হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

উগ্র হিন্দুত্ববাদ মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ

মন্তব্য প্রতিবেদন

মাহমুদুর রহমান

বাংলাদেশের সেক্যুলার মধ্যবিত্তের এক বিপুল অংশের ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, পশ্চিম বাংলার হিন্দুরা নাকি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত এক অতি উদার জনগোষ্ঠী। আশা করি, ভারতের ওই রাজ্যটির সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে অন্ধ কলকাতাপ্রেমী, মুসলমান নামধারী বাংলাদেশি সেক্যুলারদের সেই ভ্রান্তিবিলাসের অবসান ঘটেছে।

এই ইতিহাসবিমুখ গোষ্ঠীটি এতটাই মূর্খ যে, তারা হয় জানে না, নয়তো ভুলে গেছে যে, ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাগ হওয়ার পেছনে সাম্প্রদায়িক, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি হিন্দুদেরই প্রধান ভূমিকা ছিল। যে সাম্প্রদায়িক বাঙালি হিন্দুরা ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করার জন্য ব্রিটিশ ও মুসলমানবিরোধী সন্ত্রাসী আন্দোলন শুরু করেছিল, তারাই আবার ১৯৪৭ সালে সোহরাওয়ার্দী এবং শরৎ বসুর অবিভক্ত বাংলার প্রস্তাবের বিরোধিতায় একজোট হয়েছিল।

যে মোহাম্মদ আলি জিন্নাহকে বাংলাদেশের তথাকথিত প্রগতিশীলরা সচরাচর ভিলেন হিসেবে দেখে থাকে, তিনি ভারতের পূর্ব অংশে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্বাধীন যুক্ত বাংলার ধারণাকে ইতিবাচক মনেই গ্রহণ করেছিলেন। বাংলা পাকিস্তানের অংশ হতেই হবে এমন জেদ ধরার পরিবর্তে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ আরো একটি রাষ্ট্র গঠনে জিন্নাহর বরং সম্মতিই ছিল। কিন্তু হিন্দু বাবুরা কিছুতেই সেই বৃহৎ বাংলায় গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি মুসলমানের শাসন মেনে নিতে পারেনি।

বিজেপির আদি দল হিন্দু মহাসভার প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে কংগ্রেসের পণ্ডিত নেহরু এবং সর্দার প্যাটেল এক জোট হয়ে সেদিন সোহরাওয়ার্দী এবং শরৎ বসুর উদ্যোগকে ভেস্তে দিয়েছিলেন। বাঙালি হিন্দুর প্রতিবেশী মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষের দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। এরা সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও সর্বদা সংখ্যাগুরু মুসলমানদের শাসন করতে চেয়েছে। এদের দৃষ্টিতে বাঙালি মুসলমানরা চিরদিন অচ্ছুত ছোটজাত থেকে গেছে।

পশ্চিম বাংলায় বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের ফলে দিল্লির কেন্দ্রীয় মসনদ ছাড়াও ভারতের ২৮ রাজ্যের মধ্যে ২১টি এ পর্যন্ত কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলটির কবজায় এসেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাঁচ রাজ্য, পশ্চিম বাংলা, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং মিজোরামের সীমান্ত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বর্তমানে পশ্চিম বাংলা, আসাম এবং ত্রিপুরায় কট্টর হিন্দুত্ববাদের জয়জয়কার। মেঘালয়ে একটি স্থানীয় দল ক্ষমতায় থাকলেও তাদের সঙ্গেও বিজেপির ভালোই মিত্রতা রয়েছে।

একমাত্র মিজোরামের সরকার মিজো জনগোষ্ঠী সৃষ্ট স্থানীয় রাজনৈতিক দল, জোরাম পিপল’স মুভমেন্ট দ্বারা গঠিত। এই দলটি বিজেপি এবং কংগ্রেস, উভয় সর্বভারতীয় দলের সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রাখে। দলটি রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলমান ইস্যু নিয়ে মাথা ঘামায় না। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠকদের জানা প্রয়োজন। পশ্চিম বাংলা, আসাম এবং ত্রিপুরার নির্বাচনে বিজেপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে প্রচণ্ড বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা মূল ভূমিকা রেখেছে। পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশকে ফিলিস্তিনের গাজা বানানোর আগাম হুমকি দিয়ে রেখেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, কলকাতার প্রতিদিনের ময়লা বিমানে করে ঢাকার ওপরে ফেলে দিলে আমরা সব নাকি তার নিচে চাপা পড়ে যাব। পশ্চিম বাংলার আরেক প্রভাবশালী বিজেপি নেতা অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, এবারের নির্বাচনে তার দল জয়লাভ করায় হিন্দু পশ্চিম বাংলাকে মুসলমান বাংলাদেশে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচানো গেছে।

অন্যদিকে, আসামের চরম মুসলমানবিদ্বেষী মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশের সঙ্গে এমন শত্রুতামূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রাখতে চান, যাতে করে, আসামের বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশি ট্যাগ দিয়ে রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করতে পারেন। তার ধারণা, দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের উন্নতি ঘটলে মুসলমানদের আর বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া যাবে না। আসামে নির্বাচনি প্রচারণায় হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এক টিকটক রিল বানিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন, যেখানে দেখা গেছে, তিনি মাথায় হ্যাট লাগিয়ে হলিউডের ‘ওয়েস্টার্ন সিনেমা’র নায়কের সাজে গুলি করে সব বাঙালি মুসলমানদের হত্যা করছেন।

আসামের কট্টর সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা বিপুল ভোটে এই বর্বর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিককে নির্বাচনে জিতিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছে। বাংলাদেশসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ভারত কদিন আগে যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, সেই ঘটনা আসাম এবং পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উপরোক্ত উসকানিমূলক বক্তব্যের আলোকেই আমাদের বিবেচনা করা উচিত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শুভেন্দু অধিকারী এবং হেমন্ত বিশ্ব শর্মার অমার্জিত এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি।

আমাদের সরকারের ভারতনীতি নিয়ে জনমনে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সংশয় তো আছেই। তার ওপর, প্রধান বিরোধী দল, জামায়াতে ইসলামীর নীরবতাও রহস্যজনক। ভারত প্রশ্নে একমাত্র জুলাইযোদ্ধাদের দল, এনসিপির তরুণ নেতাদের খানিকটা সোচ্চার দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু তারাও পশ্চিম বাংলা এবং আসামের দুই মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র বাংলাদেশ ও মুসলমানবিদ্বেষ নিয়ে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেনি। পশ্চিম বাংলার নির্বাচনের ফলের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি এবার দৃষ্টিপাত করা যাক।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, পশ্চিম বাংলায় কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল, বিজেপি জয়লাভ করলেও আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। উপরন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় ভিসাপ্রাপ্তি সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুশ ইন প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারত থেকে বাংলা ভাষাভাষীদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা হলে তার মোকাবিলায় সরকার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কী সেই ব্যবস্থা, সেটা অবশ্য মন্ত্রী খোলাসা করেননি। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও পুশ ইন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরূপ মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশকে উদ্দেশ্য করে পশ্চিম বাংলা এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত আপত্তিকর এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের বিরুদ্ধে আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিবাদ করেননি।

তারা একাধিকবার ভারতের ভিসা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় উৎসাহ দেখিয়েছেন। আমি তো মনে করি, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করায় আমরা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক উভয় বিবেচনায় উপকৃত হয়েছি। ভিসার বিষয়ে উৎসাহ না দেখিয়ে আমাদের মন্ত্রীদের বরং সীমান্ত হত্যা এবং পুশ ইন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে অধিকতর সোচ্চার হওয়া উচিত। এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের দিনেও সীমান্তে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছিল। নিয়ম করে প্রতি মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং পুশ ইন অব্যাহত রয়েছে। মাত্র তিন দিন আগেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বাংলাদেশের দুই তরুণ বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছে।

সুতরাং, আমাদের মন্ত্রীরা যাই বলুক না কেন, বাস্তবতা হলো, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিপদের আশঙ্কা সর্বদা ভারতের পক্ষ থেকেই। আমাদের দীর্ঘতম সীমান্ত ওই দেশটির সঙ্গেই। সামরিক শক্তির বিচারেও পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ ভারত বাংলাদেশের তুলনায় অনেক পরাক্রমশালী। তদুপরি ২০০৯ সাল থেকে ঢাকায় এক পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে এক অঘোষিত উপনিবেশে পরিণত করে ফেলেছিল। ২০২৪ সালের মহান জুলাই বিপ্লবে আমাদের তরুণরা ভারতের সেই পুতুল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সক্ষম হয়েছিল।

ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধান দিল্লিতে পালিয়ে তার প্রভুর কাছে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশের শাসনক্ষমতার সেই পরিবর্তনকে ভারতের শাসকশ্রেণি আজ পর্যন্ত মেনে নিতে পারেনি। শেখ হাসিনা ভারতের ডিপ স্টেটের সহায়তায় নানা উপায়ে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেননি। আমাদের গণতন্ত্রে উত্তরণকেও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সাধ্যমতো বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে অসহযোগিতার নীতি থেকে যে সরে আসেনি, সেটি পশ্চিম বাংলা এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে।

ঢাকায় নির্বাচিত সরকারকে ভারত অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় কিছুটা গ্রহণযোগ্য হিসেবে আপাতত মেনে নিলেও, বশংবদ আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের আশা দিল্লি পরিত্যাগ করবেÑএমন প্রত্যাশা করলে ক্ষমতাসীনদের বিপদে পড়তে হতে পারে। শেখ হাসিনা কিছুদিন নীরব থাকার পর কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন। বিজেপির বিজয়ে উৎসাহিত হয়ে তিনি ড. ইউনূসের সঙ্গে এখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আক্রমণ করছেন। ভারতের ডিপ স্টেটের ইশারা না থাকলে হাসিনা হঠাৎ করে এমন যুদ্ধংদেহী হয়ে উঠতে পারতেন না। প্রকৃতপক্ষে শুভেন্দু অধিকারী এবং হেমন্ত বিশ্ব শর্মাকে দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সম্পর্কে তার সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানই ব্যক্ত করছেন।

উপরোক্ত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকল্পে দেশের জনগণ এবং দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি। সরকারি দল-সমেত জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও, আমাদের সীমানা পরিবেষ্টনকারী কট্টর হিন্দুত্ববাদী শক্তির আগ্রাসন মোকাবিলার প্রশ্নে তাদের কাছ থেকে অভিন্ন নীতি আমরা প্রত্যাশা করি। সামরিক দিক দিয়ে আমাদের সীমাবদ্ধতা আমলে নিয়েও দেশের ১৮ কোটি জনসংখ্যা এক বিরাট শক্তি। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষুদ্রস্বার্থে বিভক্ত না হলে সেই বিপুল ঐক্যবদ্ধ জনগোষ্ঠীকে বাইরের এবং ভেতরের হিন্দুত্ববাদীরা কোনো অবস্থাতেই শৃঙ্খলিত করতে সক্ষম হবে না।

পাশের দেশ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর আত্মসম্মানবোধ এবং সাহসিকতা আমাদের রাজনীতিবিদদের জন্য প্রশংসনীয় উদাহরণ হতে পারে। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব নেপাল সফর করতে চাইলে হিমালয়সংলগ্ন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সোজা বলে দিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেই কাঠমান্ডু সফরে যেতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বালেন্দ্র শাহ সাক্ষাৎ করতে অসম্মতি জ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ও প্রবল আধিপত্যবাদী দেশের পররাষ্ট্র সচিব নেপাল সফর স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন। দুর্ভাগ্যবশত, নেপালের মতো আত্মমর্যাদাবোধের প্রমাণ আমাদের নির্বাচিত সরকার দিতে পারছে না। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ভারত সফর করে এসেছেন। সফরকালে তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির প্রেসিডেন্টকে লেখা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দুটি চিঠি বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ না পেয়ে তাদের প্রতিনিধিদের কাছে চিঠি দিয়ে এসেছেন।

এখানেই নেপাল সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের আত্মমর্যাদাবোধের পার্থক্য। নেপালি জনগণের দেশপ্রেমের আরো একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। নেপালের একজন নাগরিককে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী হত্যা করলে পুরো নেপাল ভারতবিরোধী প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। অথচ ভারতীয় ভিসা না পেলে আমরা কতই না অস্থির হয়ে যাই। একটা সরকারের নানা ধরনের কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু দেশের জনগণ তো স্বাধীন।

শুভেন্দু অধিকারী এবং হেমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো কট্টর সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদীদের চোখ রাঙানির উপযুক্ত জবাব দিতে হলে বাংলাদেশের জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে হবে, ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই এবং ভারতের চাল, পেঁয়াজ, গরু ইত্যাদি আমদানি ছাড়াই বাংলাদেশের জনগণ তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করবে। তাছাড়া, সরকারের কাছে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের দাবিও তুলতে হবে। জনগণ এই উদ্যোগ গ্রহণ করলে অতিদ্রুত শুভেন্দু ও হেমন্ত বাবুদের গলাবাজির অবসান ঘটবে। হিন্দুত্ববাদী ভারতের সঙ্গে ক্ষমতার মোহে সরকার আপস করতে পারে, কিন্তু জুলাই বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত বাংলাদেশের লড়াকু জনতা সব আগ্রাসন মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।

এমবি

সৌদি-আমিরাত বিরোধের নেপথ্য কথা

হাম দিয়ে জুলাইকে খাটো করা যাবে না

নতুন সমীকরণে ভারত-বাংলাদেশ

সমীকরণ বদলে দিয়েছে ইরান

জাকাত বনাম চাঁদাবাজি ‘বেটার’ রাজনীতির নতুন নৈতিকতা?

ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে

চার দিনের যুদ্ধে বদলে যাওয়া উপমহাদেশ

ইসরাইলকে চ্যালেঞ্জ জানাবে সৌদি-তুরস্ক জোট

বাংলাদেশে ইসলামি আন্তঃব্যাংক বাজার চাই

সীমান্তে আরএসএস জঙ্গিদের উত্থান