মৌলভীবাজার-২
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে এবার লড়াই হবে চতুর্মুখী। মূল লড়াই হবে বিএনপি প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু এবং জামায়াতে ইসলামীর ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলীর মধ্যে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খানও পিছিয়ে নেই। আলোচনায় রয়েছেন তারাও। তবে ভোটের হিসাব-নিকাশে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া সম্প্রদায় বড় ফ্যাক্টর হবে ।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বইছে মৌলভীবাজারের বৃহত্তম উপজেলা কুলাউড়ায়। ১৩ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার অলিগলি এখন সরগরম। প্রার্থীরাও প্রচারে অধিক সময় ব্যয় করছেন হাটবাজারগুলোয়। প্রতিদিনই প্রতিটি বাজারে কোনো না কোনো প্রার্থীর পক্ষে মিছিল, গণসংযোগ চলছে।
বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস কুলাউড়ায়। ২৪টি চা-বাগানের শ্রমিক, ৩০টি খাসিয়াপুঞ্জির খাসিয়া ও গারো সম্প্রদায়ের লোকজন, এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির জেলে সম্প্রদায়ের বৃহৎ একটি অংশ এ আসনের ভোটার। কুলাউড়ায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ৫ হাজার ৫৮৮ জন। ভোটার তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই আসনে চা-শ্রমিক ভোটার রয়েছেন প্রায় ২৯ হাজার।
অতীতের নির্বাচনে বড় দলগুলোর বিপক্ষে কখনো মুসলিম লীগের প্রার্থী, কখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী এই আসনে বিজয়ী হওয়ার নজির রয়েছে। এবারের নির্বাচনে আট প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী শওকাতুল ইসলাম শকু ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম সায়েদ আলীর মধ্যে মূল লড়াই হবে। আলোচনায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুল হক খান সাহেদ। শেষমেশ এই চার প্রার্থীর যে কেউ চলে আসতে পারেন চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
এছাড়া ভোটের মাঠে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন এম জিমিউর রহমান চৌধুরী (স্বতন্ত্র), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মার্কসবাদী) সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মালিক।
বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু জানান, ১৭ বছর পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে। আগামীতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। তাই বিএনপিকে মানুষ বেছে নিয়েছে।
কুলাউড়ার জামায়াতে ইসলামী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মাঠঘাটে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্মস্থান কুলাউড়া হওয়ায় এবং ৫ আগস্টের পর তিনি একাধিকবার কুলাউড়া সফর এবং সমাবেশ করায় নেতাকর্মীরা খুবই উজ্জীবিত হয়ে কাজ করেছেন। বিভিন্ন কৌশলে তাদের পক্ষে ভোট টানার চেষ্টা করছেন।
জামায়াতের মতে, তাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নীরব বিপ্লব ঘটবে কুলাউড়ায়। দাঁড়িপাল্লার ছায়াতলে এসেছেন চা-বাগানের ভোটারসহ হিন্দু ভোটারসহ খাসিয়া ও মণিপুরি সম্প্রদায়ও। সব মেরূকরণে জামায়াতের প্রার্থী চমক দেখাতে পারেন কুলাউড়া আসনে।
ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী জানান, কুলাউড়ায় আমাদের অবস্থান খুবই ভালো। আমরা হাটবাজারসহ নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছি। নারী-পুরুষ ও ধর্মবর্ণনির্বিশেষে আমাদের জন্য সবাই কাজ করছেন। চব্বিশের স্পিরিট ধারণ করে তরুণ সমাজ এবার জেগে উঠেছে।
বিভিন্ন এলাকায় গেলে অনেক ভোটার জানান, যেহেতু জামায়াত আমিরের গ্রামের বাড়ি কুলাউড়ায়, সেই হিসাবে এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হলে এলাকার বেশ উন্নয়ন হবে।