হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

শিশুর নাক ডাকা ও প্রতিকার

অধ্যাপক শহিদুল হক

শিশুদের নাক ডাকাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে চাইল্ডহুড স্লিপ ডিসঅর্ডার ব্রিদিং বা সংক্ষেপে স্লিপ ডিসঅর্ডার ব্রিদিং বলা হয়। এর মধ্যে হালকা নাক ডাকা থেকে শুরু করে গুরুতর সমস্যার পর্যায়গুলো, যেমন অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শিশুদের নাক ডাকার কারণ

শিশুদের নাক ডাকার বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে, যা তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে এবং ঘুমের সময় সমস্যা সৃষ্টি করে। এ সমস্যার কয়েকটি মূল কারণ হলো—

অ্যাডেনয়েড ও টনসিলের স্ফীতি : বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের নাক ডাকার প্রধান কারণ হলো অ্যাডেনয়েড (নাকের পেছনের টিস্যু) ও টনসিলের আকার বড় হয়ে যাওয়া। এটি শ্বাসনালিতে বাধা সৃষ্টি করে, যা নাক ডাকার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া : এটি একটি এমন শারীরিক সমস্যা যেখানে ঘুমের সময় শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যায় এবং সংকুচিত হয়ে আসে। ফলে শিশু শ্বাস নিতে বাধা পায় এবং নাক ডাকার পাশাপাশি মাঝে মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে । শিশুদের নাক ডাকার অন্যতম গুরুতর কারণ এটা।

অ্যালার্জি ও সাইনাসের সংক্রমণ : শিশুদের শ্বাসনালিতে অ্যালার্জি বা সাইনাসের সমস্যা থাকলে নাক বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শ্বাসনালিতে বাধা তৈরি হয় এবং এতে নাক ডাকার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্থূলতা : অতিরিক্ত ওজন হলে ঘাড় ও শ্বাসনালির চারপাশে টিস্যুর চাপে শ্বাসের পথ সংকুচিত হয়, ফলে শিশুদের মধ্যে নাক ডাকার প্রবণতা বাড়ে।

জন্মগত ও গঠনগত সমস্যা : কিছু শিশু জন্মগতভাবে এমন শারীরিক গঠন নিয়ে জন্মায়, যা তাদের বাধা সৃষ্টি করে, যেমন নাকের হাড়ের বাঁকা অংশ (ডেভিয়েটেড নেজাল সেপ্টাম) বা মুখ ও গলার পেশিগুলোর দুর্বলতা।

পরিবারের নাক ডাকার ইতিহাস : অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নাক ডাকার প্রবণতা থাকলে শিশুরাও এই সমস্যা নিয়ে জন্মাতে পারে।

শিশুদের নাক ডাকার শারীরিক প্রভাব

শিশুদের নাক ডাকার সমস্যা অবহেলা করলে তাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন ঘুমের ঘাটতি । পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শিশুর মধ্যে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঘুমের ঘাটতির কারণে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে এটি শিশুর হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে হৃদরোগ বাড়াতে পারে।

শিশুর নাক ডাকার প্রতিকার

শিশুদের নাক ডাকার সমাধানের জন্য নিম্নলিখিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে—

১. ওজন নিয়ন্ত্রণ : শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করা যেতে পারে।

২. অ্যাডেনয়েড ও টনসিলের অপারেশন : শিশুর অ্যাডেনয়েড বা টনসিল বড় হলে শ্বাস নিতে বাধা সৃষ্টি হয়।

৩. অ্যালার্জি ও সাইনাসের চিকিৎসা : নাকের স্প্রে বা অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ ব্যবহার করে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা কমানো যায়। সংক্রমণ থাকলে এটির জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন।

৪. Capp (Continuous Positive Airway Pressure Therapy) : অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য ডাক্তার capp থেরাপি ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি যন্ত্র, যা ঘুমের সময় শ্বাসনালি খোলা রাখতে সহায়তা করে।

৫. ব্যবহারে সঠিক অভ্যাস : শিশুদের পাশ ফিরে ঘুমানোর অভ্যাস করানো যেতে পারে, কারণ এতে তারা কম বাধা পায় এবং নাক ডাকা হ্রাস পায়।

শিশুদের নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করা উচিত নয়। দৈনন্দিন জীবন শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি নাক ডাকার সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি হয়, তা হলে সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত একজন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নিয়মিত চেকআপ করানো উচিত।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, নাক কান গলা বিভাগ,

সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

গর্ভবতী নারীরা নিরাপদে রোজা রাখবেন যেভাবে

ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করতে যা করবেন

‘মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তার মানুষের পেছনে ঘুরবে’

খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা কেন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী?

রোজায় নাক-কান গলার চিকিৎসা

খাদ্য ওষুধের কাজ করে?

বসন্তে ছড়িয়ে পড়া রোগ

বিষণ্ণতায় ওষুধের চেয়েও কার্যকর হতে পারে নাচ

আয়ুর্বেদিকের কোন ওষুধ ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

জেনে নিন পিঠের ব্যথা এড়ানোর সঠিক উপায়