সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার জলুষা-আমজোড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধ হয়ে দুজন গুরুতর আহতসহ উভয় পক্ষের ছয়-সাতজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আমজোড়া গ্রামের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলুষা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আমজোড়া গ্রামের ইউপি সদস্য উজ্জ্বল মেম্বার ও তার লোকজনের প্রায় দেড় বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও কয়েক দফা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছিল। বিরোধ মেটাতে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের উদ্যোগে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরোনো বিরোধের জের ধরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে আমজোড়া গ্রামের উজ্জ্বল মেম্বার পায়ে এবং তার চাচাতো ভাই মোশারফ বুকে টেটাবিদ্ধ হন।
এছাড়া উভয় পক্ষের আরো অন্তত ছয়-সাতজন আহত হন। খবর পেয়ে মধ্যনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জলুষা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান দাবি করেন, তিনি ডিম নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে আমজোড়া গ্রামের সামনে পৌঁছালে উজ্জ্বল মেম্বারের মামা জয়ধর তার পথ রোধ করে মারধর করেন এবং তার সঙ্গে থাকা স্মার্টফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তিনি থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকে আটক করা হয়। অপর পক্ষের আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে পায়ে টেটাবিদ্ধ আহত উজ্জ্বল মেম্বার সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তারা জলুষা গ্রামের সামনে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। এমনকি স্থানীয় বাজার ও উপজেলা সদরে যেতেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে জলুষা গ্রামের মিজান, শাহ আলম ও খসরুর নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি ও তার ভাই টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এছাড়া বাড়ির নারীসহ একাধিক ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হন।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ওসি এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জলুষা গ্রামের মিজানুর রহমান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।