হোম > ফিচার > নারী

মে দিবস ও নারীশ্রমের মূল্য

রাখি আক্তার

বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মে দিবস পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। দৃষ্টিভঙ্গিগত বৈষম্য ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নারীশ্রম আজও অনেকাংশে পিছিয়ে আছে। এই বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী রাখি আক্তার

মে দিবস গৌরবের ইতিহাস বনাম রূঢ় বাস্তবতা

মিথিলা জসিম তন্নি

শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজে, ঢাকা

ইতিহাসে মে দিবস অত্যন্ত গৌরবময়। ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের মাধ্যমে শিকাগোতে যে আন্দোলন শুরু হয়, তারই ধারাবাহিকতায় মে দিবস পালিত হয়ে আসছে। তবে এই অধিকার শুধু পুরুষদের জন্য নয়; বরং নারী-পুরুষ সমানভাবে তাদের কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে নারীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। একই কাজে পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি দেওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অগ্রাধিকারে বাধা, পদোন্নতির ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করা হয়। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে ও যাতায়াতের সময় নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারী শ্রমের অবদান অনেক। তাই এই মে দিবসকে ঘিরে নারী শ্রমিকদের প্রাপ্য সম্মান, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

গৃহস্থালি কাজে নারীর মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে কবে

তৈয়বা খানম

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে সমাজ, তথা দেশ। ক্ষেত্রবিশেষে একজন নারী ঘরে ও বাইরে—উভয় ক্ষেত্রেই একনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করেন। গৃহস্থালির কাজ নারীরা দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার জায়গা থেকে করে থাকেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—নারীরা আদৌ কতটুকু মূল্যায়ন পাচ্ছেন?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরা সন্তানের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পরিবারকে সময় দেন এবং এর বাইরে নিজেদের পরিসর সীমাবদ্ধ করে ফেলেন। নিজের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দেন। যখন একজন গৃহকর্মী শ্রম দেন, তার শ্রমের আর্থিক মূল্য নির্ধারিত থাকে; কিন্তু সার্বক্ষণিক শ্রম দিয়ে পরিবারকে আগলে রাখা নারীর প্রতি সামান্যতম কৃতজ্ঞতা প্রকাশেও অনেক সময় কার্পণ্য দেখা যায়। এমন হাজারো গল্পের ভিড়ে প্রতিবছর শ্রমিক দিবস আসে-যায়; কিন্তু নারী শ্রমিকদের বাস্তব চিত্র খুব একটা বদলায় না। নারী যে শুধু তার শ্রমের স্বীকৃতি পায় না তা-ই নয়, ক্ষেত্রবিশেষে তাকে মানসিকভাবেও অপদস্থ করা হয়। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, নারীর যত্নে পারিবারিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকে। আশার কথা হলো, আজ আমরা অন্তত তাদের নিয়ে ভাবছি—লিখছি। আর এভাবেই নিজের অবস্থান থেকে পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।

সমাজে ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা মর্যাদার সংকট

আফিয়া আলম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

নারীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘর ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই তারা নিরলস পরিশ্রম করে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং তাদের কাজের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করাই হলো নারীর শ্রমের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।

অথচ আমাদের সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীদের শ্রমের যথাযথ মূল্য দেওয়া হয় না। কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় তারা পূর্ণ নিরাপত্তা পায় না। নারীদের কাজের স্বীকৃতি কম থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তারা কর্মে যুক্ত হয়ে তা ধরে রাখতে পারে না, বরং ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে তারা সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

এই সমস্যা দূরীকরণে রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা—নারীরা যেন তাদের কর্মক্ষেত্রে কাজের যথাযথ স্বীকৃতি পায় এবং তাদের মর্যাদা সমুন্নত থাকে।

নারীশ্রমের স্বীকৃতি ও আগামী দিনের প্রত্যাশা

তামান্না আক্তার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নারী ও পুরুষের সম্মিলিত শ্রমেই গড়ে উঠেছে আজকের সমাজ ও রাষ্ট্র। আগামী দিনে আমরা এমন একটি সমতাভিত্তিক সমাজ দেখতে চাই, যেখানে নারী ও পুরুষের শ্রমকে আলাদা লিঙ্গভেদে নয়; বরং দক্ষতার নিরিখে মূল্যায়ন করা হবে। আমরা এমন এক ভোরের প্রতীক্ষায় আছি, যেখানে ঘরকন্নার কাজকে শুধু ‘নারীর কাজ’ হিসেবে না, বরং পারস্পারিক সহযোগিতা হিসেবে দেখা হবে। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীন মজুরি এবং উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই নারীর অংশগ্রহণ আরো ত্বরান্বিত করা যাবে। প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার এবং মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সব বাধা দূর করাই হোক আমাদের আগামীর লক্ষ্য।

দিবস আসে শ্রমিকদের ভাগ্য খোলে না

ভার্মি কম্পোস্ট সার নিয়ে সুমির স্বপ্ন…

তীব্র গরমে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়

মাসুমার মাংসের আচার যাচ্ছে ১৭ দেশে

নারীর নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীর উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের ভাবনায় নারী নিরাপত্তা

চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই গর্ভপাতের ওষুধ সেবনে ঝুঁকি

মানবিক শিক্ষক ড. ফারহানা বেগম

শিক্ষার্থীদের ভাবনায় বাংলা নববর্ষ

বৈশাখী উৎসবে বাংলার নারী

সবুজ পৃথিবী গড়তে গ্রীন ভয়েসের নতুন নেতৃত্ব ইডেন শাখায়