেতাকর্মীদের প্রশ্ন করছেন, আপনাদের নেতাকে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করে লাভ কি?
কারণ যাদের ভোট দেওয়া হয়নি, তারাই নির্বাচিত এমপির চেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছেন। অনির্বাচিত মহিলা এমপিদের নামে যে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে সেই বরাদ্দগুলো ঠিকঠাক মতো জনগণের কাছে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়টি খোঁজ নেওয়ার জন্য তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে শুধু বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য নয়, বিভিন্ন প্রোগামে এবং অনুষ্ঠানে নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনির্বাচিত এমপিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি নানান ভিত্তিপ্রস্তর বা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচিত এমপিদের না ডেকে না জানিয়ে মহিলা এমপিদের দিয়ে সেই সব প্রোগ্রাম অনুষ্ঠান পার করা হচ্ছে।
সরকারের একটি অংশ থেকে কৌশলে আমলাদের চাপ প্রয়োগ করে এমনটি করা হচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এমনটি করা মানে নির্বাচিত এমপিদের অপমান করা। নির্বাচিত এমপিদের বাদ দিয়ে অনির্বাচিত এমপিদের মাধ্যমে সরকারি কোনো প্রোগ্রাম এভাবে করলে এলাকার সাধারণ ভোটাররা তা কখনো মেনে নেবে না। যেকোনো সময় তারা প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রতিরোধও করতে পারে। তাই আমি অনুরোধ করব এ বিষয়গুলো থেকে সবাই সতর্ক থাকুন।
এ টি এম আজহার সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের নেতৃবৃন্দকে জেল জুলুম এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার মাধ্যমে নিঃশেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ চেয়েছেন এবং মানুষের ভালোবাসায় আমরা এ দেশে সগৌরবে মাথা উঁচু করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি। জনগণ তাদের সেবার জন্য আমাদেরকে গ্রহণ করেছে।
মহান আল্লাহর রহমতে এবং মানুষের ভালোবাসায় দুটি আসন থেকে আজকে আমরা আটষট্টি আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছি। তাই আমাদের নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে আর বৈষম্য করবেন না। সরকারি হোক আর বেসরকারি হোক, অন্য এমপিরা যে বরাদ্দ পান, সেই সমপরিমাণ বরাদ্দ বিরোধী দল থেকে শুরু করে সব এমপিদের দিতে হবে। নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে বরাদ্দের ক্ষেত্রে আর কোনো বৈষম্য না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সুধী সমাবেশ এবং আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা আমির কমারুজ্জামান, নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল হকসহ উপজেলা এবং ইউনিয়ন জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ