ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ) আসনে বিভেদ ভুলে চূড়ান্ত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের পক্ষে দাঁড়ালেন মনোনয়নপ্রত্যাশী আনিসুল হক। আর এতে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
এর আগে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তারা হলেন— জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালমা নজির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি লিটন, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সরকার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন।
গত ৩ নভেম্বর সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে জেলা বিএনপির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়। সে সময় কামরুজ্জামন কামরুল ছাড়া অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজে থেকেই সরে যান। কিন্তু কামরুজ্জামন কামরুল ও তার কর্মী-সমর্থকেরা তার মনোনয়নের দাবিতে মিছিল, মিটিং ও সভা একাধারে চালিয়ে যান। দাবির প্রেক্ষিতে ২৭ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামানকে (সংযুক্তি-২) আবারও ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুজন আলাদা আলাদা বলয়ে আন্দোলন, সংগ্রাম, সভা, সমাবেশ পরিচালনা করেন সুনামগঞ্জ-১ নির্বাচনি এলাকার চারটি উপজেলায়। এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন কামরুজ্জামন কামরুলকে দল চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করলে কিছুটা হতাশা দেখা দেয় অন্যান্য পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে।
তবে সব বিভেদ ভুলে দলীয় স্বার্থে ঐকের দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করে গতকাল শনিবার আনিসুল হকের বাড়িতে (ধুতমা গ্রামে) আয়োজিত এক সভামঞ্চে বক্তব্য দেন আনিসুল হক ও কামরুজ্জামন কামরুল। সে সময় দুই বলয়ের হাজারো কর্মী, সমর্থক ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের দুজনের একসঙ্গে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত হতে দেখা গেছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার বলেন, আনিসুল হক ও কামরুজ্জামন কামরুলের ঐক্যে দলের নেতাকর্মীরা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। নির্বাচনের সময় দুজনের ঐক্যটা জরুরি ছিল বলেও তিনি জানান।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যের বিকল্প নেই। দুই প্রার্থীর ঐক্যে আমরা আনন্দিত ।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াত বলেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। সর্বশেষ চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুল লড়ে গেছেন। এর মধ্যে কামরুজ্জামন কামরুল চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। দুজন একসঙ্গে কাজ করলে দল আরও সুসংগঠিত হবে, সেই সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় হবে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের ধানের শীষের প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন, দল সুনামগঞ্জ-১ আসনে কামরুজ্জামন কামরুলকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমরা দলের স্বার্থে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কামরুজ্জামন কামরুল বলেন, ‘সুনামগঞ্জ-১ আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। আমি সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই এবং ভবিষ্যতেও তাদের নিয়ে চলব। যেসব নেতাকর্মী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে একাধিক বলয়ে ছিলেন, তারা সবাই ধানের শীষের পক্ষেই ছিলেন।