কয়েক বছর আগে এক ওয়াজ মাহফিলে শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়, আমাদের দেশের কিছু আলেম হিল্লা বিয়েকে জায়েজ বানানোর পাঁয়তারা করছে, হিল্লা বিয়ের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?
এই প্রশ্নের উত্তরে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন:
আমাদের সমাজে হিল্লা বিয়ের নামে যে চুক্তির বিয়ে বা 'কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ' প্রচলিত আছে, তা আল্লাহর জমিনের নিকৃষ্টতম ও নোংরা কাজগুলোর একটি। হাদিসে পরিষ্কারভাবে এসেছে, যে ব্যক্তি হিল্লা বিয়ে করে এবং যার জন্য হিল্লা বিয়ে করানো হয়, তাদের উভয়ের প্রতিই আল্লাহর গজব ও লানত বর্ষিত হয়।
আমাদের দেশে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তিন তালাক হয়ে গেলে কিছু মুরুব্বী, মাতবর কিংবা নামধারী হুজুররা মিলে একজন লোক ঠিক করে। তার সাথে ওই নারীর একটি নামমাত্র বা চুক্তির বিয়ে পড়ানো হয়। আল্লাহর পবিত্র বিধানকে অপব্যবহার ও ফাঁকি দেওয়ার জন্যই মূলত এই শর্টকাট রাস্তা খোঁজা হয়। লোক ভাড়া করে এনে তারা চুক্তির বিয়ে দেয় এবং বলে, ‘ঠিক আছে, আজকে তুমি বিয়ে করো আর কালকে বা দুইদিন পর তালাক দিয়ে দিও, যাতে পূর্বের স্বামী আবার তাকে বিয়ে করতে পারে।’ ইসলাম এ ধরনের পাতানো ও সাজানো খেলাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে তিনবার তালাক দেয়, তাদের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়তের বিধান হলো, তিন তালাকের পর স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়, তাদের বিয়ে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নতুনভাবেও তাদের মধ্যে আর বিয়ে শুদ্ধ হয় না। ওই নারী চাইলে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারে। ওই নারী যদি নিজের ইচ্ছায় অন্য কাউকে বিয়ে করে, স্বাভাবিক নিয়মে বিয়ে হয়, এরপর সেই নতুন স্বামী যদি কখনো সংসার করতে না পেরে স্বেচ্ছায় তাকে তালাক দেয় কিংবা মারা যায়, তবেই কেবল ইদ্দত পালন শেষে পূর্বের স্বামী চাইলে তাকে নতুন করে মোহর দিয়ে বিয়ে করে ফেরত আনতে পারবে। এটিই আল্লাহর বিধান।
তাহলে কোনো দম্পতির তিন তালাক হয়ে গেলে করণীয় কী? করণীয় হলো—তালাক যদি তিনটাই হয়ে গিয়ে থাকে, তবে সেই পুরুষ অন্য কোথাও ভালো দেখে বিয়ে করবে এবং ওই নারীকেও অন্য কোনো ভালো পুরুষের সাথে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে বাকি জীবন সংসার করতে পারে। যদি কখনো ওই নারীর নতুন স্বামী মারা যায় বা তালাক দেয়, তবেই কেবল পূর্বের স্বামীর সাথে পুনরায় বিয়ের বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা যেমন মাশাআল্লাহ মিটারের একেবারে ওপরে থাকে, তেমনি শত্রুতা বা বিরোধিতাও মিটারের সবসময় ওপরে থাকে। যখন মহব্বত হয় তখন আমরা গদগদ করি, আবার যখন রাগ ওঠে তখন রাগের মাথায় এক তালাক না দিয়ে একসাথে তিন হাজার তালাক দিয়ে বসি। স্বামী-স্ত্রী তাদের দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হলে যদি বিচ্ছেদ চাইতেই হয়, তবে শরিয়তের নিয়ম হলো প্রথমে একটি তালাক দেবে।
এরপর ভবিষ্যতে আবার সমস্যা হলে দ্বিতীয় তালাক দেবে। শেষ তালাক বা তিন নম্বর তালাক দেওয়ার আগে মানুষকে দশবার চিন্তা করতে হবে যে—এই তালাকটি দিলে আমি আর কোনোদিন এই স্ত্রীর সাথে ঘর করতে পারব না। এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই কেবল শেষ তালাকের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সূত্র: ইউটিউব