হোম > সারা দেশ > সিলেট

হাওরে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

আতাউর রহমান, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জে হাওরাঞ্চলে শুকনো মৌসুমে শিশুরা হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষা নামলেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। তলিয়ে যায় বিদ্যালয়ের চারপাশ। ফলে দুর্ভোগ বাড়ে শিশুদের। সেসময় যাতায়াতে একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে নৌকা।

অনেক ক্ষেত্রে নৌকা সংগ্রহ, মেরামত কিংবা মাঝি নিয়োগে এক মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। ফলে বর্ষার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এতে যেমন পাঠদান ব্যাহত হয়, তেমনি কমে যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।

চলতি বছরও মধ্যনগর উপজেলার বলরামপুর, ফারুকনগর, বীরসিংহপাড়া, শালীয়ানীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয় চত্বর ও আশপাশের এলাকা এক মাসেরও বেশি সময় আগে পানিতে তলিয়ে গেলেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষার্থীদের পারাপারের উপযোগী নৌকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে বর্ষার শুরু থেকেই শিক্ষা কার্যক্রম আরো ব্যাহত হচ্ছে।

বীরসিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহাবুল আলম বলেন, কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করি। সকালে মাছ ধরতে হাওরে চলে যেতে হয়। প্রতিদিন বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না। পারাপারের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। পানিতে ভিজে যাতায়াত করলে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।

বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক চাম্পা আক্তার বলেন, কয়েকদিন আগে স্কুল খুললেও নৌকা না থাকায় শিশুরা ঠিকমতো যেতে পারছে না। অনেক সময় অভিভাবকেরা নিয়ে গেলেও সবাই তা পারে না। ফলে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, আর অন্য শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বীরসিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, বিদ্যালয় চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সহায়তায় আসছে। তবে শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য সরকারি কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি। তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্যোগেই নৌকা ও মাঝির ব্যবস্থা করতে হয়।

অন্যদিকে বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমা রঞ্জন সরকার বলেন, দুই বছর আগে জেলা পরিষদ থেকে শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য একটি নৌকা পেয়েছিলাম। ৭ জুন বিদ্যালয় খোলার পর সেটি মেরামতের জন্য শুকনায় তোলা হয়েছে। মাঝি নিয়োগের বিষয়েও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করেছি। জেলা পরিষদ থেকে নৌকা পেলেও মাঝির বেতন সরকার দেয় না। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়েই সেই ব্যয় বহন করতে হয়।

ফারুকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মো. আতিক ফারুকী বলেন, হাওরের প্রকৃতি ও জীবনযাত্রা বর্ষার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু এই প্রাকৃতিক বাস্তবতার কারণে শিশুদের শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই নৌকা ও মাঝির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয় বর্ষাকালে গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সেখানে সরকারিভাবে নৌকা, মাঝি এবং নিরাপদ পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলার ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪০টিতে বর্ষাকালে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়।তবে এসব বিদ্যালয়ের জন্য সরকারিভাবে নৌকা বা মাঝি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই। ইতোপূর্বে নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয় এমন বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জেডএম

সুনামগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

বাহুবলে দুই দফা সংঘর্ষে নিহত ২, গ্রেপ্তার এড়াতে পুরুষশূন্য চার গ্রাম

মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: ফয়সল এমপি

আগামীকাল চায়ের দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বাহুবলে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১

ট্রাফিক সপ্তাহে সিলেটে জরিমানায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়

নদী বাঁচলে বাঁচবে জীবন-জীবিকা ও অর্থনীতি: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

চাহিদা বেড়েছে সারা দেশে ফেঞ্চুগঞ্জের আনারসের

সুনামগঞ্জে সাড়া ফেলছে আর্জেন্টিনার ২০০ ফুটের পতাকা

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত