হোম > সারা দেশ > সিলেট

ভয়াবহ খরার কবলে কুলাউড়ার চা-বাগান, উৎপাদনে ধস

চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)

ভয়াবহ খরার কবলে কুলাউড়ার চা বাগানের গাছ শুকিয়ে মরতে বসেছে। বুধবার তোলা। আমার দেশ

গত পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টি না থাকায় ভয়াবহ খরার কবলে পড়েছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ২৬টি চা-বাগান। প্রচণ্ড সূর্যের তাপে ঝলসে যাচ্ছে চা-গাছ। অধিকাংশ বাগানে ২৫-৩০ শতাংশ গাছ খরায় পুড়ে গেছে। টানা পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় বাগানের ভেতরের খাল-নালা শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। ফলে সেচ অথবা স্প্রে করে নতুন-পুরাতন চা-গাছ বাঁচানো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় চা উৎপাদনে ধস নেমেছে।

সরেজমিনে বাগান ঘুরে জানা গেছে, কুলাউড়ায় ২৬টি চা-বাগান রয়েছে। সব কটি বাগানের নতুন ও পুরাতন চা-গাছ দীর্ঘ খরায় পুড়ে গেছে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চায়ের উৎপাদন দারুণভাবে ব্যাহত হয়েছে। বৃষ্টিনির্ভর চা-গাছের নতুন কোনো কুঁড়ি বের হচ্ছে না। গত বছর ২০২৫ সালে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৯১.৬৭ ইঞ্চি। ২০২৬ সালে আর কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। সামনে চৈত্র মাসে রোদের তেজ আরো বেড়ে যাবে, তখন খরা হয়ে যাবে দীর্ঘস্থায়ী। সব মিলিয়ে চায়ের উৎপাদন অনেকাংশে কমে আসবে বলে বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

গাজীপুর চা-বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক জয়ন্ত ধর আমার দেশকে জানান, আমাদের বাগানে ১ হাজার ৬৪৫ একর ভূমিতে চা ফলানো হয়েছে। দীর্ঘ খরায় ফলানো চায়ের শতকরা ৩০ ভাগ রোদে পুড়ে ঝলসে গেছে। গত বছর আমরা ১১ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ কেজি কালো চা উৎপাদন করেছি। এ বছর প্রচণ্ড খরার কারণে উৎপাদনে ধস নামবে।

খরার পড়ে দেখা দিয়েছে চা-গাছে নানা রোগবালাই। এতে আমরা অনেকাংশে পিছিয়ে যাব। ভাটা পড়বে চা উৎপাদনে। কুলাউড়ার এইচআরসির মালিকানাধীন দিলদারপুর-ক্লিভডন চা-বাগানের উপমহাব্যবস্থাপপক জয়নাল আবেদিন আমার দেশকে বলেন, দীর্ঘ পাঁচ মাস খরার কারণে আমাদের দিলদারপুর চা-বাগানে নতুন চা-গাছ প্রচণ্ড রোদের তাপে জ্বলে-পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পুরাতন চা-গাছের অবস্থা আরো ভয়াবহ। দিলদারপুর চা-বাগানে ১০ শতাংশ চা-গাছ খরতাপে ঝলসে গেছে। গত বছর সারা দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদন করেছি, যার পরিমাণ ছিল ১০ লাখ কেজি কালো চা। এবার তা সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে লোহাইউনি-হলিছড়া চা-বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক ফারুক চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, প্রচণ্ড খরায় চা-গাছ পুড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন চা-গাছে খরার প্রভাব পড়েছে বেশি। টানা পাঁচ মাস বৃষ্টি না হওয়ায় বাগানের ভেতরের খাল-নালা শুকিয়ে যাচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে সেচ পদ্ধতি। এখনো চা চয়ন শুরু হয়নি। চা উৎপাদনে আমরা অনেক পিছিয়ে যাব।

অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে জরিমানা

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করে প্রাণ হারালেন মৌলভীবাজারের মুহিবুর

ফের সংসদে যাচ্ছেন হবিগঞ্জের শাম্মী

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধান, উৎকণ্ঠায় কৃষক

কোম্পানীগঞ্জে খাল খনন উদ্বোধন করলেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

দোয়ারাবাজারে পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

বিএনপির মনোনয়ন পেলেন শাম্মী আক্তার ও ব্যারিস্টার আদিব

শ্রমিক সংকটে ধর্মপাশায় পাকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

গ্রাহকের ছয় কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতি

নির্মাণের এক বছরেই ২৩ কোটি টাকার ভবনে ফাটল