হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় শ্রমিক সংকট ও হারভেস্টার মেশিন না থাকায় পাকা ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। পৌরসভা, জলসুখা ও কাকাইলছেওর ঘরদাই এলাকায় আরো তিনটি হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠে মিলছে না সেগুলোর উপস্থিতি।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠে পেকে থাকা ধান কাটার অপেক্ষায় কৃষকেরা। একসঙ্গে ধান পাকার কারণে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা শিবপাশা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়ার গ্রামের কৃষক জজ মিয়া বলেন, ‘প্রায় পাঁচ একর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন একর জমির ধান ৮০ শতাংশের বেশি পেকে গেছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। কৃষি অফিস থেকে মাইকিং করা হচ্ছে পাকা ধান কাটার জন্য । কিন্তু শ্রমিক নেই, আবার এলাকায় হারভেস্টারও দেখা যায় না। একটি মেশিন মালিকের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি ১১ হাজার টাকা প্রতি একরে দাবি করেন।’
নোয়াপাড়া গ্রামের নূর মিয়া বলেন, ‘আজমিরীগঞ্জে হারভেস্টার আছে কিন্তু মাঠে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। পাকা ধান নিয়ে বিপাকে আছি, শ্রমিক পাচ্ছি না। অন্যদিকে অতিবৃষ্টির কারণে জমিতে হাঁটুর ওপর পানি জমেছে।’
শুক্রীবাড়ী গ্রামের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, ‘হাওরে শ্রমিক সংকটের কারণে প্রতি একর জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের ১৩ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এছাড়া মাড়াইয়ের জন্য একরে ১৫০০ টাকা গুণতে হচ্ছে। হারভেস্টার মেশিন না পাওয়ায় জমির ফসল রক্ষার্থে আমি শ্রমিক দিয়ে ধান কাটিয়েছি। মেশিন দিয়ে কাটলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা খরচ হতো। এ বছর শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণেরও বেশি। বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছি না। আবাদ খরচও বেড়েছে। এর মধ্যে ধানের দাম কম। সব মিলিয়ে আমরা বড় ক্ষতির মুখে।’
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অবশিষ্ট ধান দ্রুত ঘরে তোলার চাপ তৈরি হলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের ২৬ তারিখ থেকে টানা সাত দিন নিয়মিত অতিবৃষ্টি , শিলাবৃষ্টি ও স্থানীয় নদীগুলোতে বাড়তে পারে পানি। নদীতে পানি বাড়লে হাওরে ফসলি জমিতে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। পাকা জমির ধান কাটতে হতাশায় দিন পার করছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ভর্তুকির হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে তা তাদের কোনো কাজে আসছে না। অনেক মেশিন অচল, আবার কিছু মেশিন বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, হাওরে শ্রমিক সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে অন্যান্য এলাকা থেকে শ্রমিক আনা যায়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা চলছে। তবে কিছু মেশিন নষ্ট রয়েছে, যেগুলো মেরামতযোগ্য নয়।
জেডএম