সিলেটের ঐতিহাসিক হজরত শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা আবারো শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে এ গণনা শুরু হয়। মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন–সংক্রান্ত কমিটির সদস্য, মাজার কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে গণনা করা হচ্ছে।
এরআগে, ১২ জুন প্রথমবারের মতো দানবাক্সের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজারের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৮ জুন মাজার প্রাঙ্গণে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেগ এবং একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।
তবে এ উদ্যোগ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ২১ জুন মো. সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন ২২ জুন তার উপস্থিতিতেই সিলগালা করা দানের ডেগ ও দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়। ওইদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে অর্থগুলো সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
এরপর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরো আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ২৬ জুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ১৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সিলেট সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে দানবাক্সের অর্থ পুনরায় গণনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
বৈঠক শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, গণনা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কমিটির সদস্য, মাজার কর্তৃপক্ষ, মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে অর্থ গণনা শেষে তা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
জেডএম