বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, শুধু রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখলে হবে না মানুষের দিল ও মন পরিষ্কার রাখতে হবে। নিজেরা অপরিষ্কার থাকলে নিজেদের ভেতরে ময়লা থাকলে শুধু রাস্তাঘাট পরিষ্কার করে লাভ হবে না।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বদরগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তুলতে সড়ক পরিষ্কার কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। এরপরে তিনি বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এটিএম আজহার বলেন, সমাজকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতা কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং সামাজিক সচেতনতার অংশ।নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখলে দেশও পরিষ্কার থাকবে। পাশাপাশি মানুষের ভিতর বাহির ও মানসিকতাকে সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে তাহলেই এদেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবাই তাদের নিজ নিজ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আমরা চাই আমাদের দেখে অন্যান্য দলের এমপি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ এলাকার পাশাপাশি দেশটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুক।
তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। একজন মানুষ যেমন সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে তাকে সুন্দর দেখায় সমাজের অন্যরাও তাকে সম্মান ও আদর করে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট এবং বসত বাড়ির আশপাশে পরিষ্কার রাখলে রোগ জীবাণু থেকে অনেকটা মুক্ত থাকা সম্ভব। তাই সকলকে তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এরপরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ পরিদর্শনে যান।সেখানে তিনি অপারেশন থিয়েটারসহ প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসারত রোগীদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকাদের চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সঠিক সেবা দিতে পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে বলেন, পূর্বে কে কি করেছেন সেটা এখন আর দেখার বিষয় নয়। এখানে স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে যেন সাধারণ মানুষ ফিরে না যায়। তারা যেন সঠিক সেবা পায়। কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টি অবশ্য অবশ্যই এখানকার কর্মরত ডাক্তারদের নিশ্চিত করতে হবে।
বাজারের রাস্তাঘাট পরিষ্কার হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়ে বদরগঞ্জ পৌর শহরের স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন ও দুলাল মিয়া বলেন, একজন সংসদ সদস্যের এমন উদ্যোগ সত্যিই বিরল। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এগিয়ে আসবে।
এদিকে নবনির্বাচিত এমপির এমন সরাসরি অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রশংসা করেছেন শহরের বদরগঞ্জ বাসিন্দারা। তাদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধি নিজে হাতে ঝাড়ু তুলে কাজে নেমে পড়ায় নাগরিকদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে এবং শহরকে পরিষ্কার রাখার অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা সঠিক সেবা পাবে এবং সরকারি বরাদ্দের ঔষধ ঠিকমতো ডাক্তাররা রোগীদের দেবেন বলে তারা আশা করেন। তারা চান সমন্বিত উদ্যোগে হলেও এটি যেন অব্যহত থাকে।