হোম > সারা দেশ > সিলেট

ভাত না খেয়ে ছিলাম ২০ দিন, চারিদিকে শুধু মিসাইলের শব্দ

ইরান থেকে ফিরে বাবুলের বিভীষিকাময় স্মৃতি

এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)

প্রবাসী বাবুল মিয়া। ছবি: আমার দেশ

পাখির মতো বিমান উড়ে, যেদিকে যাই সেদিকে মিসাইলের শব্দ। প্রায় ২০ দিন ভাত না খেয়ে ছিলাম। এ সময় শুধু শুকনো খাবার খেয়েছি। ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ মনে করলাম, এভাবে মরার চেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অ্যাম্বেসিতে যাই। চারদিকে রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার। বিল্ডিংগুলো মাটিতে গুঁড়িয়ে আছে। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। বলার মানুষ নেই। প্রতি রাতে নীরব কান্না। রাত হলেই অজানা আতঙ্ক। অনবরত সাইরেন আর মিসাইলের শব্দ। ঝাঁকে ঝাঁকে বিকট আওয়াজে বিমান উড়ে। আশপাশেই পড়ছে মিসাইল। ২-৩ মিনিট এদিক-সেদিক হলে নিজের ওপরও পড়ত। আল্লাহকে অনেক ডেকেছি। একবারের জন্য মা-বাবা এবং স্ত্রী-সন্তানদের দেখতে চেয়েছি। টানা ৫ দিন যোগাযোগ ছিল না। তারা জানত না, আমি বেঁচে আছি কিনা। বেঁচে ফিরব বলেও ভাবিনি। বারবার ভেঙে পড়েছি। আবার শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছি।

এভাবেই ইরান যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করছিলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা গ্রামের মো. খেলাই মিয়ার ছেলে মো. বাবুল মিয়া (৩৪)। কাজের সন্ধানে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ওমানে পাড়ি জমান তিনি। ২ মাস পরেই অবৈধভাবে ইরানে যান। দীর্ঘ ৭ বছর দেশটিতে কাটিয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু ফেরাটা সহজ ছিল না। এর পেছনের গল্প ছিল বেদনাদায়ক।

বাবুল মিয়া বলেন, ইরানের তেহরানে একটি লোহার কোম্পানিতে কাজ করতাম। তেহরান শহর থেকে একটু বাইরে, প্রায় দেড় ঘণ্টার রাস্তা। জায়গাটির নাম হাসিনাবাদ। কোম্পানিতে আমরা ৮০ জন লোক ছিলাম। থাকার জন্য ১০টি রুম ছিল। এক রুমে ৮-৯ জন করে থাকতাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ তীব্র শব্দে পুরো বিল্ডিং কেঁপে ওঠে। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। সবাই এক জায়গায় জড়ো হই। একে-অপরের দিকে শুধু তাকিয়ে ছিলাম। বাইরে সাইরেনের শব্দ। মিসাইল আর যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়। প্রথমে ভাবি, ইরানের যুদ্ধবিমান মহড়া দিচ্ছে। কিন্তু পরে জানালা দিয়ে দেখি, ওপর থেকে মিসাইল ছোড়া হচ্ছে। এভাবেই সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করি। কাজে গিয়ে শুনি, যুদ্ধ লেগেছে।

তিনি বলেন, আমাদের এখান থেকে অন্যান্য শহরগুলোতে আরও বেশি মিসাইল হামলা হতো। এর মধ্যে বাগরাবাদ, দৌলতাবাদ ও ছোড়াবাদ অন্যতম। তবে সর্বোচ্চ হামলাটি আমাদের এখানেই হয়েছিল। ওই জায়গার মধ্যে একটি হামলায় ১৬৬ জন স্কুলশিশু মারা যায়। আমাদের কোম্পানির কাছেই বোমা পড়েছিল। গত দেড় মাসের যুদ্ধের সময়ে ইরানে কেমন ছিলেন, সেই বর্ণনা দেন বাবুল মিয়া। তিনি বাংলাদেশ অ্যাম্বেসির সহায়তায় আজারবাইজান যান। সেখান থেকে গত ১৫ এপ্রিল তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদায় আসেন।

প্রবাসী বাবুল মিয়া আরো বলেন, প্রথম দিন ভয়ে ভয়ে কাজে যাই। একেকজন একেক রকম কথা বলছিল। ইন্টারনেট বন্ধ, মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। সরকার থেকেও কোনো নির্দেশনা দিচ্ছিল না। এভাবে কতদিন চলবে, তাও বুঝতে পারছিলাম না। এভাবেই কাজ থেকে ফিরে রাতে খাবার খাই। আমরা যারা ছিলাম, সবাই একে-অপরের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিই। ভয়ে ভয়ে রাত কাটে। কিন্তু একবারের জন্যও ঘুম আসেনি। সেদিন মানুষের মৃত্যুর কষ্ট বুকে এসে বাধে। সারারাত কান্না করি। ভোরে দূতাবাস থেকে ফোন আসে। জানায়, আমি ট্রাভেল পাস পেয়েছি। ওই দিন রাতেই আমরা আজারবাইজানে প্রবেশ করব। সকাল হওয়ার আগেই সাভেহ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হই। দুপুরের আগেই পৌঁছাই। পরে ৯টি বাসে করে আস্তারা সীমান্তের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। মধ্যরাত ২টার দিকে সীমান্তে পৌঁছাই। গভীর রাত, তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি কনকনে শীত। কেউ বন্দরের ওয়েটিং রুমে, কেউ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাই। ঘুমানোর কোনো সুযোগ ছিল না। গায়ে দেওয়ার মতো কম্বলও ছিল না। কোথাও গা ঠেকানোর সুযোগও ছিল না।

এরপর সকাল ৮টার দিকে স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা এসে কাজ শুরু করেন। ভোরেই আজারবাইজানে ঢুকে দেখি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আজারবাইজান ও তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। এরপর আমাদের গন্তব্য বাকু বিমানবন্দর। বাসেই যাত্রা শুরু করি। দুপুরের মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছাই। সবাইকে নিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ ফ্লাইট রওনা দেয়। অবশেষে নিরাপদে মাতৃভূমিতে পা রাখি। আজ দুই দিন হলো গ্রামের বাড়িতে এসেছি। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে, সব কিছুর নাম জানি না। তবে বাংলাদেশ এম্বেসি আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। এখন যেভাবে ইরানকে রেখে এসেছি, আল্লাহ ভালো জানেন তারা কীভাবে আবার স্বাভাবিক হবে।

এআরবি

সিলেট সীমান্তে অর্ধকোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

সরকারি জমি ভোগ দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কলেজছাত্র নিহত

সুনামগঞ্জে হাওরের ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

৫৫ বছর আশ্বাসে আটকে থাকা সেতু নির্মাণের ঘোষণা এমপি এমরানের

হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু

হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

রড ছাড়াই শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে সুনামগঞ্জের পাগলা বড় জামে মসজিদ

সিলেটে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের মেধাবৃত্তির পুরস্কার প্রদান

২ মে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ও বাশিয়া নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাফলংয়ে অস্ত্র উদ্ধার, ৩ যুবক আটক