বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মাস্টার কোচিং সেন্টারের নামে ফেসবুকে পোস্ট করে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মুকতাদির রিজভী ও মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান মুন্নার (ওরফে আহম্মেদ মুন্না)। তারা ‘লিংকার্স ইন বরিশাল ইউনিভার্সিটি’ পেজের অ্যাডমিন ও মডারেটর।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, সম্মানহানির ব্ল্যাকমেইল করে তার থেকে চাঁদাদাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে এবং তার প্রতিষ্ঠানকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
চাঁদা দাবি সংশ্লিষ্ট একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের নিকট এসেছে। রেকর্ডে অভিযুক্ত আহমেদ মুন্না ও ভুক্তভোগী রিয়াজের মধ্যে সমঝোতা বিষয়ক কথোপকথন রয়েছে। যাতে টাকা পয়সা লেনদেনেরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এছাড়াও রেকর্ডটিতে বিষয়টি সমঝোতা করার জন্য ৬০ হাজার টাকার একটি আলাপও উঠে আসে এবং সমাধানের জন্য পেজটির অ্যাডমিন মুকতাদির রিজভীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য বারবার বলতে শোনা যায় মুন্নাকে ।
চাঁদাদাবির বিষয়ে ভুক্তভুগী রিয়াজ হোসেন জানান, গত ৪ মার্চ লিংকার্স পেজ থেকে তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বকেয়া নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। এর পরদিন ৫ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে লিংকার্সের মডারেটর ইমরান মুন্না (মার্কেটিং ১২তম ব্যাচ) এবং তার এক সহযোগী রিয়াজের অফিসে এসে সরাসরি ৩০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে আরো পোস্ট করা হবে এবং সম্মানহানি করা হবে বলে হুমকি দেয়। পরিস্থিতির চাপে পড়ে রিয়াজ তাৎক্ষণিকভাবে মুন্নাকে ৫,০০০ টাকা দিতে বাধ্য হই।
তবে অভিযুক্ত মডারেটর ইমরান মুন্না চাঁদা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এখানে কোনো টাকা পয়সার লেনদেনই হয় নাই। শুধু শুধু আমাদের নামে পোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে লিংকার্স পেজের এডমিন মুকতাদির রিজভী বলেন, রিয়াজের কোচিং সেন্টারের কয়েকজন শিক্ষকের বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পেজে পোস্ট করা হয়। পরবর্তীতে রিয়াজ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নানাভাবে সমঝোতার চেষ্টা করেন এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেন।
তবে পেজের মডারেটর ইমরান মুন্নার ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেয়ার অভিযোগ বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান মুকতাদির রিজভী।
উল্লেখ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করা অবৈধ পেজটি এরআগেও আত্মহত্যার ভুল খবর প্রচারসহ একাধিক ভুল, অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পেজটি নিষিদ্ধ পরবর্তী সময়েও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকে নিয়ে দীর্ঘ লাইভ সম্প্রচার করে বিতর্কের সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, পেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে জবাবদিহি বিহীন বিতর্কিত সব কর্ম কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ক্ষুন্ন করছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পেইজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।