ঈদবাজার
ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে নামি-দামি শপিংমল, মার্কেট থেকে ফুটপাত সবখানেই ছিল ব্যস্ততা। চাকরিজীবীরা সপ্তাহের কর্মদিবসে খুব একটা সময় বের করতে পারেন না। তাই ছুটির দিনগুলোকেই কেনাকাটার জন্য বেছে নেন তারা। তাই বাড়তি চাপ পড়ে ঈদের বাজারে। বাচ্চাদের পোশাক, নারীদের থ্রি-পিস, শাড়ি, জুতা, ব্যাগ, ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট—সব দোকানেই এখন ঘুরছেন ক্রেতারা। রাস্তাঘাটেও প্রচুর যানজট তৈরি হয়েছে। ছুটির দিন ক্রেতাদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন মার্কেটের নিরাপত্তারক্ষীরাও হিমশিম খাচ্ছেন। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে এমনই চিত্র চোখে পড়ে।
ছুটির দিনেও সড়কের দীর্ঘ যানজট পাড়ি দিয়ে রাজধানীর মিরপুর-পল্লবী থেকে স্ত্রী রেবেকা, মেয়ে রায়া আর ছেলে নাজিমকে নিয়ে পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে এসেছেন মিজানুর রহমান মাসুম। এখানে এক ছাদের নিচেই পরিবারের সবার কেনাকাটা সারবেন। মানুষের ভিড় থাকলেও এখানে স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপদে ও ঝামেলাহীন কেনাকাটা করা যায়। দাম একটু বেশি হলেও মানসম্মত পোশাক পাওয়া যায় বলে বসুন্ধরা শপিংমলই কেনাকাটার জন্য তার প্রথম পছন্দ তালিকায় সব সময়ই থাকে বলে আমার দেশকে জানান তিনি।
ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের রাপা প্লাজায় জামা-জুতা কিনতে এসেছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী রিমি। তিনি ইন্ডিয়ান এবং পাকিস্তানি পাথরের কারুকাজের থ্রি-পিস কিনবেন। ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে পাথরের কাজ করা এক জোড়া জুতাও কিনবেন। দাম নিয়ে ভাবছেন না, পছন্দ হলে কিনে নিবেন। ঈদ যেহেতু একটি বড় উৎসব, তাই দাম নয়, পছন্দকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল ঘুরে দেখা গেছে, নারীদের জন্য রয়েছে সালোয়ার-কামিজ, লং ও শর্ট কুর্তি, টপস এবং বৈচিত্র্যময় শাড়ির কালেকশন। অন্যদিকে পুরুষদের জন্য রাখা হয়েছে রেগুলার, কাট-বেজড ও ফিটেড পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল ফতুয়া ও টি-শার্ট।
ফার্মগেট এলাকার সেজান পয়েন্ট মার্কেটের ‘গেটাপ পয়েন্টে’ দোকানের বিক্রেতা রনি জানান, তার দোকানে ইন্ডিয়ান বুটিকস, স্টোন ওয়ার্ক, মার্শাল ব্র্যান্ডের থ্রি-পিস ক্রেতার চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। মধ্যবিত্ত ক্রেতারা বেশি পাকিস্তানি কোক প্রিন্টের ড্রেস কিনছেন। এগুলোর দাম ১৩০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে। মার্শাল ব্রান্ডের ড্রেস ১৪০০ থেকে ১৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরমের সময়ে ঈদ হওয়ায় দেশীয় সুতি বুটিকসগুলো ক্রেতারা বেশি কিনছেন।
বিক্রেতা রনি আরো জানান, এবারের ঈদে তার দোকানে বিক্রি ভালো। তাদের ড্রেসগুলো সব বয়সি ক্রেতা বেশ পছন্দ করে নিচ্ছেন। তাছাড়া দোকানের ক্রেতাদের উপস্থিতি ও বিক্রি নির্ভর করে ড্রেসের কালেকশনের ওপর। যে দোকানে নিত্যনতুন কালেকশন বেশি, সেই দোকানে বিক্রিও ভালো।
বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের তৃতীয় তলার দেশি দশের ফ্লোরে দেশালের শোরুমে দেশীয় তাঁতের থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ১৩০০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে। একটি ফ্লোরে ১০টি দেশীয় ব্র্যান্ডের দোকান থাকায় ক্রেতাদের ভিড় সব সময় লেগেই থাকে বলে জানান বাংলার মেলার বিক্রেতা রেবেকা। উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত দেশীয় পোশাক যারা পছন্দ করেন, তারা নিশ্চিন্তে দেশি দশের ফ্লোরটা একুট ঢুঁ মেরে দেখে যেতে পারেন।
নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ঈদ কেনাকাটার বাজার ফুটপাতও পুরোপুরি জমে উঠেছে। হাঁকডাক করে পণ্য বিক্রি করছেন ফুটপাতের বিক্রেতারা। ফার্মগেট এলাকার ফুটপাতের বিক্রেতা রহিম জানান, সকাল ১০টায় দোকান খোলা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত বেচাবিক্রি চলতে থাকে। এখানে যেসব পণ্য পাওয়া যায়, সেগুলোর দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকার মধ্যে। এখানে পাঞ্জাবি পাওয়া যায় ৫০০-৮০০ টাকায়। ফুটপাতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুতা পাওয়া যায় ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।