হোম > সাহিত্য সাময়িকী > মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস

মাহমুদ গজনবির ভারত অভিযান, উপনিবেশী বয়ান ও বাস্তবতা

ড. ইয়াসির হায়দার ও জিয়াউর রহমান জিয়া

সোমনাথ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ (১৮৬৯)

বাংলা-পাক-ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের আগমন এই অঞ্চলের জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে উন্নয়নের নতুন পথ উন্মোচন করেছিল। শিক্ষা ও সাহিত্য থেকে শুরু করে রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক সম্প্রীতি, নীতি-নৈতিকতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং ধর্মীয় সহনশীলতার বিকাশে মুসলমানদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হিন্দুধর্মাবলম্বী ছিল। সামগ্রিকভাবে মুসলিম শাসকদের সঙ্গে তাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। মুসলিম শাসনামলে তারা অবাধ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করত। ইসলামের শিক্ষা এবং মুসলমানদের নৈতিকতা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে আকৃষ্ট হয়ে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

আঠারো শতকে ব্রিটিশ বেনিয়া শক্তি উপমহাদেশে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে। এরপর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সমর্থন লাভের উদ্দেশ্যে তারা মুসলিম শাসনকালকে ‘অন্ধকার যুগ’ বলতে শুরু করে। দীর্ঘকাল ধরে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাসকারীদের মধ্যে ঔপনিবেশিক বেনিয়ারা পারস্পরিক বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে থাকে। এটা ছিল তাদের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ প্রকল্পের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের অন্যতম ছিল ব্রিটিশ শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম শাসনামলকে সমালোচনার লক্ষ্য বানানো এবং উপমহাদেশের ইতিহাসে নতুন বয়ান তৈরি করা। এই বয়ানে মুসলমানদের হিন্দুস্বার্থবিরোধী, হিন্দুদের ঐতিহ্য ও মন্দির ধ্বংসকারী বর্বর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মুসলিম সুলতান ও শাসকদের মধ্যে যে ব্যক্তিকে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করা হয়েছিল, তিনি হলেন সুলতান মাহমুদ গজনবি।

ব্রিটিশ উপনিবেশকালে প্রচারিত ইতিহাসের বয়ানে মাহমুদ গজনবিকে লোভী, লুটেরা, বিধ্বংসী, নিষ্ঠুর ও ধর্মীয় উন্মাদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এবং তাকে মন্দির ধ্বংসকারী ও তরবারির জোরে হিন্দুদের মুসলমান বানানোর জন্য দায়ী করার সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো হয়। এই প্রচেষ্টা অনেকাংশে সফলও হয়েছিল। এর প্রভাব শুধু স্থানীয় সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ইতিহাস গবেষক ও বিশেষজ্ঞরাও এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। বহু মুসলিম ও হিন্দু ইতিহাসবিদ নিজেদের গবেষণায় এই বয়ান গ্রহণ করে সেটিকে প্রামাণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন।

ঔপনিবেশিক আমলে রচিত ইতিহাস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশিষ্ট গবেষক ও ইতিহাসবিদ সৈয়দ সুলায়মান নদবি লিখেছেন, ‘উপনিবেশকালে রচিত ভারতের ইতিহাস বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা। এসব গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের ইতিহাস বলতে মূলত আলেকজান্ডার ও তার উত্তরসূরিদের কথাই বলা হয়েছে। তাদের দাবি, আলেকজান্ডারের আক্রমণে ভারতের চেহারা বদলে যায় এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতি ঘটে। তাই আলেকজান্ডারের অভিযাত্রার পথ খোঁজা, গ্রিক নামের বিকৃতি শুধরানো ও গ্রিকদের বিবরণ সাজিয়ে উপস্থাপন করাকেই প্রাচীন ভারতের ইতিহাস বলে ধরা হয়।

অথচ ইসলাম ও ভারতের ইতিহাসে এসে এই লেখকেরা এক-দুই পৃষ্ঠায় আরবদের বর্বরতা ও আক্রমণের কথা বলেই সরাসরি গজনিতে পৌঁছে যান। সেখানে মাহমুদ গজনবিকে দেখানো হয় ভারতে অভিযান চালিয়ে লুটপাট করে ধনসম্পদ নিয়ে ফিরে যেতে। এর দেড়শ বছর পর শিহাবুদ্দিন ঘোরিকে এনে তারা মধ্যযুগের ধারাবাহিক ইতিহাস শুরু করেন।’ (আরব ও হিন্দ কে তাল্লুকাত, সৈয়দ সুলাইমান নদভি, পৃষ্ঠা : ১৪৫-১৪৬)

সৈয়দ নদবির এই কথা থেকে উপনিবেশকালে ইতিহাসচর্চার স্বরূপ উন্মোচিত হয়। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, সেই যুগে প্রকৃত ইতিহাস রচনার পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে ইতিহাসকে নিজেদের মনমতো সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় ইতিহাসের অনেক ধারণা ও বয়ান প্রতিষ্ঠা করা হয়, যার সঙ্গে ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ ও বস্তুনিষ্ঠতার কোনো মিল নেই।

সুলতান মাহমুদ গজনবির নিষ্ঠুরতা, অত্যাচার ও সীমাহীন নিপীড়নের যেসব কাহিনি প্রচলিত আছে, সেগুলোর ঐতিহাসিক কোনো ভিত্তি নেই। অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তব ঘটনার চেয়ে কল্পকাহিনির সঙ্গে সেগুলোর মিল বেশি পাওয়া যায়। ইতিহাস অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, ভারত উপমহাদেশে তার বিভিন্ন অভিযানের সময় অনেক উপলক্ষ এসেছিল, যখন তার সামনে বিস্তীর্ণ অঞ্চল উন্মুক্ত ছিল এবং তাকে প্রতিরোধ করার মতো কেউ সেখানে ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি সেসব অঞ্চলের অধিবাসীদের কোনো ক্ষতি করেননি।

একটি যুদ্ধে অনন্দপালকে পরাজিত করার পর মাহমুদ গজনবি নগরকোট থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত জনবসতিপূর্ণ ও শস্যশ্যামল অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। অথচ তিনি সেখানকার শহর ও জনপদ লুণ্ঠন করেননি, কিংবা রক্তের বন্যাও বইয়ে দেননি। অথচ সে সময় সমগ্র অঞ্চলে কোনো শাসক উপস্থিত ছিলেন না। মাহমুদ গজনবি চলে যাওয়ার পর অনন্দপাল রাজধানী লাহোরে ফিরে এসেছিলেন।

একইভাবে মাহমুদ গজনবির বিভিন্ন অভিযানে সন্ধি স্থাপন ও ক্ষমা প্রদানের অনেক দৃষ্টান্ত দেখা যায়। কনৌজ অভিযানের সময় সেখানকার রাজা ক্ষমাপ্রার্থনা করলে গজনবি তাকে ক্ষমা করে দেন। সে সময় কনৌজ ছিল ধনসম্পদে সমৃদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর। তিনি যদি সত্যিই সম্পদের প্রতি অতিমাত্রায় লোভী ও নিষ্ঠুর হতেন, তাহলে রাজাকে হত্যা করার পর নগরবাসীর ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দিতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।

উপমহাদেশে অভিযান পরিচালনার সময় মাহমুদ গজনবি অকারণে কোনো উপাসনালয়ের ক্ষতি করেননি। তিনি কেবল সেই মন্দিরগুলোই ধ্বংস করেছিলেন, যেগুলো ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

থানেশ্বর ছিল প্রথম অভিযান, যেখানে মূর্তি ভাঙা ও মন্দির ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। মাহমুদ গজনবির এই অভিযানে তার সেনাবাহিনীতে বারো হাজার হিন্দু সৈন্যও ছিল। প্রকৃতপক্ষে, এই হিন্দু সৈন্যদের দেখিয়ে দেওয়া স্থানেই তিনি হামলা করেছিলেন। কোনো হিন্দু সৈন্য এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেননি, এমনকি চাকরিও ছেড়ে দেননি। (আয়নায়ে হাকিকত নুমা, আকবর শাহ নাজিবাবাদী, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৮৮-২৪০)

মাহমুদ গজনবি ইসলাম গ্রহণ না করার কারণে হিন্দুদের হত্যা করতেন কিংবা জোরপূর্বক মুসলমান বানাতেন, এমন দাবিরও কোনো প্রমাণ নেই; এটি শুধু অভিযোগ। এর বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। হিন্দু গবেষক ও ইতিহাসবিদ ড. টোপা লিখেছেন, ‘তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কাউকে হত্যা করেছিলেন, এমন কোনো ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না। মাহমুদের শাসনামলে হিন্দুরা পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করত। ধর্মীয় পরিচয়কে কোনো বাধা হিসেবে বিবেচনা না করেই তারা সেনাবাহিনীতেও যোগ দিত।’ (Politics in Pre-Mughal Times, ঈশ্বরা টোপা, পৃষ্ঠা : ৪৫)

প্রকৃতপক্ষে, স্থানীয় রাজাদের অত্যাচার, অব্যবস্থাপনা ও অবিচারের ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এ কারণে তারা মাহমুদ গজনবিকে সমর্থন দিত, তার অধীনে কাজ করত এবং তার সেনাবাহিনীতে যোগদান করাকে অধিকতর পছন্দনীয় মনে করত।

মাহমুদ গজনবি কাউকে জোরপূর্বক ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেননি। এক অভিযানে হিন্দু রাজা জয়পালকে বন্দি করে গজনিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি আট মাস অবস্থান করেন। কিন্তু তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি; হিন্দু হিসেবেই নিজ দেশে ফিরে আসেন। (আয়নায়ে হাকিকত নুমা, আকবর শাহ নাজিবাবাদী, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৯৭)

মাহমুদ গজনবির ব্যক্তিত্ব, চরিত্র ও যুদ্ধজীবন নিয়ে প্রাথমিক ঐতিহাসিক উৎস গবেষক ড. মুহাম্মদ নাজিম গজনবির শাসনামলে হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মাহমুদ গজনবির ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সুলতানের শাসনামলে হিন্দুরা সহনশীল ধর্মীয় পরিবেশে বসবাস করত। গজনিতে তাদের জন্য পৃথক আবাসিক এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সেখানে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অনুমতি পেয়েছিল।’ (The Life and Times of Sultan Mahmud of Ghazna, মুহাম্মদ নাজিম, পৃষ্ঠা : ১৬৩)

সুলতান মাহমুদ গজনবির ভারত অভিযানগুলোর মধ্যে সোমনাথের অভিযানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়। এর পেছনে কয়েকটি কারণ আছে, তবে প্রধান কারণ হলো সেখানকার মন্দির এবং মন্দির ধ্বংসের ঘটনা। উপনিবেশকালে এই কাহিনিকে বারবার প্রচার করা হয়েছে, যাতে ধর্মের পরিচয়ে স্থানীয় হিন্দুদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা যায়। এই পরিকল্পিত চেষ্টা কাজেও লেগেছিল। ফলে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষের দেয়াল ধীরে ধীরে আরো শক্ত হয়ে উঠেছিল।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোমিলা থাপার দীর্ঘ গবেষণার পর বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির ধ্বংসের ঘটনাকে অতিরঞ্জিত বিবরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার গবেষণায় এসেছে যে, মাহমুদ গজনবি কখনোই সোমনাথকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেননি।

রোমিলা থাপারের মতে, মুসলমানদের আগমনের আগেও হিন্দু রাজা ও মহারাজাদের মধ্যে মন্দির লুণ্ঠন, ধ্বংস এবং সেখানকার মূর্তি নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল সাধারণ ব্যাপার। তিনি লিখেছেন, ‘হিন্দু শাসকদের হাতে হিন্দু মন্দির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও সেই সময়ে অনেক ঘটেছে। ... দশ শতকের গোড়ার দিকে রাষ্ট্রকূট রাজা তৃতীয় ইন্দ্র প্রতিহারদের বিরুদ্ধে তার অভিযানের সময় কাল্পার (কালপ্রিয়/কাল্পী) মন্দির ধ্বংস করার কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করেন। মালবের পরমার রাজা সুভটবর্মণ (১১৯৪–১২০৯) চালুক্যদের নির্মিত জৈন মন্দির ধ্বংস করেন। ... কাশ্মীরের বেশ কয়েকজন রাজা মন্দির লুণ্ঠন করেছিলেন। নবম শতকের শঙ্করবর্মনের মাধ্যমে এই ধারার সূচনা হয়। (প্রাচীন কাশ্মীরের কবি ও ঐতিহাসিক) কল্হণের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি চৌষট্টিটি মন্দির লুণ্ঠন করেছিলেন।’ (Somanatha, রোমিলা থাপার, পৃষ্ঠা : ২২৫–২২৬)

সোমনাথে মাহমুদ গজনবির আক্রমণ এবং এর প্রভাব ও পরিণতি সম্পর্কে ঐতিহাসিক আলোচনাকে ঔপনিবেশিক শক্তি একটি বিশেষ রং ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করা, তাদের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া এবং নিজেদের শাসনক্ষমতাকে সুদৃঢ় করা। এ প্রসঙ্গে ড. থাপার লিখেছেন, ‘সোমনাথ আক্রমণ ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে একটি গভীর আঘাত হিসেবে তুলে ধরা, যে আঘাত থেকেই নাকি হিন্দু-মুসলিম বৈরিতার সূত্রপাত, ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক নীতির পক্ষে ছিল অত্যন্ত সুবিধাজনক।’ (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা : ১২২)

সোমনাথ অভিযান থেকে ফেরার সময় মন্দিরের মূল্যবান দরজা গজনিতে নিয়ে যাওয়ার কথা একইভাবে প্রচারিত হয় এবং সেটিকে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৮৪২ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড এলেনবরো দাবি করেন, মাহমুদ গজনবি সোমনাথ মন্দিরের দরজা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঔপনিবেশিক ইতিহাসের বয়ানে এই দাবিটি স্থায়ী হয়ে যায় এবং জে সি অ্যালেনের মতো ইতিহাসবিদেরাও তা উদ্ধৃত করতে শুরু করেন। এলেনবরোর এই দাবি সম্পর্কে রোমিলা থাপার লিখেছেন, ‘তিনি কোথা থেকে এবং কীভাবে মন্দিরের দরজা সম্পর্কে এই তথ্য পেয়েছিলেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়নি। তুর্কি-ফারসি ভাষায় রচিত কোনো বিবরণেই মাহমুদ সোমনাথ মন্দিরের দরজা নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ নেই।’ (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা : ২৭৩)

ঔপনিবেশিক যুগের ইতিহাসচর্চার সমালোচনা ও পর্যালোচনা করলে বহু অজানা তথ্য সামনে আসে। একই সঙ্গে ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ শাসন কীভাবে নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল, তারও প্রমাণ পাওয়া যায়। মাহমুদ গজনবির ব্যক্তিত্ব, চরিত্র ও সামরিক অভিযান সম্পর্কে সঠিক মূল্যায়নে পৌঁছাতে হলে যেসব গবেষক গভীর ও নিরপেক্ষভাবে ইতিহাস অধ্যয়ন করেছেন, তাদের গবেষণার ফলাফল ও সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি যথার্থ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

উর্দু থেকে সংক্ষিপ্ত অনুবাদ : মাহমুদ আহমাদ

হারিয়ে যাওয়া আমিরুল মুমিনিন খাল

কাশ্মীরের ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের ভোজ

আধুনিক অপটিকস, ইবনুল হাইসাম ও নতুন যুগের সূচনা

মধ্যযুগের মিনিয়েচার শিল্পে জীবন ও সংস্কৃতি

পর্দার জৌলুস বনাম ইতিহাসের বাস্তবতা

সেপ্টেম্বর-রবিউস সানি-আশ্বিন: মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস ক্যালেন্ডার

খলিফা ওমরের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বায়তুল মাল

কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন

আইনে জালুতের যুদ্ধ: পাল্টে দিয়েছিল ইতিহাসের গতিপথ

কৃষিকাজ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন