লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ওষুধ বিক্রিতে ক্রেতাদের কাছ থেকে এমআরপি বা গায়ে লেখা দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সারা দেশে যেখানে ফার্মেসিগুলোতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় প্রচলিত, সেখানে পাটগ্রামের অধিকাংশ ফার্মেসিতে গায়ে লেখা দাম (এমআরপি) অনুযায়ীই ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। এতে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) শহরের বিভিন্ন ফার্মেসি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইনসুলিনসহ জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের ওষুধই নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, পাশের জেলা রংপুর ও কুড়িগ্রামে নিয়মিত ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া গেলেও পাটগ্রামে ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছেন না। পাশের জেলার মতো এখানেও আগে ছাড় দেওয়া হতো, কিন্তু এখন আর দেওয়া হচ্ছে না। এতে বাজারে এক ধরনের অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ বা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে।
তবে ফার্মেসি মালিকদের দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ছাড় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় একটি অঘোষিত সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই কমিশন বা ছাড় দিতে সাহস পান না।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় থাকলেও লালমনিরহাটে তা কার্যত অনুপস্থিত, যা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা জানান, নিয়মিত ওষুধ কিনতে গিয়ে সামান্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ ছাড়ও তাদের মাসিক খরচে বড় ধরনের সাশ্রয় আনতে পারত। কিন্তু তা না থাকায় তারা আর্থিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়ছেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত কার্যকর নজরদারি না বাড়ালে সাধারণ মানুষই এ অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন।
এআরবি