জ্বালানি নিয়ে অহেতুক আতংকিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আমরা সাশ্রয়ী হবো যেন আরও জ্বালানি সেইভ করতে পারি। শুধু ব্যক্তি স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে যেন জ্বালানি ব্যবহারে আমরা সাশ্রয়ী হই।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে নিজ বাসভবনে সিলেটের স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন. সেইভ করলে আমরা জ্বালানি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে পারবো। আমরা যদি সেইভ করতে পারি দেশের জন্য জ্বালানি কম আমদানি করতে হবে। এত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার খরচ হবে কম। তাই স্বাভাবিকতা বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমরা সবাই মিলে যদি ঠিক করি যে আমরা সতর্ক থাকবো এবং অহেতুক বিপদে পড়বো না- তাহলে সবই স্বাভাবিক থাকবে। ছয়টার পর থেকে পিক আওয়ার শুরু হয়। সেই সময়টা যদি আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারি তাহলে বাড়তি খরচ থেকে আমরা রক্ষা পাবো।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে এক ঘণ্টা কম বেশি হয় শীত এবং গরমের সময়। ডে লাইট সেভিংসের জন্য। আমরা কিন্তু সেটা করি না। এখন আপদকালীন পরিস্থিতিতে আমরা কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন আমরা সবাই এই পদক্ষেপগুলিকে প্রতিপালন করে শৃঙ্খলবোধের পরিচয় দেবো এবং সরকারিভাবে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয় সম্মিলিতভাবে সেটা প্রতিপালন করে বাস্তবায়ন করবো।
এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি কারন সম্পর্কে বানিজ্যমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবসহ যেসব জায়গা থেকে এলপিজি গ্যাস আমদানি করা হয়, সেখানেই দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল থাকবে।
জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন ব্যহত হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিল্পের উৎপাদন জ্বালানির কারণে কমার সুযোগ নেই। কারণ যে সমস্ত শিল্প গ্যাসের দ্বারা পরিচালিত হয় সেসমস্ত শিল্পে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করেই অন্য হিসাব করা হয়। সেভাবেই জ্বালানি মন্ত্রণালয় তার গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, জাপানের সাথে আমাদের একটি ইকোনমিক পার্টানারশিপ এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেটি এখনও পার্লামেন্টে পাশ হয়নি। সেটি পাশ হলে আনুষ্টানিকভাবে জানানো হবে। আমরা আশা করছি আগামীতে জাপানি বিনিয়োগে বেশি বেশি আবৃষ্ট করতে পারবো। এবং আমরা অনেকগুলো দেশের সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্চি। এগুলো সম্পন্ন হলে এলডিসি গ্যাজুয়েশনের পরেও আমরা বিভিন্ন দেশে আমাদের পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রেফার ট্রিটমেন্ট পাবো।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির সভাপতি ভারপ্রাপ্ত রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন, এহতেশামুল হক চৌধুরী, সাংগঠনিক সচিব নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, আব্দুল হাদি পাভেল, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান।