উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বাংলাদেশ থেকে প্রায় আট হাজার মাইল দূরে এই বৈশ্বিক আসর বসলেও এর উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের আনাচে-কানাচে। সেই উচ্ছ্বাসের ঢেউ লেগেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসেও।
প্রিয় দলকে সমর্থন জানানো, প্রতিপক্ষকে নিয়ে হাস্যরস-ব্যঙ্গ কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিপক্ষে অবস্থান—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থীদের এই বিশ্বকাপ উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ২০০ বর্গফুটের একটি বিশাল এলইডি স্ক্রিন। এখানে বসে খেলা উপভোগ করছেন ফুটবলপ্রেমীরা। এ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, সমর্থকদের উল্লাস আর প্রতিটি গোল উদযাপনে জমে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস।
গত মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচেও দেখা গেল একই চিত্র। টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে খেলা শুরুর আগেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা। কারও হাতে ছাতা, কেউ আবার গায়ে পলিথিন জড়িয়ে ছুটে আসেন প্রিয় দলের সমর্থন জানাতে। অন্যদিকে, ব্রাজিলের সমর্থকেরাও পিছিয়ে নেই। তারা শহীদ মিনারের এসেছেন মিসরের পক্ষে সমর্থন জানাতে। এদিকে বৃষ্টির মাঝেই বড় পর্দায় ছাত্রদলের খেলা দেখানোর প্রশংসা করতে দেখা গেল বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল-আরাফ আমার দেশকে বলেন, ছাত্রদলকে ধন্যবাদ। শুধু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, তারা প্রায় প্রতিটি ম্যাচই বড় পর্দায় দেখার ব্যবস্থা করেছে। চাকসু এমন ঘোষণা দিলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিজে ভিজে শিক্ষার্থীদের খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করছেন।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আমরা শিক্ষার্থীদের বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচসহ পাঁচটি ম্যাচ নিজস্ব অর্থায়নে দেখানো হয়েছে। অদৃশ্য কারণে স্পন্সর না পেলেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালের মতো জনপ্রিয় দলগুলোর ম্যাচ নিয়মিত দেখিয়েছি। তবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন ভাই এখন আমাদের সহযোগিতা করছেন।
তিনি আরও বলেন, পুরো আয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য আমাদের ৫০ সদস্যের একটি শৃঙ্খলা কমিটি কাজ করছে। খেলা চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, চারজন সহকারী প্রক্টর, নিরাপত্তা প্রধানসহ দুইজন নিরাপত্তা সুপারভাইজার ও আটজন নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী, পুলিশ ফাঁড়ির ইন-চার্জসহ আট সদস্যের একটি টিম এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছে।
জানতে চাইলে সহকারী প্রক্টর নূরুল হামিদ কানন আমার দেশকে বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য প্রক্টরিয়াল বডি, নিরাপত্তা দপ্তর, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।