হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

রাবি ক্যাম্পাসে খোলা আকাশের নিচে সম্প্রীতির ইফতার

ফাহমিদুর রহমান ফাহিম, রাবি

রমজানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে ভ্রাতৃত্ব আর তারুণ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলের সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলতে শুরু করে, তখন থেকেই নীরব ক্যাম্পাস প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে ইফতারের প্রস্তুতিতে। খোলা আকাশের নিচে সবুজ ঘাসে বসে শিক্ষার্থীদের এ ইফতার আয়োজন এখন রাবির চিরায়ত ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, আসরের নামাজের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল মাঠ, জুবেরী মাঠ, শহীদ মিনার, সাবাস বাংলাদেশ চত্বর ও ইবলিশ মাঠে ভিড় জমাতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বন্ধুবান্ধব ও সহপাঠীদের নিয়ে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ঘাসের ওপর কাগজ বা দস্তরখানা বিছিয়ে চলে ইফতারির পসরা সাজানোর ব্যস্ততা। খেজুর, ছোলা-মুড়ি, পিঁয়াজু আর শরবতের পাশাপাশি বাহারি ফলের সমারোহে ভরে ওঠে প্রতিটি আসর। কেবল খাবারের তৃপ্তি নয়, এ আয়োজন যেন হয়ে ওঠে পারস্পরিক কুশলবিনিময় আর আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু।

ক্যাম্পাসের এ ইফতার আয়োজনে নেই কোনো বিশেষ শ্রেণিবিভেদ। হলের বড় ভাই, ছোট ভাই, বর্তমান ও প্রাক্তনÑসবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে যান একই বৃত্তে। শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীরাই নন, অনেক সময় অন্য ধর্মাবলম্বী বন্ধুরাও যোগ দেন এ আয়োজনে, যা ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগ, ব্যাচ, জেলা সমিতি এবং সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বড় পরিসরে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এ বছরও রমজান মাসের অর্ধেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা চালু থাকায় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ হলে বা মেসে অবস্থান করে। পরিবারের সঙ্গে ইফতারের সে চিরাচরিত আমেজ মিস করলেও বন্ধুদের সঙ্গে এ যৌথ আয়োজন সে শূন্যতা অনেকটাই ভুলিয়ে দেয়। মায়ের হাতের ইফতারের স্বাদ হয়তো এখানে নেই, কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার এ আনন্দ সারাজীবন মনে রাখার মতো। ক্যাম্পাসের সর্বত্র উৎসবের ছোঁয়া শুধু বড় মাঠগুলোই নয়, হলের ছাদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের সেমিনার কক্ষÑসর্বত্রই এখন ইফতারের উৎসবমুখর পরিবেশ।

ইফতারের কয়েক মিনিট আগে মাঠে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। সবাই যার যার সামনে ইফতারি সাজিয়ে মোনাজাতের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। আজান শোনার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর আর শরবত মুখে শুরু হয় ইফতার। ক্যাম্পাসে এ আয়োজন কেবল ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যম নয়, বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সৌহার্দ ও ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।

মাঠে ইফতার করতে আসা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম হায়দার জানান, হলের বা মেসের চার দেয়ালের মধ্যে ইফতার তো সব সময়ই করি, কিন্তু খোলা আকাশের নিচে এ সবুজ ঘাসে সবার সঙ্গে হয়ে বসার অনুভূতিই অন্যরকম। এখানে আমরা শুধু ইফতার করি না, বরং সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে বন্ধু আর বড় ভাই-ছোট ভাইদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠি। এ খোলা মাঠ যেন আমাদের সবার মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে নেই কোনো ভেদাভেদ, আছে শুধু একতা আর ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব নিদর্শন।

সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থী তাপস রায় বলেন, আমি ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়েও আমার মুসলিম বন্ধুর ইফতারে অংশ নেওয়া আমার কাছে গভীর আনন্দ ও সম্মানের বিষয়। রমজান মুসলমানদের জন্য পবিত্র মাস, ইফতারে আমি সে সাধনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বন্ধুর পাশে বসি। যখন আজানের ধ্বনি ওঠে আর সবাই খেজুর হাতে নেয়, তখন আমি অনুভব করি, ধর্ম আলাদা হলেও হৃদয়ের বন্ধন এক। ইফতারের সে মুহূর্তে আমি নিজেকে আলাদা মনে করি না, বরং একজন বন্ধু, একজন সহযাত্রী হিসেবে পাশে থাকি। আমার কাছে এটি কোনো ধর্মীয় আচার পালনের বিষয় নয়, বরং বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্মানের প্রকাশ।

মধ্যরাতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিল ডাকসু

এবার শিবিরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ জকসুর সেই নেতার

শাবিপ্রবিতে ছাত্রী হল সংলগ্ন টিলায় আগুন, ৬ নিরাপত্তাকর্মী আহত

নামাজের বিরতিতে শিবিরের ইফতারের মঞ্চে বিতর্কিত ভিডিও বানায় জকসুর সেই নেতা

অষ্টম ও ইবতেদায়ী বৃত্তিতে তা'মীরুল মিল্লাত দেশের শীর্ষে

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পেলেন বাকৃবির দুই নেতা

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুমোদনে ইউজিসির নীতিগত সিদ্ধান্ত

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ-বিএসএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নেতা