রাজধানীর বিজয়নগরে নিজের আইনি চেম্বারে এক বিচারপ্রার্থী নারীকে (৪৫) ধর্ষণের অভিযোগে লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামছুল ইসলামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মামলার হাজিরার তারিখ জানাতে টালবাহানা করে ভুক্তভোগী নারীকে চেম্বারে ডেকে নেন তিনি। এরপর সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পরদিন শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত সামছুল ইসলামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার জিরুন্ডা গ্রামে। তিনি লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আইনজীবী পেশার সুবাদে তিনি ঢাকায় থাকেন। ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত আইনজীবী তার পূর্ব পরিচিত। ওয়ারীতে একই এলাকায় থাকায় তাকে ‘কাকা’ বলে ডাকতেন। ব্যাবসা সংক্রান্ত একটি মামলায় তার মাধ্যমে জামিন করান তিনি। তবে পরে মামলার তারিখ জানাতে বারবার যোগাযোগ করলেও অভিযুক্ত টালবাহানা করছিলেন। নির্ধারিত দিনে অফিসে গেলে অভিযুক্ত তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।
পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, মামলার তারিখ জানার জন্য চেম্বারে গেলে অভিযুক্ত প্রথমে তার শরীরে স্পর্শ করে বলেন, “তুমি কি চাও না তোমার মামলাটা দ্রুত শেষ হোক?” এরপর তিনি বের হতে চাইলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রয়েল হোসেন আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, চলতি মাসে মামলার হাজিরার তারিখ জানার জন্য কয়েকদিন ধরে ভুক্তভোগী নারী হোয়াটসঅ্যাপে অভিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান। পরে ২৯ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে আবারো মামলার তারিখ জানতে চাইলে অভিযুক্ত পরে যোগাযোগ করতে বলেন। একই দিন রাতে ফোন করলে তাকে বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলায় চেম্বারে যেতে বলা হয়।
মামলার বর্ণনায় বলা হয়, রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারী চেম্বারে গেলে দেখেন অভিযুক্ত একা ছিলেন। মামলার তারিখ জানতে চাইলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন তিনি। একপর্যায়ে অভিযুক্ত জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি মামলার হাজিরা রয়েছে। এরপর ভুক্তভোগী নারী চেম্বার থেকে বের হতে গেলে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে অভিযুক্ত আইনজীবী ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর শুক্রবার অভিযুক্ত আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ওকালতনামা দাখিল করলেও আদালত জামিন শুনানি না করেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা রয়েল হোসেন বলেন, আসামিকে গ্রেপ্তার করে নিয়মানুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী ভুক্তভোগী নারীকে আলামতসহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে লাখাই উপজেলার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গোলাপের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে একটি চক্র এডঃ সামছুল ইসলামকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।