হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

৪৭ বছরে ১৪ উপাচার্যের মধ্যে মেয়াদ পূর্ণ করেছেন একজন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রজ্ঞা সর্বজয়া, ইবি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শান্তিডাঙায় বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ১৪ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাদের মধ্যে মাত্র একজন পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব শেষ করতে পেরেছেন।

ইবির ৪৭ বছরের ইতিহাসে ১৪ জন উপাচার্যের মধ্যে ১৩ জনই তাদের দায়িত্বের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। আওয়ামী সরকারের পতনের পর নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ তার মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।

নিয়োগ-বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে উপাচার্যদের অপসারণ কিংবা পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উপাচার্যদের পরিবর্তন করে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠার পর ইবির প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান এএনএম মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তার নামে ইবিতে শিক্ষকদের একটি আবাসিক ভবনের নামকরণ করা হয়েছে। তিনি ১৯৮১ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৮৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাদের বিরোধ ঘটে। এর জেরে আন্দোলনের মুখে ১৯৮৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর মেয়াদ পূরণের মাত্র চার দিন আগে উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে তিনি অপসারিত হন।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে ইবিতে দায়িত্ব পান। তিনি ২৮ ডিসেম্বর ১৯৮৮ থেকে ১৯৯১ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গাজীপুর থেকে পুনরায় কুষ্টিয়ায় স্থানান্তরিত করতে অবদান রাখেন। তবে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রদলের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ছাত্রদলের আন্দোলনের মুখে যৌন কেলেঙ্কারি এবং শিক্ষকদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন চাপের মুখে ১৯৯১ সালের ১৭ জুন তাকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তৃতীয় উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুল হামিদ। তিনি ১৮ জুন ১৯৯১ থেকে ২১ মার্চ ১৯৯৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধ নিয়োগ দিতে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীরা তাকে রোজার মধ্যে বাসায় তিনদিন অবরুদ্ধ করে রাখে। এরপর রাতের আঁধারে ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি।

ইবির চতুর্থ উপাচার্যের দায়িত্বে আসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মাদ ইনাম-উল হক। তিনি ৯ মে ১৯৯৫ থেকে ২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রকৌশল অনুষদে কম্পিউটার, তড়িৎ ও রাসায়নিক প্রকৌশল নিয়ে তিনটি বিভাগ চালু করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯৭ সালের ২ সেপ্টেম্বরে আন্দোলনকারীরা তাকে লাঞ্ছিত করলে তিনি আর ফিরে আসেননি।

পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়িত্ব পান অধ্যাপক কায়েস উদ্দিন। তিনি ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ থেকে ১৯ অক্টোবর ২০০০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের ওপর তিনটি বিভাগ চালু করেন তিনি। তবে দুর্নীতি, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতার অভিযোগে আন্দোলন শুরু হলে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এরপর আবারও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মাদ লুৎফর রহমান ইবির ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০ অক্টোবর ২০০০ থেকে ৩ নভেম্বর ২০০১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি পদত্যাগ করে চলে যান।

ইবির সপ্তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি ১০ ডিসেম্বর ২০০১ থেকে ২ এপ্রিল ২০০৪ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তবে লাগাতার আন্দোলনের মুখে মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগে অপসারিত হন তিনি।

অষ্টম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম রফিকুল ইসলাম। তিনি ৩ এপ্রিল ২০০৪ থেকে ১০ জুলাই ২০০৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ লঙ্ঘনের জন্য অভিযোগ তোলে। পরে তিনি ২০০৬ সালের ১০ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এরপর প্রথমবারের মতো ইবির কোনো শিক্ষক ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফয়েজ মুহাম্মাদ সিরাজুল হক প্রতিষ্ঠানটির নবম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন । তিনি ১০ অগাস্ট ২০০৬ থেকে ৮ মার্চ ২০০৯ পর্যন্ত প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। বিতর্কিত কিছু শিক্ষক তার ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সমালোচনার মুখে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেন তিনি।

দশম উপাচার্য হিসেবে ইবি থেকে নিয়োগ পান এম আলাউদ্দিন। তিনি ৯ মার্চ ২০০৯ থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালে এমএ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবন (বর্তমান ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবন), শেখ হাসিনা হল (বর্তমান জুলাই ৩৬ হল) এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উপাচার্য আলাউদ্দিন এবং উপ-উপাচার্য কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে শিক্ষকরা ধর্মঘট শুরু করেন। এর ফলে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে অপসারণ করা হয়।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল হাকিম সরকার ইবির একাদশ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি ২৭ ডিসেম্বর ২০১২ থেকে ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মার্কেটিং, লোক প্রশাসন, ফোকলোর নামে তিনটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ২০১৬ সালের ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাকে অপসারণ করেন।

ইবির দ্বাদশ উপাচার্য হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি ২১ অগাস্ট ২০১৬ থেকে ২০ অগাস্ট ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। রশিদ আসকারীই প্রথম এবং একমাত্র ব্যক্তি যিনি ইবির উপাচার্য হিসেবে তার পূর্ণাঙ্গ মেয়াদকাল সমাপ্ত করতে পেরেছেন। তিনি বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফার্মেসিসহ ৯টি বিভাগ চালু করেন।

রশিদ আসকারীর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক শেখ আব্দুস সালাম ইবির ত্রয়োদশ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাস আগে তিনি পদত্যাগ করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্দশ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তার দায়িত্বকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ড ঘটে। এই দুই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি।

ইবিতে ১৪ জন উপাচার্যের মধ্যে সর্বাধিক নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অন্যদিকে ইবি নিয়োগ পেয়েছে মাত্র তিনজন উপাচার্য। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইবিতেও উপাচার্য পরিবর্তনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে এবার উপাচার্য পরিবর্তন করা হলে ইবি থেকেই উপাচার্য নিয়োগ চাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্যের আশ্বাসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন প্রত্যাহার

এবার জাবির প্রশাসনিক ভবনে তালা একদল শিক্ষার্থীর

ডুয়েটে ত্রিমুখী সংঘর্ষে শিক্ষার্থী, পুলিশসহ আহত ১০

শাবিপ্রবিতে নিয়ম লঙ্ঘন করে শর্ত শিথিলে কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা

বেরোবিতে জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

পোল্ট্রি দেশের পুষ্টি নিরাপত্তার অন্যতম চালিকাশক্তি: বাকৃবি উপাচার্য

জাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘোষণা

জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে যা জানা গেল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

জবি আইনজীবী সমিতির সভাপতি তরিকুল, সম্পাদক পলাশ