হোম > জাতীয়

বিল্ডিং কোড মানতে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

গাজী শাহনেওয়াজ

ভবন নির্মাণে ‘বিল্ডিং কোড’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নে শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি জোরদার, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা কার্যক্রমে দুর্যোগ বিষয় অন্তর্ভুক্তি, গবেষণা তহবিল গঠন এবং দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, দেশে সম্ভাব্য ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বৈঠকে ভূমিকম্প-পূর্ব প্রস্তুতি এবং পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম—দুই ধাপেই সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়। আর ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপদ ভবন হবে সবুজ চিহ্নিত (গ্রিন), সংস্কারযোগ্য ভবন হলুদ চিহ্নিত (ইয়েলো) এবং ঝুঁকিপূর্ণ/ধ্বংসযোগ্য ভবন হবে লাল চিহ্নিত (রেড)।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, ইতিমধ্যে ১৭৩টি ভবনের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে, যার অধিকাংশই সরকারি। সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মহানগরীর ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ে ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ) চালুর প্রস্তাব অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে শুধু উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নয়, নির্মাতা ও ব্যবহারকারী-উভয় পক্ষের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কেবিনেটের অধীনে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যারা সার্বিকভাবে মনিটরিং করবে। বৈঠকে ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এক লাখ ভলান্টিয়ার প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন মাস সময় চাওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী তা কমিয়ে দুই মাসে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে দুর্যোগ বিষয় থাকলেও তার মূল্যায়ন না থাকায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কম থাকে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এর আলোকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আগামী দিনে পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে নিয়মিত ড্রিল (মহড়া) চালু করতে হবে। অনুরূপভাবে শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভূমিকম্পসহ দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার জন্য সরকারি অর্থায়ন দেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ গবেষণা কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এতে সম্পৃক্ত থাকবে।’

বৈঠকে জানানো হয়, রাজধানীতে ভূমিকম্পের সময় আশ্রয়ের জন্য ৪৪৫টি নিরাপদ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫৬টি ও উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫টি। এসব স্থান সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে। এছাড়া দেশে বিভিন্ন সংস্থার কাছে বর্তমানে ৫৫ ধরনের চার হাজার ৮৬৯টি উদ্ধার সরঞ্জাম রয়েছে বলে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। সংস্থাগুলো হলো— শস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশনসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থা। এসব সরঞ্জামের সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে। এছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক বাজেট রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান আমার দেশকে বলেন, ‘ভূমিকম্প মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ডেটাবেস, প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার বাহিনী এবং শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা নিশ্চিত করা, যা প্রধানমন্ত্রী আমাদের তাগিদ দিয়েছেন।’

বৈঠকে উপস্থিত অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিসকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রস্তাব পাঠাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা ফের যাচ্ছে সরকারের হাতে

শান্তিরক্ষায় অবদানের জন্য জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য হতে সম্মাননা পেল বাংলাদেশ

আরো ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত

সরকারি-বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

অবৈধভাবে পাচারকালে ৪৯৫ বস্তা সিমেন্টসহ ট্রলার জব্দ

৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার ডায়মন্ড ও বিদেশি মুদ্রাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

ডেপুটি স্পিকারকে প্রধান করে সংসদের লাইব্রেরি কমিটি গঠন

হামের প্রাদুর্ভাব: ১৮ দিনে হাসপাতালে ৩৭০৯ শিশু, মৃত্যু ১৩

সব অধ্যাদেশ ছাপাতে কত খরচ, সংসদে জানালেন আইনমন্ত্রী

ইলিয়াস আলীর ‘হত্যাকাণ্ড’ আনপানিস্টড যাবে না: স্পিকার