র্যাবের ব্রিফিং
রাজধানী থেকে কুমিল্লা মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বড় ধরনের অপরাধ দমনে সাফল্য দেখিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একদিকে চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উন্মোচন, অন্যদিকে টেলিগ্রামভিত্তিক পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট বাণিজ্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভেঙে দেওয়া।
সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
কুমিল্লায় হত্যাকাণ্ড: ছিনতাই চক্রের ৫ জন গ্রেপ্তার
র্যাব জানায়, ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) থেকে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেওয়া বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে গত ২৪ এপ্রিল রাতে নিখোঁজ হন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় র্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ২৬ এপ্রিল অভিযান পরিচালনা করে মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং মোঃ সুজন’কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার লাকসাম রেলওয়ে থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি ও মাদক মামলা রয়েছে। তারা দূরপাল্লার যাত্রীদের লক্ষ্য করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করত।
জানা যায়, ঘটনার রাতে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর বুলেট বৈরাগীকে টার্গেট করা হয়। তাকে জোর করে সিএনজিতে তুলে মারধর ও ছিনতাই করা হয়। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলে মাথায় গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়।
টেলিগ্রামভিত্তিক সাইবার চক্র: শিক্ষার্থীরা ছিল প্রধান টার্গেট
একই সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, টেলিগ্রাম অ্যাপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি ভয়ংকর সাইবার অপরাধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই চক্রটি দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের টার্গেট করে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে তা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করত।
২৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মেরাজুর রহমান আরমান, বিল্লাল হোসেন অন্তর, রবি আলম মমিন, আল আমিন ইসলাম ও হাসিব নামে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্যমতে, চক্রটি বিভিন্নভাবে কনটেন্ট সংগ্রহ করত—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে তথ্য চুরি, ব্রেকআপের পর প্রাক্তন প্রেমিকদের কাছ থেকে কনটেন্ট সংগ্রহ, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে গোপন ছবি ফাঁস। তাদের ব্যবহৃত ডিভাইস থেকে প্রায় দেড় লাখ স্পর্শকাতর ছবি ও ভিডিও এবং প্রায় ৩৫০টি টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে কনটেন্ট সরবরাহ করা হতো।
অন্যান্য অভিযানেও সাফল্য
র্যাব আরও জানায়, ১৪ এপ্রিল দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে একটি চীনা প্রকল্পে বিদেশি নাগরিককে কুপিয়ে জখম ও ডাকাতির ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পদ্মা নদীতে নৌ পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত এক আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব এর মুখপাত্র বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।