হোম > অন্যান্য

‘মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে’

বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান

স্টাফ রিপোর্টার

মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান পরিচালনা কিংবা বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা ও নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে৷ পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করতে অপরাধীদের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (চার্জ) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান৷

মঙ্গলবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে রেলওয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, মাদক কারবারিরা পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যমকে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজে ব্যবহার করে। রেলপথও তাদের কাছে মাদক পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠতে পারে। বিশাল রেল নেটওয়ার্ক, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল এবং বিভিন্ন স্টেশনে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে এই বিষয়টি মোকাবিলা করে যাচ্ছি৷

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু বাহককে গ্রেপ্তার করলে হবে না। কারা মাদকের চালান সংগ্রহ করছে, কারা অর্থায়ন করছে এবং কারা এর পেছনে থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। মাদক চোরাকারবারিদের জন্য একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ তৈরি করতে হবে৷ যেখানে আইন প্রয়োগকারী সব সংস্থা একজন মাদক ব্যবসায়ীকে মুহূর্তেই চিহ্নিত করতে পারে৷ এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির জায়গাও। মাদক প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে শুধু শাস্তির আওতায় আনার চিন্তা না করে কেন সে মাদকের দিকে ঝুঁকছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশে মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক পুনর্বাসনের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। তাই মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার নিরসনে সবাইকে আলাদা আলাদা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে৷ নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে৷ কিন্তু এই উদ্যোগ এখনো যথার্থ নয়৷

তিনি বলেন, একটি মানুষ হতাশা থেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন৷ সত্যিকারের মূল্যবোধের অভাবেই মানুষ মাদকের দিকে পা বাড়ায়৷ মানুষের হতাশা কাটাতে হলে মূল্যবোধে ফিরতে হবে৷ পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়৷ পরকালীন জীবনের মহাসত্যের দিকে আমাদের যেতে হবে; মানুষকে আগে মানুষ হতে হবে; তবেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে৷

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। মাদক কারবারের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। শুধু দৃশ্যমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মাদকের বিস্তার বন্ধ করা যাবে না। মাদক সরবরাহের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধু অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। অভিযানের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অনেক সময় তথ্য দিতে ভয় পান। কারণ, অভিযোগ করার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যদাতাদের আস্থায় নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসন ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি নাগরিক সেবার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে৷

রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. এস এম কবির জুয়েল বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে শুধু ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে কাউন্সেলিং, পারিবারিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মনোসামাজিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মাদকাসক্তির চিকিৎসায় রোগীর পাশাপাশি পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য নিয়মিত ফলোআপ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলরের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

নেপচুনের বাইরে নতুন এক রহস্যময় জগতের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

সাংবাদিক রিয়াজ চৌধুরীর সুস্থতা কামনা ইরাবের

আজ বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গাপূজা

বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস আজ

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমীর খসরুর ইন্তেকাল

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন, সম্পাদক ফজলুর

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন ১৮ সেপ্টেম্বর

ভিকারুননিসার শিক্ষক আনোয়ারের দুই কিডনিই অকার্যকর

বার্লিনে বাংলাদেশের চিকিৎসকের সাফল্য

মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের কমিটি গঠন