সিসি ক্যামেরা স্থাপন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ভোটকেন্দ্র সংস্কার ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ভোটগ্রহণকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ করতে একযোগে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগর উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫৪। এর মধ্যে ৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাকি কেন্দ্রগুলো উচ্চ বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থিত।
প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রকে সংস্কারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র সংস্কারকাজে দুই কিস্তিতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথম কিস্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯ লাখ ২৫ হাজার ২০০ টাকা এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩১ টাকা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে চলমান সংস্কারকাজ মনিটর করছি। এমনকি সংস্কারকাজের প্রধানদের কাছ থেকে কাজের ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
অন্যদিকে উপজেলার মোট ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে উপজেলায় মোট ২০টি সিসি ক্যামেরা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের অর্থায়নে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রে ছয়টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে উচ্চ বিদ্যালয়ভিত্তিক ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিজস্ব অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। যেসব ভোটকেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে, সেসব কেন্দ্রে অনলাইন মনিটরিং-ব্যবস্থা সচল রাখতে বাইরে আরও দুটি করে অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কেন্দ্র পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতায় এসেছে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোয় স্থাপন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে মোট বাজেট সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা তা প্রকাশে অনিচ্ছা জানান। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা-সংক্রান্ত বরাদ্দের বিস্তারিত হিসাব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ওসমানীনগরের সব ভোটকেন্দ্রকেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
স্থানীয় ভোটার ও সচেতন মহল মনে করছেন, ভোটকেন্দ্র সংস্কার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়বে।