গরমের ছুটিতে হাইস্কুল বন্ধ। অথচ হেডমাস্টার রঘুনাথ রোজই স্কুলে আসেন। স্কুলের ত্রিসীমায় কেউ অবশ্য থাকে না‚ একটা ছাগলও ভুল করে ঢোকে না স্কুলের মাঠের ভেতর ঘাস খেতে। রঘুনাথ রোজই বগলদাবা করে একগুচ্ছ দরকারি কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন। অফিসকক্ষে গামারি কাঠের পুরোনো চেয়ারটি এখনো টিকে আছে। অবশ্য পায়াগুলো ভীষণ নড়বড়ে। যেকোনো দিন ভেঙে পড়তে পারে! তা নিয়ে অবশ্য রঘুনাথের ভাবনা নেই। ওটাতেই বসে একগাদা কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন । কলমের কালিতে চলে কাটাকাটি বা সংশোধন। ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই মোটা ফ্রেমের কালো রঙের চশমাটা খুঁজে কানে গুঁজেই শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। চশমাটা বহুদিন ধরেই সঙ্গ দিয়ে আসছে তাকে‚ প্রায় তিন যুগ! অথচ জিনিসটা আজও বেশ ঝা চকচকে‚ আশ্চর্য। একটুও রঙ চটেনি।
ইদানীং একটানা বেশিক্ষণ চেয়ারে বসে থাকতে পারেন না রঘুনাথ। কষ্ট হয়। বয়সের ভারে নুয়ে এসেছে শরীর। মেরুদণ্ডও সায় দেয় না। পিঠ টান-টান করে বসে থাকতে ভীষণ কষ্ট হয় তার। মাঝে মাঝে ভাবেন তিনি‚ অনেক তো হলো। এবার শামুকের মতো খোলসের ভেতর নিজেকে গুটিয়ে ফেলাটাই উত্তম। কিন্তু তারপরও পুরোদমে কাজ করে যান।
চৌরাস্তার মোড় পেরিয়ে দক্ষিণ দিকের বিস্কুট-রঙ দেয়াল ঘেঁষে দুজন লোক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই দ্রুত হেঁটে গেলেন রঘুনাথ। পৌঁছে কিছু জিগ্যেস করার আগেই দুজন লোক দৌড়ে পালাল। সঙ্গে রঘুনাথও দৌড় দিয়েছিলেন। কিছুটা দৌড়ে থামলেন তিনি। থামতে হলো তার। ইচ্ছাশক্তি প্রবল হলেও শরীর অনুমোদন দিল না তাকে। ক্রোধে তেতে উঠলেন তিনি। ডান হাতে একটানে চশমাটা খুলে একদলা থুতু ফেললেন রাস্তার পিচঢালা রাস্তার ওপর। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে একজন উপস্থিত হয়েই দৌড়ে পালানো ওই দুজন লোককে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দিতে লাগল। একটানা গালাগাল দিয়ে সামান্য হাঁপিয়ে উঠল লোকটা। এবার একটু দম নেয়। তারপর স্বাভাবিক হয়ে থেমে থেমে আরো কিছুক্ষণ গালাগাল করে রঘুনাথকে প্রণাম করে বাজারের দিকে চলে যায়।
রঘুনাথের ক্রোধ কিছুতেই দমে না; বেড়েই চলে। ইচ্ছা করে ওই লোক দুটোকে পিষে ফেলতে! পেলে অবশ্য তা-ই করতেন।
ততক্ষণে লোক দুটো দৌড়ে বাজারের করাতকলের ছাপরার পেছনে আত্মগোপনে যায়। চৈত্র মাসের রোদ তেতে উঠেছে। আর একটু হেরফের হলেই ধরা যেত। লোক দুটো প্রকাণ্ড সাইজের গাছের গুঁড়িতে বসে হাঁপ ছাড়ে। দুজনই গায়ের শার্ট খুলে ফেলে। ভীষণ ঘেমে গেছে। সারা শরীরে ঘাম ঝরছে। দুজনের একজন হাসমত‚ অন্যজন রাশু। রাশু হেসে ওঠে; বলে‚ ‘শালার হেডমাস্টার আমাগো দেখলেই দৌড়ানি মারে! আল্লায় কি এই আজাব থিকা মাফ করাইব না?’ হাসমত কিছুটা স্থির হয়ে বলে‚ ‘কথাও তো কইতে দেয় না। বুঝানের টাইমও দেয় না। খালি দৌড়ানি মারে।’
বছর দুয়েক আগের ঘটনা। হাটখোলার হাটে ফরিদ কবিরাজ আসত। সেই কবিরাজকে কেন্দ্র করেই ঘটনার ঘনঘটা। গাঁয়ের সহজ-সরল মানুষেরা হাটে যায়। আর সেসব মানুষকে পটিয়ে হাসমত ও রাশু দুজনে মিলে ফরিদ কবিরাজের কাছে নিয়ে যেত। তা অবশ্য মাগনা নয়‚ বিনিময়ে দালালির কমিশনও পেত। তখন বর্ষাকাল। সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরে। হাটে হাটুরেরা তেমন একটা আসে না। কিন্তু বর্ষার বৃষ্টিমগ্ন এক সন্ধ্যায় আখতারের ছোট ছেলে ফজলকে বাগে পায় হাসমত। বটতলার চা-দোকানের বেঞ্চে বসিয়ে এক কাপ রঙ-চা দিয়ে টোপ ফেলে‚ তারপর ভুজুংভাজুং গল্প শুনিয়ে কবিরাজের ডেরায় নিয়ে যায়। সেদিন রাতে ফজল বাড়ি ফেরার পর অন্য এক ফজল হয়ে যায়! ওর পুরোনো শরীর যেন ধীরে ধীরে নতুন হয়ে ওঠে। জং-ধরা হাত-পাগুলো ইস্পাতের মতো ঝনঝনিয়ে ওঠে মুহূর্তেই। ও ওর রক্তে‚ মাংসে এবং হাড়ে টের পেয়েছিল তীব্র উত্তেজনা! যেন কিছুতেই ধাতস্থ হতে পারছিল না ও। টগবগিয়ে উথলে উঠেছিল ক্রমে। ভরা বর্ষার রাত। জানালার পাশেই কামিনীর ঝাড়। ভাঙা জানালার পথ ধরে ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে ঘরের ভেতর ঢুকছিল কামিনীর গন্ধ। সেই গন্ধে রক্ত-মাংসে সাড়া জেগেছিল‚ উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল ফজল! প্রবলভাবে বুকের ওপর টেনে নিয়েছিল শিরীনকে। শিরীনও ঘরের পুরুষের পৌরুষের ডাকে স্বাভাবিকভাবেই সাড়া দিয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর অন্যরকম হয়ে পড়ে ফজল‚ শ্বাপদের মতো খুবলে খেতে থাকে শিরীনকে। শিরীন প্রথমে বাধা দিয়েছিল। তাতে ফজল আরো হিংস্র হয়ে উঠেছিল। রাতভর চলেছিল সেই বুনো উল্লাস। শিরীন গতিময় ঝড়ের কবলে লন্ডভন্ড জনপদের মতো পড়েছিল বিছানার এক কোণে! অবশ্য পরদিন সকালবেলা সাংঘাতিক ঘাবড়ে যায় ফজল। ততক্ষণে ঘোর কাটে। হতবিহ্বল হয়ে পড়ে ও। কী করবে? ভেবেচিন্তে পায় না। ভয় ও লজ্জায় সংকীর্ণ হয়ে আসে ওর পৃথিবী। তীব্র ভয় অক্টোপাসের মতো আঁকড়ে ধরে ফজলকে। ও শিরীনের ধার ঘেঁষতেও আঁতকে ওঠে।
ফজলের আকস্মিক ওই ধরনের আচরণে শিরীন ভীষণ ভয় পায়। সংবাদ পেয়ে সেদিন সকালেই ছুটে আসে ওর বাবা। বাবার সঙ্গে ও বাড়ি চলে যায়। আর ফেরে না। ওই নারকীয় ঘটনার মাসখানেক পর শিরীন ফজলকে তালাকনামায় সই করে পাঠিয়ে দেয়। ফজল অবশ্য শিরীনকে ফিরিয়ে আনতে লোক পাঠায়; কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না। শিরীন সিদ্ধান্তে অটল। অগত্যা ফজলকেও তালাকনামায় সই করতে হয়।
ওই ঘটনার বেশ কিছুদিন পর রঘুনাথ ফরিদ কবিরাজকে চ্যালা কাঠ দিয়ে ঠ্যাঙায়‚ সঙ্গে হাসমত ও রাশুকেও। কবিরাজের ডেরা ভেঙে ওষুধপত্রসহ নদীতে ছুড়ে মারে। হাসমত ও রাশু বটতলার চা-দোকানের বেঞ্চেই বসা ছিল। রঘুনাথ চা-দোকানে ঢুকেই মার শুরু করেন। চ্যালা কাঠের আঘাতে শরীর দাগড়া দাগড়া হয়ে ওঠে দুজনেরই! সেদিন অবশ্য চা-দোকানের অন্য লোকেরা রঘুনাথকে ঠেকায়নি‚ উল্টো উসকে দিয়েছে আরো! ওইদিন সন্ধ্যায় রঘুনাথের বাড়ি ছুটে যায় ফজল। ও ভেবেছিল হাইস্কুলের হেডমাস্টার যদি কোনোক্রমে শিরীনকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। সন্ধ্যার পর রঘুনাথের বাড়ি পৌঁছে ফজল দেখতে পেল দরজায় ঝুলে-থাকা তালাটা করুণ চোখে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। রঘুনাথ বাড়িতে নেই। রঘুনাথ প্রায়ই সন্ধ্যায় বাড়ি থাকেন না। হাটখোলার শ্মশানঘাটের পাশেই কালীমন্দির। মন্দিরেই পূজাআচ্চা করতে যান। ততক্ষণে সন্ধ্যা গাঢ় হয়ে এসেছে। ঘনঘোর অন্ধকারে সিঁড়িতেই বসে রইল ফজল। প্রায় ঘণ্টাখানেক অন্ধকারে বসে অপেক্ষা করার পর রঘুনাথ বাড়ির উঠানে পা রাখতেই তড়াক করে উঠে দাঁড়াল ও। ভারী, চৌকস এবং বলতে গেলে দিব্যদৃষ্টিসম্পন্ন একজন মানুষ রঘুনাথ; উঠানে পা রেখেই শ্লেষ্মা-জড়ানো গলায় বললেন‚ কে ওইখানে?
ফজল গলা খাঁকারি দিয়ে বলল‚ ‘স্যার‚ আমি ফজল‚ আখতারের পোলা।’ রঘুনাথ কলতলায় পা ধুয়ে তালা খুলে ঘরে ঢুকতেই হাউমাউ করে ওঠে ফজল—‘স্যার‚ একটা উপায়ও কি নাই? ফিরাই আনা কি যায় না?’ রঘুনাথ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়েন। তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন‚ ‘তোমাগো মুসলিম আইনে ফিরাই আনার পথ আছে। কিন্তু একটা রীতিনীতি আছে‚ যা তোমার পছন্দ হইব না।’
‘সত্যিই ফিরাই আনার পথ আছে!’ ফজলের চোখ ঝলমলিয়ে ওঠে।
‘কিন্তু একটা রীতিনীতি আছে‚ ওইডা কি মানবার পারবা?’
‘রীতিনীতি মানে? স্যার‚ বুঝাইয়া কন তো।’
‘তোমাগো মুসলিম আইনে বউরে তালাক দেওনের পর যদি আবারও হেই বউ ফিরাই আনবার চায়‚ তাইলে ওই বউরে হিল্লা বিয়া দেওনের পর ফিরাই আনা যায়।’
‘হিল্লা বিয়া কী? আবারও আমার বিয়া করন লাগবো ওরে!’
রঘুনাথ থ মেরে যান।
ওই রাতেই অন্ধকার হাতড়ে রঘুনাথের কথামতো হাটখোলা মসজিদের ইমামের বাড়ি পৌঁছে যায় ফজল। হিল্লা বিয়ে সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না ওর। ইমামের মুখে হিল্লা বিয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত শোনার পর তব্দা মেরে যায় ও। ওর গলা চিরে টুঁ শব্দটিও বেরোয় না। নিদারুণ যন্ত্রণায় কেঁপে ওঠে সামান্য।
বছর খানেক পর।
বর্ষাকাল। বৃষ্টি ঝরছে। ভাঙা জানালার পাশে চুপচাপ বসে আছে ফজল। বাইরের সবকিছু বৃষ্টিতে ভিজছে। কামিনীর ঝোপও ভিজে উঠেছে ঠান্ডা বৃষ্টিজলে। হাওয়া বইছে থেমে থেমে। সেই হাওয়ার সঙ্গে মিশে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ছে কামিনীর মোহনীয় গন্ধ। চোখজোড়া বন্ধ করে সেই গন্ধ নাসারন্ধ্রে টেনে নেয় ফজল। জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে বৃষ্টিছাট। একরাশ ঠান্ডা হাওয়া দাঁপিয়ে বেড়ায় ঘরের ভেতর। ঘোরগ্রস্ত হয়ে পড়ে ফজল। শিরীনকে ভীষণ মনে পড়ে ওর। ভীষণ কাছে পেতে ইচ্ছা করে! কিন্তু উপায় নেই। বৃষ্টি থামার নামগন্ধ নেই। ঝরেই চলে একটানা। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া। হাওয়ার সঙ্গে ফুলের গন্ধ। এই বৃষ্টি একঘেয়ে ঠেকে ফজলের।
হাইস্কুলের সামনে আকন্দের ঝোপ। আকন্দের ঝোপ কেটে জায়গাটা ছাফছুতরো করে কামিনীর চারা বুনে দেবে‚ রঘুনাথ প্রায়ই ভাবেন। কামিনী তার প্রিয় ফুল নয়‚ তবুও ইদানীং কামিনীর গন্ধে মোহাবিষ্ট হয়ে পড়েন তিনি। ভরা বর্ষার রাতে ফজল যেমন ভাঙা জানালার পাশে বসে শিরীনকে সংস্পর্শে পেতে চোখজোড়া বন্ধ করে কামিনীর ঘ্রাণ শোঁকে। ঠিক তেমনি তিনিও ঘ্রাণ শুঁকতে চান। আকন্দের ঝোপটা সত্যিই অনেকটা জায়গাজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে নিয়েছে। এই যাত্রায় হয়তো গাছগুলো কাটা পড়বে। আকন্দের জায়গাটা বেদখল করে নেবে কামিনীর চারা। ফজল রঘুনাথ স্যারকে একদিন কথায় কথায় বলেছিল‚ ‘স্যার‚ বর্ষার রাইতে যহন বৃষ্টি নামে‚ তহন কামিনীর গন্ধে আমি শিরীনের গন্ধ পাই! শিরীনের শইলে একটা গন্ধ আছে‚ ওই গন্ধটাই আমি কামিনীর গন্ধের ভিতরে টের পাই।’
রঘুনাথ অফিসকক্ষের চেয়ারে বসে আছেন। স্কুলের ভেতর কোনো জনপ্রাণী নেই। টেবিলের ওপর একগাদা কাগজপত্র। আজ কাগজপত্রে মন লাগছে না তার। মাথার ওপর সিলিং ফ্যান ঘুরছে রথের চাকার মতো ঘর্ঘর শব্দ তুলে। বাইরে আকন্দ ঝোপের ওপর নরম রোদ পড়েছে। অথচ চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে রঘুনাথের। ঘুমের অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সেই ঘুমের ভেতরই ফেটে পড়তে চাইছে একটা স্বপ্ন। বাতাস ক্রমেই ভারী হয়ে ওঠে চিরচেনা এক শরীরের গন্ধে! তিন যুগ ধরে সঙ্গ দেওয়া চশমাটাও আজ বেখাপ্পা ঠেকছে চোখে। সবকিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন; কিন্তু গত রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। আকন্দের পাতাগুলো বৃষ্টিজলে ধুয়ে চকচক করছে। ওই চকচকে পাতায় লুটোপুটি খাচ্ছে সোনারঙ রোদ।
তখনো ঘোর কাটেনি রঘুনাথের। টেবিলের ওপর একটা বইয়ের ওপর একমুঠো কামিনী ফুল দারুণ ঘ্রাণ ছড়িয়েছে বাতাসে! সেই গন্ধেই বিভোর হয়ে আছেন তিনি। কামিনীর গন্ধ কখন যে চিরচেনা এক শরীরের গন্ধে রূপান্তরিত হলো‚ তার জানা নেই।
বর্ষা ফুরোয়নি। শ্রাবণ প্রায় শেষের দিকে। মাঝে মাঝে রাতে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। টিনের চালায় বৃষ্টিপতনের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় ফজলের। তখন জানালার ধারে বসে থাকে ও। হাওয়ার সঙ্গে জানালা গলে কামিনীর গন্ধ ঢোকে ঘরের ভেতর। ঘরজুড়ে কামিনীর মোহনীয় ঘ্রাণ খেলা করে। সেই ঘ্রাণে শিরীনের শরীরের গন্ধ মিলেমিশে একাকার! বিস্ময়ে আঁতকে ওঠে ও। চোখজোড়া বন্ধ করে বসে থাকে। কিন্তু শ্রাবণরাতের বৃষ্টি ভীষণ বিপাকে ফেলে রঘুনাথকে! বৃষ্টির রাতে কামিনীর গন্ধ শুঁকতে বড্ড ইচ্ছা করে তার। বাড়ির চৌহদ্দিতে একটাও কামিনী গাছ নেই।
স্কুলের সামনে আকন্দের ঝোপ কেটে কামিনীর চারা বুনেছিলেন রঘুনাথ। চারাগুলো দ্রুত বিকশিত হয়েছে। ফুলও ফুটেছে। টিনের চালায় বৃষ্টিপতনের শব্দে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
কিছুক্ষণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর এক মুহূর্তে নেমে পড়েন উঠানে। দৌড়ে হাইস্কুলের দিকে ছুটে যান। কামিনীর ঝোপের সামনে ধ্যানস্থ ঋষির মতো স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। বৃষ্টি তখনো ঝরে মাথার ওপর। চোখজোড়া বন্ধ করেন। কামিনীর ঘ্রাণ শোঁকেন। ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে কামিনীর মোহনীয় ঘ্রাণ ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে তার মগজে। সারা দেহে। ঘোর কাটে না তার। বহুক্ষণ বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকার দরুন পরনের ধুতি এবং গায়ের ফতুয়া ভিজে চুপসে আঁটোসাঁটোভাবে জাপটে ধরে গোটা শরীর! অথচ তিনি নির্বাক। ধীরস্থির।