পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। শহরের নতুন বাজারে গত রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির বড় ও ছোট মাছ নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বড় মাছের সংখ্যা কিছুটা কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, মেলায় সাজানো রয়েছে রুই, কাতল, মৃগেল, চিতল, বাঘইর, বোয়াল, আইড়, কালবাউশ, বাউশ, গ্রাস কার্প, কমন কার্প (কার্পু), পাবদা, শোল, গজার, তেলাপিয়া, বাঘ মাছসহ নানা জাতের মাছ।
সচরাচর বাজারে যেসব বড় আকারের মাছ খুব একটা দেখা যায় না, সেগুলোর উপস্থিতিতে মেলা পরিণত হয়েছে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে।
মাছ কিনতে আসা বিনয় দেব বলেন, আগে পৌষ সংক্রান্তিতে বাজারে আরও বেশি বড় মাছ উঠত। এখন বড় মাছের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে গেছে।
এদিকে দুই সন্তানকে নিয়ে মেলায় আসা মৌ বলেন, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বড় বড় মাছ উঠেছে। ছেলেমেয়েরা বইয়ে মাছের নাম পড়লেও বাস্তবে সব মাছ দেখা হয় না। তাই তাদের দেখাতে নিয়ে এসেছি।
বাজারের বিক্রেতারা জানান, পৌষ সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় মাছ সংগ্রহ করে এখানে আনা হয়। মেলায় কেউ মাছ কিনছেন, কেউ আবার বড় মাছ দেখেই ফিরে যাচ্ছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর ওজনে বড় মাছের সরবরাহ কম।
শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী জমির মিয়া বলেন, সারা বছরই এখানে মাছ বিক্রি হয়। তবে পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন থেকে বাজারটি মেলার রূপ নেয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বড় মাছ আসে। এটি আমাদের এলাকার একটি উৎসব। সব ধর্মের মানুষই মাছ কিনতে আসেন। এ বছর তুলনামূলকভাবে বড় মাছ কিছুটা কম।
সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, হাইল হাওর, হাকালুকি হাওর, মনু, সুরমা ও কুশিয়ারা নদী আমাদের অঞ্চলের মৎস্যভাণ্ডার। এই মাছের মেলা সেই ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। একসময় পৌষ সংক্রান্তিতে মেয়ের বাড়িতে বড় মাছ পাঠানোর প্রথা ছিল। এখন তা কমে গেলেও মাছ কেনা ও দেখার উৎসবের আনন্দ এখনো অটুট।