বলরাম গুহ ঠাকুরের শেষ শ্রদ্ধায়
আমি আজ থেকে ঠাকুরগাঁও শহরের একজন অভিভাবককে হারালাম। তিনি আমার সিনিয়র বন্ধুও ছিলেন। ছোটবেলায় তাঁর সঙ্গে খেলাধুলা করেছি। তিনি খুব ভালো ফুটবল খেলতেন। — চোখের জল আর ভারাক্রান্ত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বর্ষীয়ান আইনজীবী ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট বলরাম গুহ ঠাকুরতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
জেলার আইন অঙ্গনের সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও কিংবদন্তি আইনজীবী অ্যাডভোকেট বলরাম গুহ ঠাকুরতা ৯৫ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
শুক্রবার দুপুর থেকেই জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় জমে। সেখানে তার মরদেহ রাখা হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বিএনপি ও ঠাকুরগাঁও টাউন ক্লাবের পক্ষ থেকেও পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তাকে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, বলরাম দা ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন, মেধাবী ও মানবিক একজন মানুষ। ঠাকুরগাঁওয়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অবদান মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে।
শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম, বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন,সম্পাদক পয়গাম আলীও আইনজীবী নেতৃবৃন্দ, পরিবারের সদস্য এবং তাঁর অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী।
পরে বিকেল ৪টায় ঠাকুরগাঁও কালিমন্দির শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ অংশ নেন।
তার মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইন অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।