হোম > জাতীয়

গণপরিবহনে তেল নেওয়ার সীমা উঠলেও ঈদযাত্রায় নানা চ্যালেঞ্জ

মাহফুজ সাদি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তৈরি জ্বালানি সংকটের মধ্যেই উদযাপিত হতে যাচ্ছে ঈদুল ফিতর। সংকটের জেরে এর আগে দূরপাল্লার বাসসহ গণপরিবহনে জ্বালানি নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। তবে গতকাল শনিবার সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, রাত থেকেই সেই সীমারেখা আর থাকছে না।

ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ছুটিও আগের মতোই বাড়ানো হয়েছে। তারপরও ঈদযাত্রায় গত বছরের মতো স্বস্তি মিলবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি আমদানিনির্ভর বাংলাদেশেও। এই যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। উল্টো আক্রমণের মাত্রা আরো বাড়ছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব আরো প্রকট হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও ঈদের সময় এ বছর দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। ফলে গণপরিবহনে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রীর চাপ থাকা এবং বাড়তি জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটানো নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে।

সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে মন্ত্রণালয়গুলো এবার বেশি তৎপর থাকবে। সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, মাত্র দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন, যা বিশ্বের খুব কম শহরেই দেখা যায়। স্বল্প সময়ে এত মানুষের যাতায়াত বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার তা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে, ফলে পরিবহন চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সড়কপথে রোববার থেকে ঈদযাত্রার চাপ বাড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগেই গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত থেকেই দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনে তেল নেওয়ার কোনো সীমা থাকবে না। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি নিতে পারবে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগের সাতদিন ও পরের পাঁচদিন ২৪ ঘণ্টা মহাসড়কের তেলের পাম্প খোলা রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে কোথাও যাতে ভাড়া বাড়ানো না হয় বা অগ্রিম টিকিট ফেরত না দেওয়া হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে কিছু পরিবহন জ্বালানি সংকটের কথা বলে অগ্রিম টিকিট ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করলেও সরকারের নির্দেশনার পর তা বন্ধ হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

তবে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রুটের গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে নতুন সড়ক মন্ত্রীর বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকে ‘লোকদেখানো তৎপরতা’ আখ্যা দিয়ে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বিবৃতিতে বলেন, ঈদ সামনে রেখে একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে, অন্যদিকে নতুন সড়কমন্ত্রী পুরোনো সড়কমন্ত্রীর মতোই মিডিয়া ও পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করছেন, যা মূলত ‘আইওয়াশ’ ছাড়া কিছু নয়। ভাড়া আদায়ের পুরোনো পদ্ধতিই এখনো বহাল রয়েছে। সরকার পরিবহন খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারেনি এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিবহনগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি।

তিনি বলেন, নতুন সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় বাস ও লঞ্চের ভাড়া না বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গগামী বাস ও লঞ্চে এসি আসনে দ্বিগুণ এবং নন-এসি আসনে কোথাও দ্বিগুণ, কোথাও তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে গাজীপুর কিংবা ঢাকা থেকে মাওয়া রুটে যেখানে ভাড়া ৮০ টাকা, সেখানে বিভিন্ন বাসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীদের জিম্মি করে বিভিন্ন রুটে বাসের ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে গণপরিবহন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে এসি বাসগুলোতে সাতদিনের ব্যবধানে ভাড়ার এই বিশাল পার্থক্য লক্ষণীয়। অনলাইনে ভাড়া পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একই গন্তব্যে একই মানের বাসে মাত্র সাতদিনের ব্যবধানে ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি দাবি, নন-এসি বাসে ভাড়া বাড়ানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং জ্বালানি সংকটের সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্ক নেই। সংগঠনটি জানিয়েছে, কেউ বাড়তি ভাড়া আদায় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবহন মালিকরা ফিরতি পথে যাত্রী সংকটের অজুহাত দেখালেও তা অযৌক্তিক বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদযাত্রায় ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। সায়েদাবাদ থেকে ঝালকাঠির উদ্দেশে রওনা হওয়া বশীর আহমেদ বলেন, ঈদের সময় প্রতি বছর বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। এবার তেল সংকটের কারণে তা বেড়েছে। আগাম টিকিট না কাটায় কাউন্টারে এসে টিকিট সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছি। এখানে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে তারা বলছে, ফিরতি যাত্রায় খালি বাস আসে। তাই বেশি ভাড়া নিচ্ছে।

এদিকে, ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সদরঘাটে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ কমানো, যাত্রীদের বিকল্প নৌপথে সহজ যাতায়াতের সুবিধায় এ বছর বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন লঞ্চঘাট (ব্রিজের নিচে) ও পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ১৭ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বছিলা লঞ্চঘাট থেকে ছয়টি এবং শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে তিনটি লঞ্চ বিশেষ সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন নৌপথে যাত্রী পরিবহন করবে।

অন্যদিকে, ট্রেনে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল। এদিন কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রথম দিনের তুলনায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় কিছুটা বাড়তে দেখা যায়। ঈদের ছুটি ১৭ মার্চ শুরু হলেও ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন। গতকাল সারা দিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রায় ৪৩ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রীবোঝাই করে ছেড়ে যায় বিভিন্ন গন্তব্যে।

এদিকে নৌপথে যাত্রী পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে লঞ্চে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা। সংস্থাটি বলেছে, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ না করা হলে ঈদে নৌপথে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো সম্পূর্ণভাবে ডিজেলচালিত। বর্তমানে ঢাকা নদীবন্দর থেকে ৩৮টি নৌপথে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৪০টির মতো হয়। এসব লঞ্চ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন।

সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু

জ্বালানি বিপণনে রেশনিং পদ্ধতি প্রত্যাহার

সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু

আজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ মার্চের টিকিট

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেবে বিরোধী দল

বাসসের এমডি পদ ছাড়লেন মাহবুব মোর্শেদ

সংসদ অধিবেশন শুরু বেলা ১১টায়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না পোস্টাল ব্যালট

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আজ সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

গণভোটের রায় মানতে দ্বিধায় সরকার