হোম > বাণিজ্য > বাজার বিশ্লেষণ

নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও চালের কেজিতে কমেছে ৫-৭ টাকা

সরদার আনিছ

ছবি: সংগৃহীত

নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে বেড়েছে পোলাও চাল, আটা, ময়দা, তেল, চিনি, ডাল, সবজি ও মুরগির দাম। রান্নার গ্যাস দুই দফায় ৬০০ টাকার বেশি বাড়লেও নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের দাম ক্রমেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

গতকাল নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পোলাও চাল, আটা, ময়দা, তেল, চিনি, ডাল, ডিম ও মুরগিসহ বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। নতুন করে পেঁয়াজের কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও রসুনের দামও বাড়তি। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সিদ্ধ চালের দাম ও সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

অনেক পণ্যের দাম বাড়লেও মিনিকেটসহ সব ধরনের চালের দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও জনতা রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী হাজী আবু ওসমান। তিনি বলেন, নতুন চাল বাজারে আসায় মিনিকেট চালের বস্তায় ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত এবং মাঝারি মানের ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে মোটা জাতের চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরের ইমাম উদ্দিন বাবলু আমার দেশকে বলেন, সব ধরনের সিদ্ধ চালের দাম মানভেদে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে পোলাও চালের দাম বাড়তির দিকেই রয়েছে। মুদি পণ্যের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। কিছুদিনের মধ্যে প্যাকেটজাত পোলাও চালের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা, কেজিতে আটা-ময়দার দাম ৫ টাকা, চিনি ৫ টাকা, মসুর ডাল ৫ টাকা, মুগ ডাল ১০ টাকা, লবণ ৩ টাকা বেড়েছে।

ডিম বিক্রেতা পলাশ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম আরো বেড়ে বর্তমানে ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ১৬০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম বলেন, আগের সপ্তাহ থেকে সবজির দাম কিছুটা কমলেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি। বৃষ্টির প্রভাবে আবারো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

আগের সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া শসা, বেগুন, মরিচ এবং পেঁপের মতো অন্যান্য সবজির দাম কিছুটা কমেছে। নয়াবাজারে প্রতি কেজি ধুন্দুল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে এর বেশি দামে। গতকাল শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সাজনা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমরা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে মানভেদে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের ডজনে ৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল কারওয়ান বাজারে মুরগির ডিমের ডজন ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হলেও পাড়া মহল্লার দোকানে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিমের পাশাপাশি লেয়ার মুরগির দামও আগের চেয়ে চড়া। প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি ৩৮০ টাকা, আর আগের দামেই ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের আমার দেশকে বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। তদারকি সংস্থাগুলোও এক প্রকার নিশ্চুপ থাকছে। মনে হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের ক্রেতার পকেট কাটতে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ত্রাহি অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরকারের নজরদারি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, কার্যকর আজ থেকেই

কোরবানির মসলার বাজারেও জ্বালানি সংকটের অজুহাত

হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে ভিটামিন ‘ডি’ ও ‘এ’র পুষ্টিগুণ

অন্য পণ্য না নিলে মিলছে না বোতলজাত তেল

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরকারকে পাম্প মালিকদের সাধুবাদ

দেশে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ছাড়াল আড়াই লাখ

বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার

দেশের সব দোকান-শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত

চাহিদার চাপে বাড়ছে মাংস-মসলার দাম, কমছে সবজি ও ডিমের

শিশুদের পছন্দ বৈচিত্র্যময় নকশার পোশাক