হোম > ফিচার > নারী

পরচুলা তৈরির কারখানা: স্বাবলম্বী দুই শতাধিক নারী

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের পরচুলা তৈরির কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী শত শত নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন। তারা দীনতা ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন ।

জানা গেছে, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের বিলকিস বেগম (২৯) পরচুলা তৈরির কাজ শিখে নিজেই গড়েছেন কারখানা। তিনি ও তার স্বামী মিজানুর রহমান কারখানাটি পরিচালনা করছেন। তাদের পরচুলা তৈরির কারখানায় কাজ করছেন প্রায় আড়াইশ নারী। এই কারখানার তৈরি পরচুলার টুপি ঢাকা হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। বিলকিস বেগমের এই যাত্রা খুব সুখকর ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় তার। স্বামীর অল্প আয়ে যখন সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা, তখন তিনি বেছে নেন কাঁথা সেলাইয়ের কাজ। পরে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ইছমত আরার কাছ থেকে শেখেন পরচুলা তৈরির কাজ। ওই উদ্যোক্তার অধীনে তিনি ও তার স্বামী কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা গড়ে তোলেন পরচুলা তৈরির কারখানা। ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান তাদের জমি-ভবন নির্মাণসহ সার্বিক আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে।

রাজনগর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, বিলকিস আপার কাছ থেকে এই পরচুলা তৈরির কাজ শিখে আমি এবং আমার মেয়েরা মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছি। মেয়েদের পড়াশোনাও ভালো চলছে।

বিলকিস বেগম জানান, ঢাকার গোল্ডেন হেয়ার ক্যাপ প্রতিষ্ঠানের মালিকের সহযোগিতায় নিজেই কারখানা চালু করেন। তখন মাত্র ১০-১২ জন নারী থাকলেও পরবর্তীকালে অনেক নারীকে পরচুলা তৈরির কাজ শেখান। বাড়ির কাছে কারখানায় এসব নারী কাজ করে মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। ভবিষ্যতে কারখানা আরো বড় আকারে করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহায়তা পেলে কাজটি আরো বড় আকারে করা সম্ভব হবে বলে আশা তার।

বিলকিসের স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, আমি রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করেছি। পরবর্তীকালে পরচুলার কাজ শেখা শেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সেটি শুরু করি। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে মালিকপক্ষ পরচুলা তৈরির ক্যাপ, চুল, সুই, চক, পিনসহ সব কাঁচামাল পাঠিয়ে দেয়। আমাদের কারখানার একটি দোতলা ভবন ও একটি হাফ বিল্ডিং রয়েছে। কারখানায় স্থাপিত টুপি তৈরির টেবিলে বসে নারী শ্রমিকরা সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ক্যাপ তৈরি করেন। একজন নারী শ্রমিক মাসে ১০ থেকে ১৫ টি ক্যাপ তৈরি করতে পারেন। আকার ভেদে একেকটি ক্যাপের জন্য ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে মজুরি পান নারী শ্রমিকরা। এছাড়া হাজিরা বোনাস রয়েছে ১ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, শেরপুর জেলা শাখার উপব্যবস্থাপক আতাউর রহমান ফকির বলেন, শেরপুর সদরের পাকুড়িয়া, ঝগড়ারচর, নালিতাবাড়ীর নন্নী গ্রামসহ বেশ কয়েক জায়গায় পরচুলা তৈরির কারখানা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এসব উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

ছাদবাগান থেকেই আয় লাখ টাকা

প্রয়োজন নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার ও স্ক্রিনিং

সাহিত্যে অ্যান কারসন, শান্তিতে নাভি পিল্লাই

দৈনন্দিন জীবনের প্রতিবন্ধকতা

স্বপ্নের ডানা মেলুক কন্যাশিশু

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় মারজানা

ঘরের কাজের অদৃশ্য শ্রম, স্বীকৃতি কোথায়

সবুজ স্বপ্ন গড়তে গ্রীন ভয়েসের উদ্যোগ

প্রযুক্তি জগতে নারীর সফলতা