সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা সদরের সম্মুখে অবস্থিত তাজপুর ডিগ্রি কলেজে বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদনকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি গ্রহণ করা হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি না থাকায় আবেদনকারীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাজপুর ডিগ্রি কলেজ গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ (সর্বশেষ পরিমার্জনসহ) অনুযায়ী চারটি এমপিওভুক্ত ও দুটি নন-এমপিওভুক্তসহ মোট পাঁচটি পদে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশি স্থায়ী নাগরিকদের নিকট থেকে দরখাস্ত আহ্বান করে। বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি পদের জন্য ৫০০ টাকা করে (অফেরতযোগ্য) পে-অর্ডার/ব্যাংক ড্রাফট অধ্যক্ষ, তাজপুর ডিগ্রি কলেজের অনুকূলে জমা দিতে বলা হয়। এতে প্রায় ৪৬ জন প্রার্থী আবেদন করেন।
পরবর্তীতে ২৫ সেপ্টেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বোর্ড গঠন করে। তবে ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক একটি পরিপত্র জারি করে, যেখানে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ, মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকের ওপর ন্যস্ত করা হয়। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পূর্ববর্তী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নতুন এই পরিপত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়ে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়।
তবে আবেদন গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি প্রার্থীদের এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা কিংবা নিয়োগসংক্রান্ত পরবর্তী কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে আবেদনকারীদের অবগত করা হয়নি।
একাধিক আবেদনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিয়ম মেনে আবেদন করেছি এবং নির্ধারিত ফিও প্রদান করেছি। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি নেই। এতে আমরা প্রতারিত বোধ করছি।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খছরুজ্জামান জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরপত্রে জেলা প্রশাসকের অধীনে নেওয়া হয়। ফলে যেসব আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।
অন্যদিকে, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুদ রানা জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে তিনি অবগত নন। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের তথ্য দেয়নি বলে জানান।
এদিকে নতুন পরিপত্র জারির ফলে পূর্বের নিয়োগ প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়ে স্থবির হয়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অথবা আবেদনকারীদের প্রাপ্য বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।