সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ ৪ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই জরুরি সেবা সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শনিবার বিকেলের তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ২৪ মিটার, যা মৌসুমি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানির উচ্চতা ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। একই সময়ে জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের ২৪ ঘণ্টার ৭৭ মিলিমিটারের তুলনায় কম।
তবে জেলার শাল্লার মারকুলি স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার বেড়ে ৭ দশমিক ২৩ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ৮ দশমিক ৪৬ মিটারে উঠলেও তা এখনো বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
অন্যদিকে শক্তিয়ারখলা পয়েন্ট, যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় স্টেশন, বিপদসীমার নিচে রয়েছে। দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা নদীর পানিও সামান্য বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপদসীমার অনেক নিচে অবস্থান করছে।
পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, আপাতত বৃষ্টি কিছুটা কমে নদ-নদীর পানি হ্রাস পেলেও আগামী দিনগুলোতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি বাড়লে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলার ১২টি উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেডএম