দেশে জ্বালানি তেল আমদানি, রপ্তানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চলমান সংকটের পর এবার সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় প্রায় দুই লাখ মানুষ কার্যত অন্ধকারে জীবনযাপন করছেন।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দিনের বেলায় চাহিদা ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। আর রাতে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ থেকে ১৭ মেগাওয়াটে, যেখানে সরবরাহ থাকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের কঠোর নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কোনো ধরনের ঝড়-বৃষ্টি বা দৃশ্যমান কারিগরি ত্রুটি ছাড়াই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। বুধবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা প্রায় চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এরপর স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হলেও সন্ধ্যা সাতটার দিকে আবার তা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
এদিকে, অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রমেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। চলমান প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। দুর্ভোগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। ফটোকপি, কম্পিউটার সার্ভিস, ওয়েল্ডিংসহ ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসার মৌসুমেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
শুধু তাই নয়, ঘন ঘন বিদ্যুৎ ওঠানামার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তাজপুর বাজারের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আর পরিবর্তন হতে পারলাম না। এই অবস্থা চলতে থাকলে আবার কেরোসিনের কুপির যুগে ফিরে যেতে হবে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসা চালানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কাশিকাপন জোনাল অফিসের ডিজিএম ইঞ্জিনিয়ার মো. নাঈমুল হাসান বলেন, জাতীয় গ্রিডে লোড ম্যানেজমেন্টের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে না পারা কিংবা সামান্য বৃষ্টিতেই যদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের কার্যকর সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে পুরো উপজেলাবাসী।