হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

কীভাবে কাজ করে ‘ফর ইউ পেইজ’

আরিফ বিন নজরুল

আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই দেখা যায়—ঠিক যেন আমাদের মনের কথা বুঝে ভিডিও বা পোস্ট সাজানো। কখনো এমন ভিডিও সামনে আসে, যা আমরা খুঁজেও দেখিনি। তবু সেটিই যেন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ জাগায়। এই অভিজ্ঞতার পেছনে কাজ করে রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম। যা অনেক প্ল্যাটফর্মে “For You Page” বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফিড হিসেবে পরিচিত। যেমন TikTok-এর ‘For You’ ফিড কিংবা Instagram-এর রিলস রেকমেন্ডেশন ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে কনটেন্ট সাজায়।

এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য খুবই সরল। ব্যবহারকারীকে যত বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে রাখা যায়। আপনি কোন ভিডিওতে থামলেন। কতক্ষণ দেখলেন। কোথায় লাইক দিলেন। কোন ভিডিও স্কিপ করলেন। এসব ক্ষুদ্র আচরণই অ্যালগরিদমের কাছে মূল্যবান সংকেত। উদাহরণ হিসেবে, আপনি যদি বারবার রান্নার ভিডিও দেখেন বা ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্টে সময় দেন। তাহলে অ্যালগরিদম ধরে নেয় এটাই আপনার আগ্রহের ক্ষেত্র। ফলে ধীরে ধীরে আপনার ফিডে সেই ধরনের ভিডিওই বেশি দেখা যায়।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হলো watch time। একটি ভিডিও কতক্ষণ দেখা হলো। যদি দর্শক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিওটি দেখে। তাহলে অ্যালগরিদম ধরে নেয় কনটেন্টটি আকর্ষণীয়। এর পর আসে engagement । অর্থাৎ লাইক, কমেন্ট, শেয়ার বা সেভ করার মতো প্রতিক্রিয়া। এসব কার্যকলাপ অ্যালগরিদমকে জানায় যে ভিডিওটি দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করছে। অনেক সময় একটি নতুন ভিডিও অল্প কিছু মানুষের কাছে দেখানো হয়। তাদের প্রতিক্রিয়া ভালো হলে সেটি ধীরে ধীরে আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর সামনে পৌঁছে যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কনটেন্টের বৈশিষ্ট্য। ভিডিওর ক্যাপশন, হ্যাশট্যাগ, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, এমনকি ছবির ভেতরের অবজেক্টও বিশ্লেষণ করা হয়। আধুনিক অ্যালগরিদম মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ভিডিওর বিষয়বস্তু বোঝার চেষ্টা করে। এবং একই ধরনের আগ্রহ থাকা দর্শকদের কাছে তা পৌঁছে দেয়। ফলে একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা শুধু নির্মাতার জনপ্রিয়তার ওপর নয়। বরং দর্শকের প্রতিক্রিয়ার ওপরও নির্ভর করে।

তবে এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফিডের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। যেহেতু অ্যালগরিদম আপনার আগ্রহের সঙ্গে মিল রেখে কনটেন্ট দেখায়। তাই অনেক সময় আপনি একই ধরনের বিষয়বস্তুর মধ্যে আটকে যেতে পারেন। ভিন্ন মত, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বা ভিন্ন ধরনের তথ্য কম দেখা যায়। গবেষকেরা একে “ফিল্টার বাবল” বা “ইকো চেম্বার” হিসেবে উল্লেখ করেন। যেখানে ব্যবহারকারী নিজের পছন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, “For You Page” কোনো জাদু নয়। এটি ব্যবহারকারীর আচরণ। কনটেন্ট বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে তৈরি একটি জটিল ব্যবস্থা। আপনি যেভাবে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। সেটিই ধীরে ধীরে আপনার ফিডের চেহারা গড়ে তোলে। তাই সচেতনভাবে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট দেখা ও অনুসরণ করা হলে রেকমেন্ডেড ফিডও হয়ে উঠতে পারে আরও বৈচিত্র্যময় ও তথ্যসমৃদ্ধ।

চালকবিহীন গাড়ি

স্মার্টফোন কেনার আগে যা জানা জরুরি

পুরোনো ফোন ঘরে ফেলে রাখলে যে বিপদ ঘটতে পারে

সবজি-ফল-মশলা নিজেরাই দিচ্ছে স্বাস্থ্য টিপস

ফেসবুকে ‘থাম্বস ডাউন’ ইমোজি,র অর্থ কী?

হিডেন মেসেজ পাঠানো যাবে হোয়াটসঅ্যাপে

সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডাকবিভাগ কাজ করবে: আনাম

অ্যালগরিদম চিন্তাভাবনাও নিয়ন্ত্রণ করে

প্রযুক্তির সহায়তায় কনটেন্ট নির্মাণ

এআই যুগে সত্য-মিথ্যা তথ্য শনাক্তের উপায়