হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

আতিকুর রহমান, চবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের পর গণহত্যায় জড়িত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার নিষিদ্ধ করে ছাত্রলীগকে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে আইন পাস করে। এরপরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের কার্যক্রম থেমে নেই। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত চবিতে প্রায় ৯টি পৃথক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ছাত্রলীগ। এ সময় তাদের পোস্টার সাঁটানো, দেয়ালে ব্যানার টানানো এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনসহ নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর আলাওল হলের সামনে ব্যানার টানিয়ে তারা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। এর পরের মাসে, ১৬ ডিসেম্বর সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্যকে ব্যঙ্গ করে পোস্টার সাঁটায় নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সংগঠনটির চার নারী নেত্রী কেক কেটে সংগঠনের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন। একই বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চ জাতীয় দিবস পালন করতে দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি ১৯ ও ২৭ এপ্রিল এবং ১১ ও ১৭ মে ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও পোস্টার সাঁটানোর ঘটনাও ঘটে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। সেই লক্ষ্যে গত ৭ মে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত চাওয়া হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন। একই সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য জুলাইযোদ্ধা। ছাত্রলীগের এমন ধারাবাহিক তৎপরতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য কার্যক্রম ক্যাম্পাসের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

জানতে চাইলে জাতীয় ছাত্রশক্তি চবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহাথির আমার দেশকে বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে চবি প্রশাসন ছাত্রলীগ, ফ্যাসিবাদপন্থি আওয়ামী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এখনো ছাত্রলীগের উৎপাত দেখা যায়। এছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান থেকে সরে এসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নিজেদের স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি করছে। ফলে তাদের মধ্যকার আধিপত্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা ও স্বার্থকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য নষ্ট করছে। এর সুযোগ নিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীরা। 

ছাত্রলীগের এই তৎপরতার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসুকে দোষারোপ করছেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি আমার দেশকে বলেন, ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতে দেওয়া হবে না। আমরা এটা প্রতিহত করব।

চাকসু ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার বলেছি যেন পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়। এ দাবিতে সংবাদ সম্মেলনেও করেছি। কিন্তু প্রশাসন উদাসীন ভূমিকা পালন করছে। পুরো ক্যাম্পাসে সিসিটিভি না থাকায় ছাত্রলীগ এটার সুযোগ নিয়ে মধ্যরাত বা ভোরের দিকে এসব কাজ করছে।

ছাত্রদল-শিবিরের দ্বন্দ্বের সুযোগ ছাত্রলীগ নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এর সঙ্গে একমত। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা বিভাজন দেখা যাচ্ছে। যার সুযোগ নিচ্ছে ছাত্রলীগ।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সিসিটিভি নেই, এটা সত্য। ভৌগোলিক কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উপাচার্য স্যার পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। 

ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও এখানে জড়িত। সুতরাং ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।

প্রথমবারের মতো বিভাগীয় শহরে বুয়েট শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বাসে ঈদযাত্রা

ঢাবিতে অবরুদ্ধ কবি নজরুলের সমাধি, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ

নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য চবি শিবিরকর্মীর

চবির সেই ছাত্রদল নেতা বান্ধবীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক

শহীদ জিয়া মহিলা কলেজের সভাপতি হলেন সাঈদুল হোসেন সাহেদ

শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম

রামিসা হত্যার প্রতিবাদে আজাদী মঞ্চের মানববন্ধন

জবি প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে জকসুর শুভেচ্ছা

হাবিপ্রবিতে সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের, আটক ৪

ধর্ষণ, হত্যা ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে খুবিতে বিক্ষোভ