হোম > সারা দেশ > সিলেট

ক্রমাগত বর্ষণে হবিগঞ্জে পানির নিচে বোরো ধান

কামরুল হাসান, হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার শিবপুর হাওরে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান। আমার দেশ

হবিগঞ্জে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের বিশাল এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা ও আধাপাকা ধানে পচন ধরার আশঙ্কায় বর্গাচাষি ও ঋণগ্রস্ত কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হলেও স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ হাজার বিঘা বা প্রায় ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর ছাড়িয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বানিয়াচং উপজেলার উগলী, বাতাসর ও বালি হাওরসহ সুজাতপুর, ইকরাম ও শতমুখা এলাকার কয়েক হাজার বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে। গত এক সপ্তাহ ধরে রত্না নদীর বাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আধাপাকা ও পাকা ধানে পচন ধরার আশঙ্কায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধানের শীষ বের হওয়ার এ পর্যায়ে ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসল ঘরে তোলার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, গত কয়েক দিনের বর্ষণে (৭ এপ্রিল ) পর্যন্ত ২৮১ হেক্টর জমির ফসল পানিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিমজ্জিত হয়েছে বানিয়াচং উপজেলায় ২১৮ হেক্টর। আজমিরীগঞ্জে ১৮, নবীগঞ্জে ২০ ও লাখাই উপজেলায় ২৫ হেক্টর। তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ৬ এপ্রিল দিনে ও রাতে বৃষ্টিপাতে কী পরিমাণ জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে, তার তথ্য এখনো নিরূপণ করা হয়নি।

বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরের বিস্তীর্ণ জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ধান পাকার সময় হয়েছিল। এ মুহূর্তে ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়, এতে পচন ধরতে পারে। আমরা যদি এবার ধান তুলতে না পারি, তবে কৃষকদের খেয়ে বাঁচা কঠিন হয়ে পড়বে।

একই এলাকার ইকরামু গ্রামের কৃষক আহলাদ মিয়া তার দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, আমি অনেক কষ্ট করে ধারদেনা করে আট বিঘা জমি বর্গাচাষ করেছিলাম। বিঘা প্রতি সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফসল তো ভালো হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণের টাকা শোধ করব, নাকি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেব—এ চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েছি।

সুজাতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে রত্না নদীর বাঁধ উপচে উগলী, বাতাসর ও বালি হাওরে পানি প্রবেশ করছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কৃষকদের প্রায় ৭ হাজার বিঘার মতো জমির কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, জাইকা প্রকল্পের আওতায় হাওরের সংযোগ খালগুলো পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, এ প্রকল্পের মাধ্যমে যেন আরো দুই একটি হাওরকে যুক্ত করতে পারি। সংযোগ খালগুলো খনন করলে পানি হাওরে জমে থাকবে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আকতারুজ্জামান বলেন, হাওরে যে পানি জমে আছে তা বৃষ্টির পানি। এটি নদী থেকে আসা পানি নয়। এছাড়া নদীর পানি হাওরের পানির চেয়ে ওপরে আছে। যদি হাওরের পানি কমানোর জন্য নদীর বাঁধ কাটা হয়, তবে উল্টো নদীর পানি হাওরে প্রবেশ করবে। এ অবস্থায় সহসা হাওরের পানি কমার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই।

কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

বিদ্যালয়ের পাশে বর্জ্য ফেলায় হোটেল মালিকের কারাদণ্ড

গরুর মালিকানা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: ১৭ বাড়ি ভাঙচুর, আহত ১০

দিরাইয়ে পৃথক সংঘর্ষে নিহত দুই, আহত ৯

এআই শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাতে পারে: এনইইউবির উপাচার্য

সিলেটে দুই হাসপাতালকে লাখ টাকা জরিমানা

চা-বাগান থেকে সীমান্ত সড়ক উন্নয়নের দাবি এমপি মুজিবুর চৌধুরীর

মনিপুরী মৈথৈ সম্প্রদায়ের ‘লাই হারাওবা’ উৎসব শুরু

বড়লেখায় অবৈধভাবে ডিজেল রাখায় জরিমানা ২০ হাজার