হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ

ড. ইউসুফ জারিফ

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ নানা রাজনৈতিক বাঁকের মধ্য দিয়ে গেছে। তাই এখানে গণতন্ত্র দৃঢ় হতে পারেনি এবং বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দৃঢ় হতে পারেনি। ফলে রাজনীতিতে দায়বদ্ধতা, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, ন্যায়বোধ একদমই তৈরি হয়নি। বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে কয়েকটি এপিসোডে বিভক্ত করা যায়। প্রথম এপিসোড ১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত, যেখানে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তি বন্দনার গুরুত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে এবং শেষ পর্যন্ত দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে খুব স্বল্প সময়ের এপিসোড হচ্ছে ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১। যদিও এ এপিসোডের অধিকাংশ সময় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের আওতায় ছিল, তারপরও নানা কারণে এটি একটি বিশেষ এপিসোড। এ সময় বহুদলীয় ব্যবস্থার নতুন যাত্রা শুরু হয় এবং উন্নয়ননীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন হয়। কিন্তু ১৯৮২ সালের সামরিক শাসনের কারণে এসব পরিবর্তন, বিশেষত গণতন্ত্র ও পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা টেকসই হতে পারেনি। আবার ১৯৯০ সালে জেনারেল এরশাদের পতনের পর প্রত্যক্ষ সামরিক শাসন না থাকলেও দেশে গণতান্ত্রিক শাসন খুব বেশি সংহত হতে পারেনি। ১৯৮২ সালের সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে দেশে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার হয়, যা আজও চলমান। জনগণ দাতা-মক্কেল (প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট) রাজনীতির ঘেড়াটোপে বন্দি হয়, যার কারণে রাজনীতির মৌলিক পরিবর্তনের সুযোগ সংকুচিত হয়। ২০০৭ সালে ১/১১-এর বিশেষ শাসনব্যবস্থায় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা বেশ স্পষ্ট ছিল। পরে ২০০৯-২৪ সালের শাসন প্রক্রিয়ায়, বিশেষত মানবাধিকার লঙ্ঘনে এবং ভোটব্যবস্থা নস্যাতে, সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর একটি অংশের স্পষ্টত যোগসাজশ ছিল, যা ২০২৪ সালে আগস্ট বিপ্লবের পর স্পষ্ট হয়েছে। এ বছর ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতির একটি নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।

অন্যতম একটি প্রধান দল, আওয়ামী লীগের অবর্তমানে (যার জন্য আওয়ামী লীগ নিজে দায়ী) ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল প্রথমবারের মতো বড় রাজনৈতিক সাফল্য লাভ করে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসন পায়। অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনে আরো ৯টি আসন লাভ করে। বাংলাদেশের একডেমিকরা সাধারণভাবে ইসলামপন্থি রাজনীতিকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করে। ফলে ইসলামপন্থি রাজনীতি বিষয়ে খুব কম গবেষণা হয়েছে। কিন্তু দুনিয়ার সব মুসলিমপ্রধান দেশে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল একটি বাস্তবতা। প্রায় সব মুসলিমপ্রধান দেশে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো উপনিবেশবিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়; ফলে এসব দল অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। কিন্তু নির্মম পরিহাস হচ্ছে উপনিবেশোত্তর সময়ে মুসলিম দেশগুলোয় ইসলামিপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়। মুসলিম দেশগুলোর শাসক শ্রেণি অত্যাচার ও নির্মূলের রাজনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক শক্তি এবং তাদের সমর্থনপুষ্ট সিভিল সোসাইটির পূর্ণ সমর্থন লাভ করে। ৯/১১-এর মাধ্যমে পাশ্চাত্য অনেকটা নিশ্চিত করেছে যে মুসলমানদের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার ততটুকু, যতটুকু শাসকশ্রেণি এবং তাদের পাশ্চাত্য প্রভু দিতে আগ্রহী। ফলে প্র্যাকটিসিং মুসলমান মাত্রই জঙ্গি, উগ্র ও সাম্প্রদায়িক। এ সংজ্ঞায়নে কোনো যুক্তি, তথ্য বা প্রমাণের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাংলাদেশে ইসলামপন্থি রাজনীতির সাম্প্রতিক অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে এ রাজনীতির ভবিষ্যৎ কর্মসূচি কী হওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে একাডেমিক আলোচনা-পর্যালোচনা প্রয়োজন।

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থি রাজনীতির কয়েকটি ইতিবাচক বিষয় লক্ষ করা গেছে। একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সংসদ সদস্যের অধিকাংশই অর্গানিক নেতৃত্বের অধিকারী। স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষক, সাধারণ আলেম, স্থানীয় পর্যায়ের উকিল বা ব্যবসায়ী, আবার কিছু পেশাজীবী, যেমন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, উচ্চ আদালতের আইনজীবী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সমাজের এলিটরা ইসলামপন্থি নেতৃত্বকে দখল করতে পারেননি। আমাদের প্রথাগত প্রধান দুটি দলে, বিশেষত ১৯৯০ সালের পর, বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির এলিটরা (যাদের অনেকে ব্যাংক লুটেরা, ঋণখেলাপি ও মাফিয়া) সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। প্রধান রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যদের এলিট প্রবণতার কারণে দেশে এলিট ক্যাপচারের রাজনীতি দৃঢ় হয়, যার ফলে সুশাসন বিদূরিত হয় এবং মাফিয়াতন্ত্র কায়েম হয়। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখলের পেছনে এ মাফিয়া রাজনীতি জঘন্য ভূমিকা পালন করেছে। তাই, এবারের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামি রাজনীতির অর্গানিক নেতৃত্বকে মাফিয়া নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষিত কিন্তু দৃঢ়ভাবে ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী কিছু নারী সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করছেন। এর ফলে নারীরা জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বদানের সুযোগ পাবেন। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী সংসদে প্রত্যক্ষ প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। নির্বাচনি প্রচারনীতি সামিট ইত্যাদিতে ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী অনেক নারী অংশগ্রহণ করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটি আরেকটি ইতিবাচক দিক। অংশগ্রহণ এবং প্রত্যক্ষ ভূমিকার মাধ্যমে ইসলামপন্থি নারী নেতৃত্ব জেন্ডারসহ নারীবিষয়ক বিভিন্ন উন্নয়ন ধারণাকে পাশ্চাত্যের গোলামি (বিউপনিবেশায়ন) থেকে মুক্তি দিতে পারে এবং স্থানীয় ভাষায় ও চাহিদার আলোকে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারে। এটি করতে পারলে একটি বিরাট অগ্রগতি হবে।

মাফিয়া এলিট রাজনীতির বিকল্প হতে হলে ইসলামপন্থি রাজনীতির কর্মসূচিকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে হবে। মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর এলিট ও সেক্যুলারপন্থি রাজনীতি পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট যে, এলিটরা ইসলামপন্থিদের বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদে ব্যস্ত রাখতে চায়, যাতে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল সমাজে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে এবং ইতিবাচক কাজের চেয়ে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় বেশি ব্যস্ত থাকে। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শাসক দলের ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত রাখার কৌশলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। পাকিস্তান উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এ তত্ত্বে কোনো অস্পষ্টতা বা কুণ্ঠা নেই যে উপমহাদেশের প্রান্তিক মুসলমানদের মুক্তির রাজনৈতিক প্রকল্পের নাম পাকিস্তান। কিন্তু ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পরে পাকিস্তান শাসকশ্রেণির দুঃশাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে ইসলামপন্থি রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি এখন ক্রমেই তরুণ সমাজের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতীয় রাজনীতি এবং ২০০৯-২৪ সালের কর্তৃত্ববাদী শাসক গোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখতে সেক্যুলার ও ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের রাজনীতি বিষয়ে যারা ওয়াকিবহাল, তারা স্পষ্ট বুঝতে পারে যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ইসলামি মূল্যবোধ এবং পরিচয়কে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে যে, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ঘটনার নিরপেক্ষ ও ন্যায়বিচার চান। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের বয়ানের রাজনৈতিক-অর্থনীতি আছে, তাই এ বিচার আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হতে হবে। যতদূর সম্ভব মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক বিতর্ক এড়িয়ে নিজস্ব ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে। আগামীর রাজনীতি নির্ভর করছে এ ইতিবাচক চিন্তার ওপর।

ইসলামপন্থি রাজনীতির মূল সূত্র হচ্ছে ইসলাম। আর শাসনব্যবস্থায় ইসলামের মূল দাবি হচ্ছে ন্যায়বিচার (আদল), সুশাসন, ইনসাফ এবং ইহসান। ফলে ইসলামের তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে প্রায়োগিকভাবে উপস্থাপনই হবে ইসলামি ইতিবাচক রাজনীতির প্রধান শর্ত। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা, জীবিকা ইত্যাদি নিশ্চিত করাকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে প্রকারান্তরে তা ইসলামবহির্ভূত কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ মানুষের হক আদায়ে ব্যর্থ হওয়া মানে আল্লাহর কাছে জবাবদিহির জন্য মুখোমুখি হওয়া। ইসলামি বিধানের ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় সংসদে ইসলামি আইনের বিমূর্ত দাবি (abstract demand) কোনো সমাধান দেবে না, বরং ভুল বার্তা দেবে। তাই বিমূর্ত আলোচনাকে প্রায়োগিক বাস্তবতায় আনতে হবে। ঢাকাসহ বড় বড় শহরে অনেক মেয়েশিশুসহ বিভিন্ন বয়সের নারী প্রতিদিন রাস্তা-ঘাটে শুয়ে থাকে; নিজের মান-মর্যাদা, ন্যূনতম জীবিকা—মানবাধিকারের সুরক্ষা পায় না। এসব বিষয়ে বাস্তব দাবি তোলার নাম হচ্ছে ইসলামি আইনের বাস্তব প্রয়োগ। অসংখ্য মানুষ অভুক্ত থাকে; অনেকে ন্যূনতম চিকিৎসা পায় না। এদের জীবনের দিকে তাকানো যায় না। এই নির্মমতাকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে ইতিবাচক রাজনীতি এবং ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা। আমাদের সব প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকীকরণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে হবে। শাসকশ্রেণির জবাবদিহি ছাড়া এ ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়া কঠিন। তাই জাতীয় সংসদে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে শাসকশ্রেণিকে প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে বাধ্য করতে হবে। রাষ্ট্রের সংকট ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে নিয়মিত বসতে হবে, যাতে জনমত তৈরি হয়। স্থানীয় পর্যায়েও এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা জারি রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে, রাজনীতির মাফিয়া চক্র থেকে মুক্ত করতে হবে। শত উসকানি সত্ত্বেও ছাত্র রাজনীতিকে সংঘাতের পথে নেওয়া যাবে না। ছাত্ররা মাফিয়া রাজনীতির বড় জুলুমের শিকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে বিদগ্ধ জ্ঞানী-বুদ্ধিজীবী ও আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী তৈরি করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস, অডিটর জেনারেলের অফিস, আমলাতন্ত্র, পুলিশ, বিভিন্ন বাহিনী, বিচার বিভাগ ইত্যাদিকে রাজনীতিমুক্ত করা না হলে দেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য নৈর্ব্যক্তিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মনে রাখা দরকার যে একটি মুসলিমপ্রধান দেশকে শৃঙ্খলা, নিয়ম এবং ন্যায্যতার মধ্যে নিয়ে আসা অন্যতম বড় ইবাদত এবং ইসলামি রাজনীতির প্রধান কর্তব্য।

সংঘাত-কুতর্ক-স্টেট ক্যাপচার-ব্যাংক লুট-প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ইত্যাদি সেক্যুলার ও মাফিয়া এলিট চক্রের রাজনীতি হলেও তা কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নয়। ইসলামপন্থি রাজনীতিকে মূল্যবোধভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবতাবাদভিত্তিক হতে হবে। ইসলামের মৌলিক আদর্শ বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হবে। তাই আগামীর রাজনীতি হতে হবে জনগণের মর্যাদা-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান। এসব কর্মসূচি সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া ও জনমত তৈরি করাকে প্রাধান্য দিতে হবে। ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলকে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেটি হলো একটি দেশপ্রেমিক ও সৎ এন্ট্রাপ্রেনিয়ার ক্লাস তৈরি করা। তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে এ শ্রেণিটি ইসলামি মূল্যবোধের রাজনীতির প্রধান কান্ডারি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

লেখক : গভর্ন্যান্স ও পাবলিক পলিসি এক্সপার্ট, ইউরোপের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং একাধিক গবেষণা গ্রন্থের লেখক

ইরানে এক অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের গল্প

যেমন ছাত্ররাজনীতি চাই

ভয়ংকর ভালোবাসা এবং একটি ঘৃণার গল্প

সৌদি-আমিরাত বিরোধের নেপথ্য কথা

হাম দিয়ে জুলাইকে খাটো করা যাবে না

নতুন সমীকরণে ভারত-বাংলাদেশ

উগ্র হিন্দুত্ববাদ মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ

সমীকরণ বদলে দিয়েছে ইরান

জাকাত বনাম চাঁদাবাজি ‘বেটার’ রাজনীতির নতুন নৈতিকতা?

ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে