চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রপ্তানি আয়ে ভাটা চলছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত আট মাসে রপ্তানি আয় কমেছে তিন দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে রপ্তানি আয় সর্বোচ্চ কমেছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে। তৈরি পোশাক খাতে দুর্বল রপ্তানি এবং ফেব্রুয়ারিতে তীব্র মন্থরতার প্রভাবেই এ সংকোচন দেখা দিয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থ্যাৎ রপ্তানি আয় কমেছে তিন দশমিক ১৫ শতাংশ।
গত ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। এ মাসে রপ্তানি আয় নেমে আসে তিন দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে, যা জানুয়ারির তুলনায় ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। এছাড়া গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জানুয়ারিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পর ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়া এবং চালান কমে যাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।
ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক; অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা আসে এই খাত থেকে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ এসেছে পোশাক খাত থেকে। পোশাক ছাড়াও কৃষি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল ইত্যাদি পণ্য থেকে রপ্তানি আয় কমেছে। তবে ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বাড়তি শুল্কের কারণে রপ্তানি বাণিজ্যে এই বেহাল দশা। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আয় আরো কমবে। এতে অর্থনীতিতে সংকট বাড়বে বলে শঙ্কার কথাও জানান তারা।
এর আগে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে আট দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয়ের অঙ্ক ছিল ৪৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে চার দশমিক ২২ শতাংশ কম।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি (৫৫ বিলিয়ন) ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।