মৌসুমের শুরুতেই অস্বাভাবিক বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান কাটা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কৃষক। ইতোমধ্যে জেলায় প্রায় ৩ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে, যার একটি বড় অংশে কাঁচা ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জমিতে পানি ও কাদা জমে থাকায় কৃষিযন্ত্র ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, আর শ্রমিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
দেখার, ঝাওয়ার, শনির ও ছায়ার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিচু জমির ধান ইতোমধ্যে ডুবে গেছে। যেসব জমিতে ধান এখনো টিকে আছে, সেগুলো ঘরে তোলাই এখন কৃষকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৩৭টি হাওর রয়েছে। এসব হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। প্রতি বছর এখান থেকে উৎপাদন হয় প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। তবে থেমে থেমে বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেখার হাওরের কৃষক আবদুল করিম বলেন, ডুবরায় অনেক জমির ধান শেষ। এখন যা আছে, সেটাও তুলতে পারব কি না, জানি না। মেশিন চলে না, মানুষও নেই।
কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, পানির মধ্যে কাদা জমে আছে, ধান কাটা খুব কষ্টের। আগে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক আসত, এখন সেটাও বন্ধ।
শফিকুল ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, তার অধিকাংশ জমিই পানির নিচে চলে গেছে। বাকি জমির ধান কাটা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, জেলায় বর্তমানে ৫৭৭টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার সচল রয়েছে, আরও ১০৮টি মেরামতের অপেক্ষায়। মেশিন দ্রুত সচল করতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে, পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও হারভেস্টার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া আমার দেশকে বলেন, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় আশপাশের জেলাগুলোতে চিঠি দেওয়া হবে, বালুমহাল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ফসল কাটার সময় পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।